নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ বুখারী শরীফে একটি জাল বর্ণনা রয়েছে যা পরিতাজ্য


বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ নাম শুনলে পৃথিবীবাসীর কাছে আর যেন কোন দলীলই প্রয়োজন হয়না। এখানে যা আছে চোখ বুজে মানুষ মেনেও নেয়। যেহেতু হাদীছ শরীফ উনার কিতাব সেহেতু মেনে নিবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আক্বীদার ক্ষেত্রে উছূল হচ্ছে যখন এমন কোন বর্ণনা পাওয়া যাবে, যা সম্মানিত আক্বীদা উনার খিলাফ তখন উক্ত বর্ণনা নিয়ে চিন্তা ফিকির করতেই হবে। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি হাদীছ শরীফ উনার প্রসিদ্ধ কিতাব আবু দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ উনার মধ্যে এমন রেওয়ায়েত আছে যেখানে উল্লেখ আছে- আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আহলে বাইতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি শরাব পান করে নামায পড়েছেন এবং নামাযে সূরা তিলাওয়াত ভুল করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু তাহক্বীক বা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বের হয়ে এসেছিলো সেই বর্ণনা ছিলো খারেজীদের দ্বারা বানানো মিথ্যা জাল বর্ণনা। সুনানে আবু দাঊদ বা তিরমিযী শরীফে বর্ণনা আছে বলেই উক্ত বর্ণনা সঠিক হয়ে যায়নি। তদ্রুপ বুখারী শরীফেও এমন বর্ণনা রয়েছে। হাফিজুল হাদীছ, বিখ্যাত মুবাহীছ, হযরত রুহুল আমিন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি তেমন একটি প্রমাণ উনার বিখ্যাত “সায়েকাতুল মুসলিমিন” নামক কিতাবে ১৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, বুখারী শরীফের ১ম খন্ড ৫৪৩ পৃষ্ঠায় আছে, “আমর বিন মায়মুন বলিয়াছেন, আমি জাহেলিয়াতের সময় একটি বানর দেখেছিলাম সেই বানরটি ব্যভিচার করেছিলো এবং সমস্ত বানর সমবেত হয়ে উক্ত বানরকে প্রস্তরাঘাত করেছিলো, এতে আমিও তাদের সাথে উক্ত বানরকে প্রস্তরাঘাত করেছিলাম।
ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এই হাদিছটি উল্লেখ করতঃ বন্য পশুর জেনা ও তাদের উপর হদ জারি করার মত সমর্থন করেছিলেন, যদি উনার এই মত না হতো তবে তিনি তা কখনো বর্ণনা করতেন না, এটা জগতের কোন ইমামের মত নয়। এই হাদিছটি যে গুপ্তদোষে দোষান্বিত, তা ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি অবগত হতে পারেননি, বরং এটা জাল হাদীছ। যেহেতু এ বর্ণনার একজন রাবির নাম নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ, এই লোকটি মিথ্যাবাদী, জাল হাদীছ প্রচারক তাহা ইতিপূর্বে প্রমাণ করা হয়েছে।”
‘সায়েকাতুল মুসলিমিন’ কিতাবে ১৬০ পৃষ্ঠায় হাফিজুল হাদীছ, বিখ্যাত মুবাহীছ হযরত রুহুল আমিন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ সম্পর্কে ‘মিযানুল এতেদাল’ কিতাবে ৩/২৪১ পৃষ্ঠার উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, হযরত ইমাম আজাদি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ জাল হাদীছ প্রস্তুত করতো।”
এখন ফিকিরের বিষয় হলো ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত এতবড় একজন হাদীছ শরীফ বিশেষজ্ঞ, যিনি প্রায় ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে বুখারী শরীফ সঙ্কলন করেছেন সেখানেও উনার অনিচ্ছাস্বত্ত্বে জাল রেওয়ায়েত ঢুকে গেছে। তেমনি আরেকটি রেওয়ায়েত যা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বুখারী শরীফের কিতাবুত তা’বীর অধ্যায়ের প্রথমেই বর্ণনা করেছেন। ওহী মুবারক বিষয়ে দীর্ঘ একটি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে শেষের দিকে এসে এই বর্ণনা সংযুক্ত করেছেন,
بَلَغَنَا حُزْنًا غَدَا مِنْهُ مِرَارًا كَىْ يَتَرَدَّى مِنْ رُءُوسِ شَوَاهِقِ الْجِبَالِ، فَكُلَّمَا أَوْفَى بِذِرْوَةِ جَبَلٍ لِكَىْ يُلْقِيَ مِنْهُ نَفْسَهُ، تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا‏.‏ فَيَسْكُنُ لِذَلِكَ جَأْشُهُ وَتَقِرُّ نَفْسُهُ فَيَرْجِعُ، فَإِذَا طَالَتْ عَلَيْهِ فَتْرَةُ الْوَحْىِ غَدَا لِمِثْلِ ذَلِكَ، فَإِذَا أَوْفَى بِذِرْوَةِ جَبَلٍ تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ
অর্থ: এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন (নাউযুবিল্লাহ), তখনই হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনার সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিঃসন্দেহে আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এতে উনার অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন……….।”
নাস্তিকরা এই বর্ণনা দিয়ে তাদের নিকৃষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে বলে থাকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
উপরোক্ত রেওয়ায়েত সম্পর্কে বলা হয়েছে,
بهذه الرواية وزيادتها، طعن أعداء السنة والسيرة العطرة قديماً وحديثاً فى المحدثين زاعمين أن فى هذه الرواية طعن فى نبوة رسول الله – صلى الله عليه وسلم – وعصمته
অর্থ: এই রেওয়ায়েত খানা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পবিত্র সুন্নাহ, সিরাত ও পবিত্রতার বিরুদ্ধে এর আক্রমণ সীমা অতিক্রম করেছ। পরবর্তী হাদীছ শরীফ বিশারদগণ এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন এই বর্ণনা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নবুওওয়াত ও পবিত্রতার সাথে সাংঘর্ষিক।” (রদ্দু শুবহাত হাওলু ওয়া ইছমাতু লি’ন্নাবীয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/৩০৪)
এই বর্ধিত অংশ যা বুখারী শরীফ উনার এই অংশ ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি। পরবর্তী অনেক মুহাদ্দিছ রহমতুল্লাহি আলাইহি منقطع مرسل বলে উল্লেখ করেছেন। সনদের ব্যাপক বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এমন নিঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন বর্ণনা যা স্পষ্ট পবিত্র শান উনার খিলাফ তা কখনোই গ্রহণীয় হতে পারে না। বরং এটি একটি মাওজু বর্ণনা। কোন এক রাবীর কারনে এই বর্ননাটি বৃদ্ধি পেয়ে কিতাবে ঢুকে গেছে।
প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, হাকীমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, জামিউল ইলিম ওয়াল হিকাম, জামিউল আলক্বাব, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সকল বদ আক্বীদা থেকে দুনিয়াবাসীকে হিফাজত করছেন। সেই সাথে বিশুদ্ধতম আক্বীদা হাদীয়া করছেন। দুনিয়ার সকলের জন্য ফরয হচ্ছে নিজের ঈমান আমল হিফাজত করতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নুরুদ দারাজাত মুবারকে নিজেকে বিলীন করে দেয়া।
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার আমল ব্যতীত মুখেমুখে মুহব্বত করলে কখনো কামিয়াবী অর্জন করা সম্ভব নয়
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের প্রধান ও একমাত্র মহান মাধ্যম হচ্ছেন সম্মানিত সুন্নত মুবারক।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এ সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা ক্ষমা করে দিবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়িয়ে ধরো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাকো।” (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللَّهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ, ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ, فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ, وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ, وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ, وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ”
হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নিশ্চয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার পুর্বে যখনই কোন জাতির মাঝে হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেছেন তখনই উম্মাতের মধ্যে উনাদের এমন হাওয়ারী ও সাথী দিয়েছেন, যারা উনাদের সুন্নত মুবারক অনুসরণ করে চলতেন, নির্দেশ মুবারক অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। অনন্তর তাদের পরে এমন সব লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যারা মুখে যা বলে বেড়াত কাজে তা পরিণত করত না, আর সেসব কর্ম সস্পাদন করত যেগুলোর জন্য তারা আদিষ্ট ছিল না। এদের বিরুদ্ধে যারা হাত দ্বারা জিহাদ করবে, তারা মুমিন; যারা এদের বিরুদ্ধে মুখের কথা দ্বারা জিহাদ করবে, তারাও মুমিন এবং যারা এদের বিরুদ্ধে অন্তরে (ঘূণা পোষণদ্বারা) জিহাদ করবে তারাও মুমিন। এর বাইরে সরিষার দানার পরিমাণেও ঈমান নেই। (পবিত্র মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলো, সে যেন আমাকেই মুহব্বত করলো আর যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করলো, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারকগুলি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পালন করতে হবে। আর উনার সুন্নত মুবারক যে আঁকড়িয়ে ধরবে তার জন্য বিশেষ মর্যাদা রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهُ أَجْرِ مِائَةُ شَهِيد-
”অর্থ: “আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি ফিতনা-ফাসাদের যামানায় একটিমাত্র সুন্নত মুবারক উনাকে আঁকড়ে ধরবে, সে একশত শহীদ উনার ছাওয়াব লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ!
এখন আমরা জানি, একজন শহীদ উনার ছাওয়াব অনেক। তাহলে একশত শহীদ উনাদের সওয়াব তো আরো অধিক। এখন আমরা যদি একশত শহীদ উনাদের ছাওয়াব পেতে চাই, তাহলে আমাদেরকে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে। আর সুন্নত মুবারক উনাকে অনুসরণের দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে জান্নাতে অবস্থানের সৌভাগ্য লাভ করা যায়। সুবহানাল্লাহ! আর সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণে আমল করলে সেই আমলের অনেক ফযীলত রয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
সমস্ত ক্বায়িনাতের আমল যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর পবিত্র সুন্নত মুবারক যদি অপর পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে সুন্নত মুবারক উনার পাল্লা ওজনে বেশি ভারী হবে। সুবহানাল্লাহ!
শুধু তাই নয়, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সুন্নত মুবারক উনাদের অনেক ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণিত রয়েছে সুন্নত মুবারক উনাদেরকে অনুসরণের ফলে
(১) রহমত লাভ করা যায়।
(২) হিদায়েত লাভ করা যায়।
(৩) সবকাজে সফলতা অর্জন করা যায়।
(৪) একশত শহীদ উনাদের ছাওয়াব লাভ করা যায়।
(৫) সুমহান জান্নাত নসীব হয়।
(৬) মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিল করা যায়। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের প্রধান ও একমাত্র মহান মাধ্যম হচ্ছেন সম্মানিত সুন্নত মুবারক। অর্থাৎ সুন্নত উনাকে আদায় করা মানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুকরণ অনুসরণ করা, মূলত, সুন্নত উনাকে পালন করার নামই সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করা। আর যে ব্যক্তি সুন্নত উনাকে মুহব্বত করতে পারবে সে অবশ্যই যিনি মুহব্বতের কেন্দ্রস্থল, যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনাকে মুহব্বত করতে পারবে।
অতএব, একজন বান্দা-বান্দীর জন্য দুনিয়ার সকল আমলের চেয়ে একটি সুন্নত মুবারক উনার ফযীলত লক্ষ-কোটি গুণেরও বেশি। পাশাপাশি নিয়ামত লাভের অন্যতম মহান মাধ্যম। তাই সুন্নত মুবারক উনার আমল ব্যতীত মুখেমুখে মুহব্বত করলে কখনো কামিয়াবী অর্জন করা সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে