নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসম মুবারক উনার সবকিছু পবিত্র ও তা গ্রহণ করা নাজাত হাছিলের কারণ হলে তিনি যাঁদের মাধ্যমে এসেছেন উনাদের কি হুকুম?


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, উহুদের ময়দানে কিছু ছাহাবী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারকের ক্ষতস্থান হতে নির্গত নূরুন নাজাত মুবারক অর্থাৎ রক্ত মুবারক যাতে যমীনে না পড়তে পারে সেজন্য উনারা তা চুষে চুষে পান করেছিলেন। এতদশ্রবণে তিনি উনাদেরকে বললেন, আপনাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে গেল। অর্থাৎ আপনারা নিশ্চিত জান্নাতী। এছাড়া যে সকল ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারকে শিঙ্গা লাগিয়ে নূরুন নাজাত (রক্ত) মুবারক পান করেছিলেন উনাদের ক্ষেত্রেও তিনি উক্ত সুসংবাদ দান করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত হয়েছে, একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বীশান মুবারক গ্রহন করার কারণে পবিত্র হুজরা শরীফ উনার ভিতর একটি গামলার মধ্যে নূরুশ শিফা (পেশাব) মুবারক রাখলেন। সকাল বেলা এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আসলে তিনি উনাকে উক্ত গামলাটি দিয়ে ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি এগুলো এমন স্থানে রেখে আসবেন যাতে কেউ মাড়াতে না পারে। তখন সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উক্ত গামলাটি নিয়ে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে এক স্থানে রেখে চলে আসলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি তা কোথায় রেখে আসলেন? তখন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমি তা এমন স্থানে রেখে এসেছি যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ মাড়াতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ! হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন উনার মুখ মুবারক থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিলো। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি কি তা পান করে ফেলেছেন? হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তা রাখার জন্য আমার পেটের চাইতে উত্তম স্থান খুঁজে পাইনি, তাই তা পান করে ফেলেছি। হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কথা শুনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার জন্য জাহান্নামের আগুন আবাদুল আবাদের জন্য হারাম হয়ে গেল। কস্মিনকালেও জাহান্নামের আগুন আপনাকে স্পর্শ করবে না। আর আপনি জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ!
এখন কথা হলো, যেই নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুন নাজাত (রক্ত) মুবারক, নূরুশ শিফা (পেশাব) মুবারক স্বল্পকালীন, স্বল্প পরিমাণ পান করার কারণে কোনো ব্যক্তির জন্য যদি পবিত্র জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় এবং জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়, তাহলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘ সময় যে সমস্ত মহান ব্যক্তিত্বা উনাদের সম্মানিতাও পবিত্র রেহেম শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান করলেন এবং এর পূর্বে পবিত্র নূর হিসেবে যে সমস্ত মহান ব্যক্তিত্ব উনাদের পবিত্র ললাট মুবারকে অবস্থান করলেন, অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা ও সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনাদের দেহাবয়ব কি জাহান্নামে যাবে? নাউযুবিল্লাহ! কখনোই নয়! কখনোই নয়! কখনোই নয়!
উল্লেখ্য, নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি পবিত্র থেকেও পবিত্রতম। তিনি কি নাপাক স্থানে অবস্থান করেছিলেন? সকলেই বলবে কস্মিনকালেও নয়। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষ কি নাপাক ছিলেন? নাউযুবিল্লাহ! সকলেই বলবে অবশ্যই নয়, বরং পূত-পবিত্র ছিলেন। আর পূত-পবিত্র বললেই ঈমানদার বুঝতে হবে। তাহলে উনার পূর্বপুরুষ কি করে কাফির-মুশরিক হতে পারেন? কারণ কাফির-মুশরিক মাত্রই নাপাক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম শরীফ উনার মধ্যে কাফির-মুশরিকদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
انما المشركون نجس.
অর্থ: “নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র বা নাপাক।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)
অতএব, এ ধরনের বক্তব্য উম্মতের জন্য বলাতো দূরের কথা কল্পনা করাও কুফরীর শামিল।
উল্লেখ্য, যিনি যত বেশি মূল্যবান উনার সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও উনার পাত্রও ততই মূল্যবান হয়ে থাকে। অতএব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবস্থানস্থল অর্থাৎ যে পবিত্র রেহেম শরীফ ও পৃষ্ঠ মুবারক উনাদের মাধ্যমে যমীনে আগমন করেন তা কত মূল্যবান ও পবিত্র তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে