নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ


প্রথম শাদী মুবারক

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক স্বীয় গোত্রর হয় মুসাফি’ ইবনে ছাফ্ওয়ান মুছত্বলিক্বী খুযা‘য়ীর সাথে। সে একজন অনেক বড় যোদ্ধা এবং প্রসিদ্ধ কবি ছিলো। সে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের জিহাদে কাফির অবস্থায় নিহত হয়। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وكانت قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم عند مسافع بن صفوان
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি মুসাফি’ ইবনে ছাফওয়ানের নিকট ছিলেন।” (আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ্ ৩/৪৫০)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
وَكَانَ زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ ابْنُ عَمِّهَا مُسَافِعُ بنُ صَفْوَانَ بنِ أَبِي الشُّفَرِ.
অর্থ: “সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার চাচাতো ভাই মুসাফি’ ইবনে ছাফওয়ান আবিশ শুফার।” (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ ২/২৫২)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
تزوجها قبله مسافع بن صفوان وقتل يوم المريسيع
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক হয় মুসাফি’ ইবনে ছাফ্ওয়ানের সাথে। সে মুরাইসী’র জিহাদের দিন নিহত হয়।” (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ ২/২৫২)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, সে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের জিহাদে পাঠ করেছিলো-
أنا ابن ذي شقر وجدي مبذول
رمح طويل وحسام مصقول
وقد علمت اليوم أني مقتول
অর্থ: “আমি ইবনে যূ শাক্বার, যা আমার দাদা প্রদত্ত। আমার বর্শা সুদীর্ঘ এবং তরবারী অত্যন্ত উজ্জ্বল। আর আমি একথা নিশ্চিতভাবে জানি যে, আজ আমি আবশ্যই নিহত হবো।”
উল্লেখ্য যে, মুসাফি’ ইবনে ছাফ্ওয়ান অবশ্যই বনূ মুছত্বলিক্ব গোত্রের লোক ছিলো, তবে সে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার আপন চাচাতো ভাই ছিলো না। বরং দূর সম্পর্কীয় চাচাতো ভাই ছিলো।

বনূ মুছ্ত্বলিক্বের জিহাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ থেকে ৯ মান্যিল দূরে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের অধীনে ‘আল মুরাইসী’ নামে একটি কূপ ছিলো। বনূ মুছ্ত্বলিক্বের জিহাদে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে এই কূপের নিকট সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন বিধায় এই জিহাদকে ‘মুরাইসী’র জিহাদও’ বলা হয়।
বনূ মুছ্ত্বলিক্ব¡ ছিলো কুরাইশদের অন্যতম মিত্রশক্তি। তারা উহুদের জিহাদে কুরাইশদের সহযোগীতা করেছিলো এবং তাদের সাথে সরাসরি জিহাদে অংশগ্রহণও করেছিলো। ৫ম হিজরী শরীফ উনার শেষের দিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সংবাদ আসে যে, বনূ মুছ্ত্বলিক্বের প্রধান হযরত হারিছ ইবনে আবূ দ্বিরার আলাইহিস সালাম (তখনও ঈমান আনেননি) তিনি কুরাইশ ও মুনাফিক্বদের ওয়াস্ওয়াসায় পড়ে নিজের ও আরবের অন্যান্য গোত্রের লোকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীফ আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সংবাদ পেয়ে প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য হযরত বুরাইদাহ্ ইবনে হুছাইব আসলামী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে পাঠেন। তিনি সেখানে পৌঁছে সরাসরি হযরত হারিছ ইবনে আবূ দ্বিরার আলাইহিস সালাম উনার সাথে কথা বলে বুঝতে পারলেন, ঘটনা সত্য। তিনি সাথে সাথে ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ প্রকৃত অবস্থা জানান। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে খুব দ্রুত জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সকলেই খুব দ্রুত প্রস্তুত হয়ে যান। তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মধ্য থেকে একজনকে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সম্মানিত জিহাদ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সুবহানাল্লাহ! সময়টি ছিলো ৫ম হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার মাঝামাঝি সময়। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:

ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘দালাইলুন নুবুওওয়াহ শরীফ’-এ এবং হযরত ইমাম জালালুদ্দী সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘খছায়িছুল কুবরা শরীফ’-এ এছাড়াও আরো অন্যান্য ইমাম মুজতাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাদের স্বীয় কিতাবে বর্ণনা করেন,
قَالَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَلثَّامِنَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ جُوَيْرِيَةُ بِنْتُ الْـحَارِثِ عَلَيْهَا السَّلَامُ) رَاَيْتُ قَبْلَ قُدُوْمِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثِ لَيَالٍ كَاَنَّ الْقَمَرَ يَسِيْرُ مِنْ يَّثْرِبَ حَتّٰى وَقَعَ فِـىْ حِجْرِىْ فَكَرِهْتُ اَنْ اُخْبِرَ بِـهَا اَحَدًا مِّنَ النَّاسِ حَتّٰى قَدِمَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বনূ মুস্ত¡লিক্বের জিহাদ-এ) সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার পূর্বে আমি (পরপর) তিন রাত একখানা সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখি, যেন সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দিক থেকে চাঁদখানা ছুটে এসে আমার সম্মানিত কোল মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলাটা আমি পছন্দ করিনি। অবশেষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখলেন।” সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৪/৫০, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/২৮, খছায়িছুল কুবরা শরীফ ১/৩৯১, ইমতা‘উল আসমা’ ৬/৮৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৪/৩৭৪ এবং ১১/২১১, তাফসীরে মাযহারী ৯/৩০৬, শরহুয যারক্বানী ৩/৭, তারীখে ত্ববারী ১১/৬১০, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/১৮২ ইত্যাদী)

বনূ মুস্ত¡লিক্বের সম্মানিত জিহাদ মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ও পবিত্র ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৫ম হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার মাঝামাঝি সময়ে সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হতে রওয়ানা করে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের ‘আল মুরাইসী’ নামক কূপের নিকট তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম উনার নেতৃত্বে গঠিত কাফিরদের সম্মিলিত বাহিনীর নিকট সব খবর পৌঁছলে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অন্যান্য আরব গোত্র জিহাদের ইচ্ছা ত্যাগ করে যার যার মত বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে শুধু উনার গোত্রের লোকেরাই অবশিষ্ট থাকে। তারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ তীর-বর্শা ছুড়ে ছুড়ে মুসলমান উনাদেরকে প্রতিরোধ করার চেষ্ট করে। অবশেষে সম্মানিত মুসলিম বাহিনী হঠাৎ এক সাথে আক্রমণ করে শক্র বাহিনীকে পরাজিত করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি সেখান থেকে সরে দূরে চলে যান।
এই জিহাদে মুসাফি’ ইবনে ছাফ্ওয়ানসহ ১১ জন কাফির মারা যায় এবং অন্যরা সকলে বন্দী হয়। কাফিরদের হাতে সম্মানিত মুসলমান উনাদের মধ্য হতে কেউ সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেননি। তবে অজান্তে হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার হাতে হযরত হিশাম ইবনে সাবাবা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু নামে একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। শত্রু পক্ষের পুরুষ-মহিলা-শিশু মিলে প্রায় ৬০০ জন বন্দী হয় এবং তাদের দুই হাজার উট, পাঁচ হাজার ছাগল-ভেড়া গনীমত হিসেবে সম্মানিত মুসলমান উনারা লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ :

যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনিও ছিলেন। তিনি হযরত ছাবিত ইবনে ক্বইস্ ইবনে শাম্মাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার মতান্তরে উনার চাচাতো ভাই উনার ভাগে পড়েন। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার দেখা সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার বাস্তব রূপ লাভের প্রত্যাশা করতে থাকেন। যেটা কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
قَالَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَلثَّامِنَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ جُوَيْرِيَةُ بِنْتُ الْـحَارِثِ عَلَيْهَا السَّلَامُ) رَاَيْتُ قَبْلَ قُدُوْمِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثِ لَيَالٍ كَاَنَّ الْقَمَرَ يَسِيْرُ مِنْ يَّثْرِبَ حَتّٰى وَقَعَ فِـىْ حِجْرِىْ فَكَرِهْتُ اَنْ اُخْبِرَ بِـهَا اَحَدًا مِّنَ النَّاسِ حَتّٰى قَدِمَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا سُبِيْنَا رَجَوْتُ الرُّؤْيَا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বনূ মুস্ত¡লিক্বের জিহাদ-এ) সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার পূর্বে আমি (পরপর) তিন রাত একখানা সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখি, যেন সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দিক থেকে চাঁদখানা ছুটে এসে আমার সম্মানিত কোল মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলাটা আমি পছন্দ করিনি। অবশেষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখলেন। সুবহানাল্লাহ! যখন আমরা বন্দী হলাম, তখন আমি আমার দেখা সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার বাস্তব রূপ লাভের প্রত্যাশা করলাম।” সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৪/৫০, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/২৮, খছায়িছুল কুবরা শরীফ ১/৩৯১, ইমতা‘উল আসমা’ ৬/৮৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৪/৩৭৪ এবং ১১/২১১, তাফসীরে মাযহারী ৯/৩০৬, শরহুয যারক্বানী ৩/৭, তারীখে ত্ববারী ১১/৬১০, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/১৮২ ইত্যাদী)
সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার বাস্তবতা প্রত্যাশা করার কারণেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হযরত ছাবিত ইবনে ক্বইস্ ইবনে শাম্মাস আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে মুকাতাবার বিষয়টি ফায়ছালা করলেন। মুকাতাবা বা চুক্তি হলো- উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হযরত ছাবিত ইবনে ক্বইস্ ইবনে শাম্মাস আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে ৯ আউক্বিয়াহ্ স্বর্ণ দিবেন, তাহলে তিনি উনার অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সরাসরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে বললেন,
يَا رَسُولَ اللهِ، إنّي امْرَأَةٌ مُسْلِمَةٌ أَشْهَدُ أن لا إله إلا الله وأنك رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم، وأنا جويرية بنت الحارث ابن أَبِي ضِرَارٍ سَيّدِ قَوْمِهِ، وَقَدْ أَصَابَنِي مِنْ الْبَلَاءِ، مَا لَمْ يَخْفَ عَلَيْك، فَوَقَعْت فِي السّهْمِ لِثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ الشّمّاسِ، فَكَاتَبْتُهُ عَلَى نَفْسِي فَجِئْتُك أَسْتَعِينُك عَلَى كِتَابَتِي، قَالَ: فَهَلْ لَك فِي خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ؟ قَالَتْ: وَمَا هُوَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم؟ قَالَ: أَقْضِي عَنْك كِتَابَتك وَأَتَزَوّجُك؛ قَالَتْ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم: فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّه صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَلَغَ النَّاسَ أَنَّهُ قَدْ تَزَوَّجَهَا.
অর্থ: “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি একজন মুসলমান মহিলা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! আমি হচ্ছি সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে আবূ দ্বিরার আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত জুওয়াইরিয়াহ্ আলাইহাস সালাম। আমার উপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে, তা আপনার কাছে গোপন নেই। অর্থাৎ সবকিছুই আপনার জানা রয়েছে। আমি হযরত ছাবিত ইবনে ক্বইস্ ইবনে শাম্মাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ভাগে পরেছি। উনার সাথে মুকাতাবা করেছি। আমি আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসেছি এবং আপনার নিকট আমার মুকাতাবার বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করছি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি কী এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রত্যাশা করেন? উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটা কী? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- আমি আপনার পক্ষ থেকে আপনার চুক্তিকৃত নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করে দিবো এবং আপনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করবো। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হ্যাঁ। আমি এটাই চাই। তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাই করলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মাঝে এ সংবাদ মুবারক পৌঁছে গেলো যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী, মুস্তাদরকে হাকিম, আস সুনানুল কুবরা লিলবাইহাক্বী, শরহু মা‘য়ানিল আছার, ওয়াক্বিদী, ইবনে হিশাম, ইবনে সা’দ, তারীখে ত্ববারী, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, ইছাবাহ, শরহুয যারক্বানী, ইবনে সা’দ ইত্যাদী)
সেটাই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
فَلَمَّا سُبِيْنَا رَجَوْتُ الرُّؤْيَا فَاَعْتَقَنِـىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَزَوَّجَنِـىْ.
অর্থ: “যখন আমরা বন্দী হলাম, তখন আমি আমার দেখা সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার বাস্তব রূপ লাভের প্রত্যাশা করলাম। সুবহানাল্লাহ! তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে মুক্ত করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৪/৫০, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/২৮, খছায়িছুল কুবরা শরীফ ১/৩৯১, ইমতা‘উল আসমা’ ৬/৮৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৪/৩৭৪ এবং ১১/২১১, তাফসীরে মাযহারী ৯/৩০৬, শরহুয যারক্বানী ৩/৭, তারীখে ত্ববারী ১১/৬১০, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/১৮২ ইত্যাদী)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বনূ মুছ্ত্বলিক্বের জিহাদে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখার পূর্বে তিন রাত যে সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখেছেন, সেই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখার সাথে সাথেই তিনি ভিতরে ভিতরে সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু তিনি তা কারো কাছে প্রকাশ করেননি। আর তিনি বন্দী হওয়ার সাথে সাথে উনার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার বাস্তবতা অবলোকনের প্রত্যাশা করছিলেন তথা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার প্রত্যাশা করছিলেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে তিনি নিজেই হযরত ছাবিত ইবনে ক্বইস্ ইবনে শাম্মাস আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার কাছে মুকাতাবার প্রস্তাব দেন এবং সরাসরি নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন। সুবহানাল্লাহ! আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু সম্মানিত ইলমে গইব মুবারকসহ সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম-কালাম মুবারক উনাদের মালিক এবং কায়িনাতের কোনো কিছুই উনার নিকট অস্পষ্ট নেই। সুবহানাল্লাহ! তাই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসে সাহায্য প্রার্থনা করছিলেন, তখন তিনি এ বিষয়টি জানতেন যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ভিতরে ভিতরে কী প্রত্যাশা করছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ভিতরে ভিতরে প্রত্যাশা করছেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি যেন উনাকে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ গ্রহণ করে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম হিসেবে কবূল করে নেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সাহায্য প্রার্থনা করার সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَهَلْ لَك فِي خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ قَالَتْ: وَمَا هُوَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ: أَقْضِي عَنْك كِتَابَتك وَأَتَزَوّجُك؛ قَالَتْ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم: فَفَعَلَ رَسُولُ اللَّه صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَلَغَ النَّاسَ أَنَّهُ قَدْ تَزَوَّجَهَا.
অর্থ: “আপনি কী এর চেয়ে উত্তম কিছু প্রত্যাশা করেন? তখন উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটা কী? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- আমি আপনার পক্ষ থেকে আপনার চুক্তিকৃত নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করে দিবো এবং আপনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করবো।” সুবহানাল্লাহ!
তখন উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি সাথে সাথে বলে উঠেন,
نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ،
ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হ্যাঁ। আমি এটাই চাই।
তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন। সুবহানাল্লাহ!
৫ম হিজরী শরীফ উনার ২৮শে যিলহজ্জ শরীফ লাইলাতুল জুমু‘য়াহ শরীফ (জুমু‘য়াহ্ শরীফ রাত) সম্মানিত জিহাদ মুবারক শেষে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২০ বছর ১ মাস ১৫ দিন অর্থাৎ প্রায় ২০ বছর। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ বছর হিসেবে ২০ বছর আর দিন হিসেবে ২০ বছর ১ মাস ১৫ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ جُوَيْرِيَةَ، قَالَتْ: تَزَوَّجَنِي رَسُوْلُ اللهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- وَأَنَا بِنْتُ عِشْرِيْنَ سَنَةً.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন, তখন আমার সম্মানিত বয়স মুবারক ২০ বছর।” সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ ২/২৬৩, তারীখুল ইসলাম ২/৪৮১, ইবনে সা’দ ৮/১২০ ইত্যাদী)

সম্মানিত মোহরানা মুবারক:

মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক ছিলেন ৫০০ দিরহাম।’ সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের সবাইকে মুক্ত করে দেয়া:

যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মাঝে এ সংবাদ মুবারক পৌঁছে গেলো যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেছেন, তখন উনারা বনূ মুছত্বলিক্বের সবাইকে মুক্ত করে দেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এই মহত্ত্ব ও উদারতা দেখে বনূ মুছত্ব¡লিক্বের সবাই সম্মানিত ঈমান এনে মুসলমান হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فتزوجها فقال المسلمون أصهار رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ تحت أيدينا أي أنهم في الأسر فأعتقوا جميع الأسرى الذين كانوا تحت أيديهم فلما رأى بنو المصطلق هذا النبل والسمو وهذه الشهامة والمروءة أسلموا جميعاً ودخلوا في دين الله وأصبحوا من المؤمنين.
অর্থ: “অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শ্বশুর বংশের লোক, উনারা কিভাবে আমাদের অধীনে থাকবেন? অর্থাৎ উনারা কিভাবে আমাদের নিকট বন্দী থাকবেন? না‘ঊযুবিল্লাহ! তারপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের নিকট যত বন্দী ছিলেন, উনারা সবাইকে মুক্ত করে দেন। সুবহানাল্লাহ! বনূ মুছত্বলিক্বের লোকেরা যখন এই মহত্ত্ব, মর্যাদা, উদারতা এবং মানবাত, বদান্যতা অবলোকন করেন, তখন উনারা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দ্বীন উনার মধ্যে দাখিল হন এবং সম্মানিত মু‘মিন উনাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যান।” সুবহানাল্লাহ! (রওয়াই‘উল বায়ান তাফসীরু আয়াতিল আহকাম ১/৪৫৭)
এ সম্পর্কে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
فَلَمَّا أَعْتَقَنِي وَتَزَوَّجَنِي وَاللَّهِ مَا كَلَّمْتُهُ فِي قَوْمِي حَتَّى كَانَ الْمُسْلِمُونَ هُمُ الَّذِينَ أَرْسَلُوهُمْ وَمَا شَعَرْتُ إِلَّا بِجَارِيَةٍ مِنْ بَنَاتِ عَمِّي تُخْبِرَنِي الْخَبَرَ، فَحَمِدْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّগ্ধ
অর্থ: “তারপর যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে মুক্ত করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তখনও আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার ক্বওমের বন্দীদের ব্যাপারে কোনো আলোচনা করিনি; বরং সম্মানিত মুসলমাগণ উনারা নিজেরাই তাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি আমার চাচাতো বোনের এক দাসীর মাধ্যমে এ বিষয়ে জানতে পারি। সে আমাকে এ বিষয়ে সংবাদ দিলে, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করি।” সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৪/৫০, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/২৮, খছায়িছুল কুবরা শরীফ ১/৩৯১, ইমতা‘উল আসমা’ ৬/৮৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৪/৩৭৪ এবং ১১/২১১, তাফসীরে মাযহারী ৯/৩০৬, শরহুয যারক্বানী ৩/৭, তারীখে ত্ববারী ১১/৬১০, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/১৮২ ইত্যাদী)
উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
فَمَا رَأَيْنَا امْرَأَةً كَانَتْ أَعْظَمَ بَرَكَةً عَلَى قَوْمِهَا مِنْهَا أُعْتِقَ فِي سَبَبِهَا مِائَةُ أَهْلِ بَيْتٍ مِنْ بَنِي الْمُصْطَلِقِ
অর্থ: “আমি কোনো মহিলাকে তার সম্প্রদায়ের জন্য উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে অধিকতর কল্যাণকামী দেখিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানার্থে বনূ মুছত্বলিক্বের একশত পরিবার মুক্তি পায়।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, শরহু মা‘আনিল আছার, ছহীহ ইবনে হিব্বান, মুস্তাদরকে হাকিম ইত্যাদী)
এখানে এক শত পরিবারের কথা বলা হয়েছে। এখন প্রতি পরিবারের লোক সংখ্যা যদি গড়ে ৬ থেকে ৭ জন ধরা হয়, তাহলে বনূ মুছ্ত্বলিক্বের ৬০০ থেকে ৭০০ জন লোককে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে বনূ মুছত্বলিক্বের সমস্ত লোককে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে