নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনারা ঈমানদারদের বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেননি।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “একমাত্র মনোনীত পরিপূর্ণ সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত, অপরিবর্তনীয় সম্মানিত দ্বীন হচ্ছেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম।”
স্মরণীয় সম্মানিত শরীয়ত অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনারা ঈমানদারদের বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেননি। তাহলে সরকার কিভাবে ঈমানদারদের বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে? তাহলে সরকার কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানতে নারাজ? নাউযুবিল্লাহ!
মূলত, কেউ যদি ঈমানদারদের বিয়ের বয়স নির্দিষ্ট করতে চায়, তাহলে সে ঈমানদার থাকতে পারবে না। কারণ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোনো হুকুম বাড়ানো বা কমানো কাট্টা কুফরী। কাজেই কোনো মুসলমান পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ কোনো কুফরী আইন মানতে পারে না এবং আমলও করতে পারে না।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করার ও বিয়ে দেয়ার জন্য কোনো বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ ৫, ১০, ১৫ ইত্যাদি বছরের কমে অথবা ৪০, ৬০, ৮০ ইত্যাদি বছরের চেয়ে বেশি বয়সে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না- এমন কোনো শর্ত-শারায়িত সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে বর্ণনা করা হয়নি। অর্থাৎ স্বয়ং যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদারদের বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেননি। তাহলে সরকার কিভাবে ঈমানদারদের বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে? তাহলে সরকার কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানতে নারাজ? নাউযুবিল্লাহ! অতএব, কেউ যদি ঈমানদারদের বিয়ের বয়স নির্দিষ্ট করতে চায়; তাহলে সে ঈমানদার থাকতে পারবে না।
‘বিয়ের বয়স নির্ধারণ করার বিষয়ে’ সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা তুলে ধরে তিনি এসব ক্বওল শরীফ পেশ করেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে অর্থাৎ খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ মুবারক উনার বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যেই মূলত ব্রিটিশ সরকার কোনো মেয়ের বিয়ে বসা বা বিয়ে দেয়ার জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আইন বা শর্ত করে দেয় এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে কোনো মেয়েকে বিয়ে দেয়া, বিয়ে করা বা কোনো মেয়ের জন্য বিয়ে বসা দ-নীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত করে। নাঊযুবিল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ব্রিটিশদের এই আইনও সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ খিলাফ ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে স্মর্তব্য যে, সম্মানিত হানাফী মাযহাব মুতাবিক ১৫ বছর বয়স হলেই ছেলে বা মেয়ে বালিগ বা বালিগা বলে গণ্য হবে, যদিও জাহিরীভাবে তার কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পায়। আর এর আগে যদি কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে তখন থেকেই সে বালেগ বা বালিগা বলে গণ্য হবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, স্মরণীয় যে- যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সাথে উনার ৬ বছর বয়স মুবারকে আক্বদ্ মুবারক সম্পন্ন করেছিলেন ও উনার ৯ বছর বয়স মুবারকে উনাকে মুবারক ঘরে তুলে নিয়েছিলেন। তাহলে কি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা গণতান্ত্রিক নিয়মনীতি অনুযায়ী দ-নীয় হবেন? (নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক! নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক! নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক!)। যা কেউ কল্পনা করলেও কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। তাই সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা, বাল্যবিবাহকে কটাক্ষ করা এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলেছে, ‘সরকার পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন পাস করবে না।’

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কাফির-মুশরিকগুলো খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ মুবারক উনার বিরোধিতা করতে গিয়ে অপপ্রচার করে থাকে যে, বাল্যবিবাহের কারণে একটি মেয়ের অপুষ্টিতে ভোগা ও অল্প বয়সে সন্তান ধারণ করায় মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে, নানা রোগ-ব্যাধি হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু বাস্তবতায় কি দেখা যায়? আমরা দেখে থাকি- ইতিহাসের আলোকে বলা হয়, বর্তমান প্রজন্মে দাদা-দাদি, নানা-নানি বা উনাদের আগের যামানায় যারা ছিলেন তাদেরও বিয়ে হয়েছে খুব কম বয়সে; যেমন- অনেকের ৬, ৭ বছর বয়সে, অনেকের ৮, ৯ দশ বছর বয়সে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কারো থেকে শুনিনি যে, অমুকের অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। বরং যথেষ্ট হায়াত পেয়ে তারা মৃত্যুবরণ করেছে, অথচ তখন তেমন কোনো উন্নত চিকিৎসাও ছিলো না।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মুলকথা হলো কেউ যদি ঈমানদারদের বিয়ের বয়স নির্দিষ্ট করতে চায়; তাহলে সে ঈমানদার থাকতে পারবে না। সরকার যদি ঈমানদার দাবি করে, তাহলে সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে- এ প্রসঙ্গে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে দলীল পেশ করো।’ কাজেই সরকার যদি ঈমানদারদের জন্য বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করতে চায় এবং নিজেদেরকে ঈমানদার দাবি করে, তাহলে সরকারকে অবশ্যই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ থেকে দলীল পেশ করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে এ আইন অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোনো হুকুম বাড়ানো বা কমানো জায়িয নেই। কাজেই কোনো মুসলমান পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ কোনো আইন মানতে পারে না এবং আমলও করতে পারে না। অতএব এই সরকারকে বর্তমান বাল্যবিবাহ আইন অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। যা ফরজ উনার অন্তর্ভূক্ত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে