নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই একমাত্র অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।


আজকাল মুসলমানদেরকে দেখা যায় তারা অনেক ক্ষেত্রেই বেদ্বীন-বদদ্বীন, ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক ও ফাসিক-ফুজ্জারদেরকে অনুসরণ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছো? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তিনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনাদে আহমদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ্ ইত্যাদি।
এখন ফিকিরের বিষয় হলো- ইহুদীদের নবী হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার জন্যও যদি আখিরী নবী, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করা ফরয হয় তবে আমাদের জন্য উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করার গুরুত্ব কতটুকু রয়েছে তা আমাদেরকে জানতে ও বুঝতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত কর বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ কর। মহান আল্লাহ পাক তোমাদের মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা ক্ষমা করবেন। আর মহান আল্লাহ পাক অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” অর্থাৎ এক কথায় হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই পুঙ্খানুপুঙ্খ (ইতায়াত) অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। কারণ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করার অর্থই হলো মহান আল্লাহ পাক উনার অনুসরণ করা। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করলো, সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনারই অনুসরণ করলো।” (সুবহানাল্লাহ)

তাই কোন মুসলমানের জন্য কস্মিনকালেও কোন কাফির, মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, মজুসী, হিন্দু-বৌদ্ধ তথা কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নায়ক-নায়িকা, বাদক-বাদিকা, গায়ক-গায়িকা, খেলোয়ার সে যে কেউ হোক না কেন এবং দুনিয়াবী দৃষ্টিতে ছূরতান যত যোগ্যতা সম্পন্নই মনে করা হোক না কেন তাকে কোনো অবস্থাতেই অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয হবে না বরং তা সম্পূর্ণরূপেই হারাম ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ হবে।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জের সময়, আরাফাতের ময়দানে লক্ষধিক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ উনাদের উপস্থিতিতে বলেন, হযরত আনাস বিন মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে গেলাম, যতদিন তোমরা এ দু’টি জিনিস আঁকড়িয়ে থাকবে, ততদিন তোমরা গুমরাহ্ হবেনা। একটি হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব, আর দ্বিতীয়টি হলো- আমার সুন্নত।”

মূলকথা হলো- নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই একমাত্র অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। অর্থাৎ প্রতি ক্ষেত্রে এবং সব বিষয়ে উনাকেই অনুসরণ-অনুকরণ করা উম্মতের জন্য ফরয। কাজেই কোন মুসলমানের জন্য কস্মিনকালেও কোন কাফির, মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, মজুসী, হিন্দু-বৌদ্ধ তথা কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নায়ক-নায়িকা, বাদক-বাদিকা, গায়ক-গায়িকা, খেলোয়ার সে যে কেউ হোক না কেন এবং দুনিয়াবী দৃষ্টিতে ছূরতান যত যোগ্যতা সম্পন্নই মনে করা হোক না কেন তাকে কোনো অবস্থাতেই অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয হবে না বরং তা সম্পূর্ণরূপেই হারাম, নাজায়িয ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ হবে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+