নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ


সম্মানিত প্রথম শাদী মুবারক

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক হয় উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাম‘আহ্ ইবনে ক্বইস আলাইহিস সালাম উনার আপন চাচাতো ভাই হযরত সাকরান ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন-
سَيِّدَتُناَ حَضْرَتْ اَلسَّكْرَانُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ شَمْسِ بْنِ عَبْدِ وُدّ بْنِ نَصْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ حِسْلِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَيّ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু ইবনে ‘আমর ইবনে আব্দু শাম্স ইবনে ‘আবদু উদ্দ ইবনে নছ্র ইবনে মালিক ইবনে হিস্ল ইবনে ‘আমির ইবনে লুআই আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وَكَانَتْ قَبْلَهُ تَحْتَ السَّكْرَانِ بْنِ عَمْرٍو أَخِي سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে সুহাইল ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আপন ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অধীনে ছিলেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত শাদী মুবারক-এ উনার আওতায় ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (বিদায়া-নিহায়া, ইবনে সা’দ, ইবনে হিশাম ইত্যাদী)
বিশিষ্ট চারজন হযরত ছাহাবী হযরত সুহাইল ইবন ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত সাহ্ল ইবন ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত সালীত্ব ইবন ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হাতিব ইবন ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা চারজন ছিলেন হযরত সাক্রান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত আপন ভাই। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুর দিকেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত যাওজুম মুকাররাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনারা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক প্রকাশের পর পরই সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وأسلمت بمكة قديمًا وبايعت وأسلم زوجها السكران بن عمرو.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি শুরুর দিকেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম মুবারক গ্রহণ করেন এবং সম্মানিত বায়াত মুবারক গ্রহণ করেন এবং উনার সম্মানিত আহাল হযরত সাকরান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন সম্মানিত ঈমান মুবারক আনেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
وكان السكران بْن عَمْرو قديم الْإِسْلَام بمكّة
অর্থ: “ সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সূচালগ্নে সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ-এ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক আনেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ)

হাবশায় সম্মানিত হিজরত মুবারক :

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুর দিকেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত যাওজুম মুকাররাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে আত্মীয়-স¦জনের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কবুল করেন এবং সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, উনাদের উপর উনাদের নিকটাত্মীয়-স্বজনদের সীমাহীন যুলুম-নির্যাতনের কারণে উনারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী হাবশায় সম্মানিত হিজরী মুবারক করেন।
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وهاجر إِلَى أرض الحبشة فِي الهجرة الثانية ومعه امرأته سودة بِنْت زمعة.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুকাররমাহ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকেসহ সম্মানিত মুসলমান উনারা যখন দ্বিতীয়বার হাবশায় হিজরত মুবারক করেন, তখন উনারাও হাবশায় সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ)
হাবশায় কয়েক বছর সম্মানিত অবস্থান মুবারক করার উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত জাওযুম মুকাররাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিসহ সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ ফিরে আসেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত সাকরান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক প্রকাশে ১০ম বৎসর সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার পূর্বাভাস মুবারক:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنِ حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ كَانَتْ ام المؤمنين سيدتنا حضرت الثانية عليها السلام (حضرت سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ عليها السلام) عِنْدَ حضرت السَّكْرَانِ بْنِ عَمْرٍو رضى الله تعالى عنه أَخِي حضرت سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو رضى الله تعالى عنه فَرَأَتْ فِي الْمَنَامِ كَأَنَ النَّبِيَّ صلّى الله عليه وسلم أَقْبَلَ يَمْشِي حَتَّى وَطِئَ عَلَى عُنُقِهَا فَأَخْبَرَتْ زَوْجَهَا بِذَلِكَ فَقَالَ لَئِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَاكِ لَأَمُوتَنَّ وَلَيَتَزَوَّجَنَّكِ رَسُولُ اللَّهِ صلّى الله عليه وسلم.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হযরত সুহাইল ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত ভাই হযরত সাকরান ইবনে ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট ছিলেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি একবার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক-এ দেখেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হেটে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে উনার সম্মানিত কাঁধ মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পা মুবারক) কোমলভাবে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার সম্মানিত আহাল উনার নিকট ব্যক্ত করলেন। তখন তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আপনি যদি সত্যিই এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আমি সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করবো এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
ورأت فى المنام ان النبىّ صلّى الله عليه وسلم أتاها ووضع رجله على رقبتها فلما انتبهت أخبرت زوجها قال ان صدقت فانا أموت ويتزوّجك محمد صلّى الله عليه وسلم
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি একবার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক-এ দেখেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পা মুবারক) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত কাঁধ মুবারক-এ রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি যখন জাগ্রত হলেন, তখন এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার সম্মানিত আহাল উনাকে বললেন। উনার সম্মানিত আহাল তিনি বললেন, আপনি যদি সত্যিই এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখে থাকেন, তাহলে আমি সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করবো এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস)
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখার পর আরো একখানা বরকতময় স্বপ্ন মুবারক দেখেন। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
ثُمَّ رَأَتْ فِي الْمَنَامِ لَيْلَةً أُخْرَى أَنَّ قَمَرًا انْقَضَّ عَلَيْهَا مِنَ السَّمَاءِ وَهِيَ مُضْطَجِعَةٌ فَاَخْبَرَتْ زَوْجَهَا فَقَالَ لَئِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَاكِ لَمْ أَلْبَثْ إِلَّا يَسِيرًا حَتَّى أَمُوتَ وَتَزَوَّجِينَ مِنْ بَعْدِي, فَاشْتَكَى حضرت السَّكْرَانُ رضى الله تعالى عنه مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ , فَلَمْ يَلْبَثْ إِلَّا قَلِيلًا حَتَّى مَاتَ وَتَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلّى الله عليه وسلم
অর্থ: “তারপর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুান হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি অন্য রাতে আরো একখানা সম্মানিত বরকতময় স্বপ্ন মুবারক দেখেন যে, তিনি কাত হয়ে শুয়ে আছেন, এমন সময় আকাশের চাঁদখানা ছুটে এসে উনার উপর পড়লেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি উনার এই সম্মানিত বরকতময় স্বপ্ন মুবারকখানা উনার সম্মানিত আহাল উনাকে জানালেন। উনার সম্মানিত আহাল বললেন, যদি সত্যিই আপনি এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখে থাকেন, তাহলে আমি খুব তাড়াতাড়ী সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করবো এবং আমার পর আপনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হবেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত সাকরান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সে দিনই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, ইবনে সা’দ)
আল্লামা দিয়ার বাকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ : ৯৬৬ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন,
ثم رأت فى المنام انها اتكأت ووقع عليها القمر من السماء فأخبرت بها زوجها قال ان كنت صدقت فأنا أموت قريبا وتتزوجين زوجا آخر فمرض فى ذلك اليوم ومات بعد أيام ثم تزوّجها النبىّ صلّى الله عليه وسلم فى السنة العاشرة من النبوّة بعد وفاة خديجة
অর্থ: “তারপর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুান হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি অন্য রাতে আরো একখানা সম্মানিত বরকতময় স্বপ্ন মুবারক দেখেন যে, তিনি হেলান দিয়ে বসে আছেন, এমন সময় আকাশের চাঁদখানা ছুটে এসে উনার উপর পড়লেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি উনার এই সম্মানিত বরকতময় স্বপ্ন মুবারকখানা উনার সম্মানিত আহাল উনাকে অবহিত করলেন। উনার সম্মানিত আহাল তিনি বললেন, যদি সত্যিই আপনি এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখে থাকেন, তাহলে আমি অতিশীঘ্রই সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করবো এবং আমার পর আপনি অপর একজন অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হবেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত সাকরান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এই দিন থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছু দিন পর সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক মুবারক প্রকাশের ১০ম বৎসর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস)

উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারক প্রকাশের ১০ম বৎসর ১৭ রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুস সাব্ত শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪৯ বছর ৬ মাস ৫ দিন। সবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক এবং উনার সম্মানিত সম্মতি মুবারক প্রকাশ:

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার গভীর সম্পর্ক। যা কারণে তিনি উনার দেখা সমস্ত স্বপ্ন মুবারকগুলো সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে বলেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! যখন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত ব্যথিত ছিলেন। এদিকে বাহিরে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ভিতরে নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া এবং মহাসম্মানত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দেখাশুনা করার জন্য একজন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার প্রয়োজন। তখন হযরত ‘উছমান ইবনে মায‘ঊন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার যাওজাতুম মুকাররমাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম! উম্মুল মু‘মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক উনার কারণে আপনাকে অত্যন্ত বিষন্ন দেখছি। এ কথা বলে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপত্রি আযীমুশ শান মুবারক নিসবতে আযীম শরীফ উনার সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ ام المؤمنين الثالثة سيدتنا حضرت الصديقة عليها السلام (حضرت عائشة عليها السلام) قَالَتْ: لَمَّا تُوُفِّيَتْ ام المؤمنين الاولى سيدتنا حضرت الكبرى عليها السلام (حضرت خَدِيجَةُ عليها السلام) جَائت حضرت خَوْلَةُ بنتُ حَكِيمِ بن الأَوْقَصِ رضى الله تعالى عنها امْرَأَةُ حضرت عُثْمَانَ بن مَظْعُون رضى الله تعالى عنه يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلا تَزَوَّجُ قَالَ مَنْ قَالَتْ إِنْ شِئْتَ بِكْرًا وَإِنْ شِئْتَ ثَيِّبًا، قَالَ وَمَنِ الثَّيِّبُ قَالَتْ ام المؤمنين سيدتنا حضرت الثانية عليها السلام (حضرت سَوْدَة بِنْت زَمْعَةَ عليها السلام) قَدْ آمَنَتْ بِكَ وَاتَّبَعَتْكَ عَلَى مَا أَنْتَ عَلَيْهِ، قَالَ فَاذْهَبِي فَاذْكُرِيهَا عَليَّ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন হযরত ‘উছমান ইবনে মায‘ঊন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার যাওজাতুম মুকাররমাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ করবেন না? অর্থাৎ আপনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ করুন! তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, কাকে? তিনি বললেন, আপনার সম্মানিত ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী- আপনি যদি চান অকুমারী গ্রহণ করতে পারেন অথবা যদি চান কুমারীও গ্রহণ করতে পারেন। (এখন আপনি যাকে পছন্দ মুবারক করেন।) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, অকুমারী কে? তিনি বললেন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি আপনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন এবং আপনাকে পরিপূর্ণরূপে সম্মানিত ইতা‘য়াত তথা অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করে থাকেন, আপনার আনীত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর চলে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
فَاذْهَبِي فَاذْكُرِيهَا عَليَّ
আপনি যান আমার পক্ষ থেকে উনার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা মুবারক করুন।” সুবহানাল্লাহ! (আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৫/৪১৩, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ৩০/২৪)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে বললেন,
فَاذْهَبِي فَاذْكُرِيهَا عَلِيَّ
‘আপনি যান আমার পক্ষ থেকে (উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম) উনার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা মুবারক করুন।’ সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম মুবারক উনার সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক নিয়ে যান। এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
فَخَرَجْتُ، فَدَخَلْتُ عَلَى ام المؤمنين سيدتنا حضرت الثانية عليها السلام (حضرت سَوْدَة بِنْت زَمْعَةَ عليها السلام) فَقُلْتُ: يَا ام المؤمنين سيدتنا حضرت الثانية عليها السلام (حضرت سَوْدَة بِنْت زَمْعَةَ عليها السلام) مَاذَا أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مِنَ الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ، قَالَتْ: وَمَا ذَاكَ؟، قَالَتْ: أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْطُبُكِ عَلَيْهِ، فَقَالَتْ: وَدِدْتُ، فَادْخُلِي عَلَى أَبِي وَاذْكُرِي ذَلِكَ لَهُ، قُلْتُ: وَهُوَ شَيْخٌ كَبِيرٌ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ وقلت له: إِنَّ سيدنا مولنا مُحَمَّدَ بن عَبْدِ اللَّهِ بن عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَرْسَلَنِي أَخْطَبُ عَلَيْهِ ام المؤمنين سيدتنا حضرت الثانية عليها السلام (حضرت سَوْدَة بِنْت زَمْعَةَ عليها السلام) فَقَالَ: كُفُؤٌ كَرِيمٌ، فَمَاذَا تَقُولُ صَاحِبَتُكِ؟، قَالَتْ: تُحِبُّ ذَلِكَ، قَالَ: فادْعِيهَا إِلَيَّ، فَدَعَوْتُهَا، فَقَالَ: أَيْ ام المؤمنين سيدتنا حضرت الثانية عليها السلام (حضرت سَوْدَة بِنْت زَمْعَةَ عليها السلام) رَفَعَتْ هَذِهِ أَنَّ سيدنا مولنا مُحَمَّدَ بن عَبْدِ اللَّهِ بن عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَخْطُبُكِ وَهُوَ كُفُؤٌ كَرِيمٌ، أَفَتُحِبِّينَ أَنْ أُزَوِّجُهُ قَالَتْ نَعَمْ
অর্থ: “(সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি বলেন,) আমি বের হয়ে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুান হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট গেলাম। আমি উনাকে বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম! যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে কতোই না সম্মানিত খইর (ভালাই, কল্যাণ) এবং বরকত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, সেটা কী? তিনি বললেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন আমি যেন উনার পক্ষ থেকে আপনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার বিষয়ে সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক পেশ করি। সুবহানাল্লাহ! তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, আমি এটাই চাই। আপনি আমার সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার নিকট যান এবং উনার নিকট এ বিষয়ে আলোচনা মুবারক করুন! আমি বললাম, তিনি তো অনেক বয়স্ক লোক। তারপর আমি উনার সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার নিকট গেলাম এবং উনাকে বললাম, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে পঠিয়েছেন উনার পক্ষ থেকে (আপনার মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক পেশ করার জন্য। সুবহানাল্লাহ! তখন তিনি বললেন, অত্যন্ত সম্মানিত কুফু মুবারক। আপনার যিনি বান্ধবী তিনি কী বলেন? সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাওলা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি বললেন, তিনি এটা পছন্দ মুবারক করেছেন। তিনি বললেন, উনাকে আমার নিকট ডেকে আনুন। আমি উনাকে ডেকে আনলাম। তিনি উনাকে বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম! তিনি এটা উপস্থাপন করেছেন যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ করার সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক পেশ করেছেন আর তিনি অত্যন্ত সম্মানিত কুফু মুবারক। আপনি কি এটা পছন্দ করেন যে, আমি আপনাকে উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ দেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সুবহানাল্লাহ! (আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৫/৪১৩, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ৩০/২৪)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম মুবারক

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ পড়ান উনার মহাসম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত যাম‘আহ্ ইবনে ক্বইস আলাইহিস সালাম তিনি। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সম্মানিত খুতবাহ মুবারকও তিনি নিজেই পাঠ করেন। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক ছিলো ৫০০ দিরহাম। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইমাম ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘ত্ববাক্বাত শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
فَتَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوْدَةَ بِنْتَ زَمْعَةَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ عَشْرٍ مِنَ النُّبُوَّةِ
অর্থ: “অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক মুবারক প্রকাশের ১০ম বৎসর সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাসে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ ৮/২১৭)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারক প্রকাশের ১০ম বৎসর ১৭ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুস সাব্ত শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের ৯ দিন পর অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ১০ম বৎসর ২৬ শে রমাদ্বান শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতু ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪৯ বছর ৬ মাস ১৪ দিন আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪৫ বছর ৭মাস ২১দিন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ৪ বছর ২৫ দিন এককভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার পর উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুনা হযরত মাম‘আহ্ আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু উনার সম্মানিত ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে যাম‘আহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু যিনি তখনও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি- তিনি এ সম্পর্কে জানতে পেরে গভীরভাবে ব্যথিত হন এবং স্বীয় মস্তকে ধূলি-বালি নিক্ষেপ করেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! তবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি উনার এই আচরণের জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করেন। আর যখনই উনার এ কথা মনে পড়তো, তখন তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করতেন।
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
فَجَاءَ أَخُوهَا عَبْدُ اللَّهِ بن زَمْعَةَ مِنَ الْحَجِّ، فَجَعَلَ يَحْثُو فِي رَأْسِهِ التُّرَابَ، فَقَالَ بَعْدَ أَنْ أَسْلَمَ: إِنِّي لَسَفِيهٌ يَوْمَ أَحْثُو فِي رَأْسِي التُّرَابَ أَنْ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوْدَةَ بنتَ زَمْعَةَ.
অর্থ: “অত:পর উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ভাই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যাম‘আহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সম্মানিত হজ্জ মুবারক থেকে এসে (মহাসম্মনিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়টি শুনে) স্বীয় সম্মানিত মাথা মুবারক-এ ধুলি-বালি নিক্ষেপ করেন। তারপর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করার কারণে আমি আমার সম্মানিত মাথা মুবারক-এ ধুলি-বালি নিক্ষেপ করে অবশ্যই নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছি।” (আল মু‘জামুল কাবীর)
উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেননি।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে