নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওছীয়ত মুবারক পালন করা প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয। তাই যাদের সামার্থ রয়েছে তারা যেন অবশ্যই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে উনার পবিত্র নাম মুবারক-এ পবিত্র কুরবানী করে।


ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ওয়াছীয়ত মুবারক অর্থাৎ আদেশ মুবারক করেছেন আমি যেন উনার পক্ষ থেকে পবিত্র কুরবানী করি।’ সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওছীয়ত মুবারক পালন করা প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয। তাই যাদের সামার্থ রয়েছে তারা যেন অবশ্যই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে উনার পবিত্র নাম মুবারক-এ পবিত্র কুরবানী করে। যা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উসীলা হবে। সুবহানাল্লাহ!
পাশাপাশি কুরবানীদাতার পবিত্র কুরবানী নিশ্চিতভাবে কবুল হওয়ারও অন্যতম উসীলা হবে। সুবহানাল্লাহ!
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যারা পবিত্র কুরবানী করবে তাদের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- ওয়াজিব কুরবানী আদায় করার পর যদি সম্ভব হয়; আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে উনার পবিত্র নাম মুবারক-এ পবিত্র কুরবানী করা। যা পবিত্র কুরবানীদাতার পবিত্র কুরবানী নিশ্চিতভাবে কবুল হওয়ার একটি অন্যতম উসীলা হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য উসীলা গ্রহণ করো।’ সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে সকল লোক এককভাবে পবিত্র কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব নয়; অথচ তারা পবিত্র কুরবানী উনার দিনে কিছু লোক মিলে গরু, ছাগল ইত্যাদি কিনে গোশত বণ্টন করে অথবা হাট-বাজার থেকে গোশত কিনে খেয়ে থাকে এ সকল লোকেরা যদি ইচ্ছে করে তবে তারাও পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, গরু, মহিষ, উটে সাত নামের বেশি দিলে পবিত্র কুরবানী দুরস্ত হবে না। আর সাত নামের কমে পবিত্র কুরবানী করলে দুরস্ত হবে। আর ছাগল, দুম্বা, ভেড়া এক নামের বেশি নামে পবিত্র কুরবানী করলে কারো পবিত্র কুরবানী দুরস্ত হবে না। যেমন- যদি ৪০ জন ব্যক্তি ১০০০ টাকা করে ৪০,০০০ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে সাত নামে বা তার থেকে কম নামে পবিত্র কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে। তদ্রুপ একটা খাসি তিনজনে মিলে পয়সা দিয়ে খরিদ করে যদি এক নামে পবিত্র কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তবে সে পবিত্র কুরবানীও শুদ্ধ হবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তবে স্মরণীয় যে, যারা শরীক হয়ে এ ধরনের পবিত্র কুরবানী দিবে তারা প্রত্যেকে চাইবে যে, নিজেদের নামে পবিত্র কুরবানী দিতে, তখন অবশ্যই ফিতনা ও সমস্যার সৃষ্টি হবে। সেজন্য নাম দেয়ার ক্ষেত্রে আফযল ও উত্তম তরীক্বা হচ্ছে এই যে, যদি ছাগল কিংবা গরু এক নামে পবিত্র কুরবানী করা হয়, তাহলে তা আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক-এ পবিত্র কুরবানী করে সকল শরীক সমানভাবে গোশত বণ্টন করে নিবে। এতে যেমন তাদের পবিত্র কুরবানী নিশ্চিতরূপে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল ও মঞ্জুর হবে, সাথে সাথে তা তাদের জন্য ফযীলত, বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, নাজাত; সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার উসীলাও হবে। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, জানা আবশ্যক যে- আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল উম্মতের তরফ থেকে পবিত্র কুরবানী মুবারক করেছেন। সুতরাং উম্মতেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য যে, সামর্থ্য থাকলে উনার পক্ষ হতে পবিত্র কুরবানী দেয়া। মূলত, এ ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশবাণীও পাওয়া যায়। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে খাছভাবে এ নির্দেশ মুবারক দিয়ে যান যে, তিনি যেন প্রতি বছর উনার নাম মুবারক-এ পবিত্র কুরবানী দেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, শরীকভাবে পবিত্র কুরবানী করার ক্ষেত্রে যে সব প্রাণীতে শুধু এক নামে পবিত্র কুরবানী করা যায়, তাতে অবশ্যই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক-এ পবিত্র কুরবানী দেয়া উচিত এবং তা উত্তম ও ফযীলতের কারণ বটে। কিন্তু যে সব প্রাণীতে সাত নামে পবিত্র কুরবানী দেয়ার বিধান রয়েছে, তাতে প্রথমত এক নাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এ এবং বাকি ছয় নামের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম, হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নাম মুবারক থেকে ইচ্ছে মুতাবিক নাম মুবারক দিতে পারে। তাহলে এতে কোনো ফিতনা পয়দা হবে না। সাথে সাথে পবিত্র কুরবানী উনার দিন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে- পবিত্র কুরবানী করা, তাও আদায় হলো। আর পবিত্র কুরবানী উনার বরকতময় গোশতও লাভ হলো। সাথে সাথে গুনাহর কাজ থেকেও বাঁচা হলো। তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির দায়িত্ব কর্তব্য হলো- সে যেন কমপক্ষে এক নাম আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে উনার পবিত্র নাম মুবারক-এ দেয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে