নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারক


বাতিল ফিরকাদের একটা দাবি হচ্ছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেননি। নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ। মূলত তারা উনার সুমহান শান মুবারক সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেখবর হওয়ার কারণে এ বিষয়সমূহ বুঝতে পারে না।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক বুলন্দ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ
হে আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক বুলন্দ করেছি। (সূরা ইনশিরাহ ৪)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু অসীম, তিনি যে সুমহান আলোচনা মুবারক বুলন্দ করেছেন সেটাও অসীম। সাধারণ মানুষের পক্ষে বিন্দুমাত্রও তা বোঝা বা অনুধাবন করা সম্ভব না। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক কেমন তা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَخْرَجَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بِسَنَدِهٖ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَبِيْ أَنْتَ وَأُمِّيْ أَخْبِرْنِـيْ عَنْ أَوَّلِ شَيْءٍ خَلَقَهُ اللهُ قَبْلَ الْأَشْيَاءِ؟ قَالَ يَا جَابِرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ إِنَّ اللهَ خَلَقَ قَبْلَ الْأَشْيَاءِ نُوْرَ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نُوْرِهٖ فَجَعَلَ ذٰلِكَ النُّوْرُ يَدُوْرُ بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ اللهُ وَلَـمْ يَكُنْ فِيْ ذٰلِكَ الْوَقْتِ لَوْحٌ وَلَا قَلَمٌ وَلَا جَنَّةٌ وَلَا نَارٌ وَلَا مَلَكٌ وَلَا سَمَاءٌ وَلَا أَرْضٌ وَلَا شَمْسٌ وَلَا قَمَرٌ وَلَا إِنْسٌ وَلَا جِنٌّ
অর্থ: হযরত ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সনদ সহকারে বর্ণনা করেন যে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবকিছুর পূর্বে আপনার যিনি নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেন।’ অতঃপর সেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। আর সে সময় লওহো, কলম, বেহেশ্ত, দোযখ, ফেরেশতা, আসমান, যমীন, চন্দ্র, সূর্য, মানুষ ও জিন কিছুই ছিল না। (আল মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ১ম খন্ড ৯ পৃষ্ঠা, শরহে মাওয়াহেব ৮৯ পৃষ্ঠা, আশরাফুল ওসাইল ৩৬ পৃষ্ঠা, আল মিনায়ুল মাক্কীয়া ফি শারহীল হামজিয়া কিতাবের ৯৩ পৃষ্ঠা, আল ফতওয়ায়ে হাদিছিয়্যাহ কিতাবের ৮৫ পৃষ্ঠা, আন নুরুস সাফির আন আখবারি কারনীল আশির কিতাব উনার ২২ পৃষ্ঠা, বাহাজাতুল মাহাফিল ওয়া বুগিয়াতুল আমাছিল ১ম খন্ড ২২ পৃষ্ঠা , আল মাওয়ারিদুর রাবী কিতাবের ২২ পৃষ্ঠায়, তাফসীরে রুহুল মায়ানীতে ১৭ খন্ড ১০৫ পৃষ্ঠায়, ‘সিরাজুমমুনীরা’ কিতাবে ৪৩ পৃষ্ঠায়, সিরাতে হলবীয়া ১/৩০, মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃষ্ঠা, হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫, তারীখুল খমীস ১/২০, দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃষ্ঠা, কাশফুল খফা ১/৩১১, নুজহাতুল মাজালীস ১ খন্ড, নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪৭ পৃষ্ঠা, মজমুয়ায়ে ফতোয়া লখনবী ২/২৬০)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যা স্পষ্ট বোঝা যায় তা হচ্ছে, একটা সময় সৃষ্টি জগতে কোন কিছুই ছিলো না। এসময় ¯্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যে কোন পর্দাও ছিলো না। তখন মহান আল্লাহ পাক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক সৃষ্টি করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকে অবস্থান করছেন। এ থেকে প্রমাণ হয়, দায়েমী দীদার মুবারকে অবস্থান করছেন।
আজ থেকে প্রায় ১১০০ বছর আগে লিখিত একখানা কিতাব সেখানে সনদসহ একটি হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে, (হাদীছ শরীফ উনার সনদ দেখতে পবিত্র আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৭১ সংখ্যা দেখা যেতে পারে)
عَنْ عَلِىِّ بْنِ أَبِـىْ طالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنَّه قَالَ: اِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالٰي خَلَقَ نُوْرَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَ الْأَرْضَ وَ الْعَرْشَ وَ الْكُرْسِيَّ وَ اللَّوْحَ وَ الْقَلَمَ وَ الْـجَنَّةَ وَ النَّارَ
অর্থ: খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেছেন আসমান, যমীন, আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম সৃষ্টির পূর্বে।” (মা‘য়ানিল আখবার ৩০৬-৩০৭ পৃষ্ঠা ওফাত: ৩৮১, প্রকাশনা: দারুল মা’রিফা, বাইরুত, লেবানন; শরফুল মুস্তফা ১ম খন্ড ৩০৫-৩১১ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং ৭৯, সুলওয়াতুল আরেফীন ১ম খন্ড ৬৪ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফ থেকেও আমরা দেখতে পেলাম সমগ্র সৃষ্টি জগতে যা আছে সবকিছুর পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক সৃষ্টি করা হয়েছে। অর্থাৎ সৃষ্টির শুরু থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার দায়েমী দীদার মুবারকে অবস্থান করছেন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে