হযরত নূহ আলাইহিস সালাম এর ইতিহাস


হযরত  নূহ আলাইহিস সালাম এর সম্প্রদায়ের লোকেরা ইতিপূর্বে ঈমানদার ছিলেন, এক আল্লাহর ইবাদত করত, পরকালে বিশ্বাসী ছিলেন, তারা ভাল কাজ করতেন, সে সব লোক মারা গেলেন। লোকজন তাদের সততা ও আখলাকের কারণে চিন্তিত হলেন। তারা সে সব লোকের মূর্তি বানালো, তারা তাদের নামকরণ করল: ওয়াদ, সুয়া’হ, ইয়াগুছ, ইয়াউক, নসর ইত্যাদি। লোকজন এ সব মূর্তির কথা ভুলে গেল, তারা এগুলোকে সে সব মৃত্যু সৎ লোকের চিহ্ন হিসেবে গণ্য করতে লাগল। শহরের লোকজন ঐ সব মৃত্যু ব্যক্তিদের সম্মানে এসব চিত্রগুলোকে সম্মান করতে লাগল। এভাবে যুগের পর যুগ চলতে লাগল, এক সময় পিতাদের মৃত্যু হলো ও সন্তানেরা বৃদ্ধ হলো, তারা এসব মূর্তিগুলোকে আরো সম্মান করে নিজেদের কাছে নিয়ে এলো, তাদের সামনে রাখল, এভাবে মূর্তিগুলো ঐ সম্প্রদায়ের নিকট অনেক সম্মানের পাত্রে পরিণত হল। এরপর পরবর্তী প্রজন্ম এলো, তারা এসবের ইবাদত করা শুরু করল, বলতে লাগল যে, এসব ইলাহদের সিজদা করতে হয়, তাদের সামনে নতজানু হতে হয়, ফলে তারা সে সবের ইবাদত করত। এভাবেই তাদের অনেকে পথভ্রষ্ট হলো।

এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাদের নিকট হযরত নূহ (আঃ) কে পাঠালেন, তিনি তাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, মূর্তির পূজাঁ করতে নিষেধ করলেন, তাদেরকে এক আল্লাহর দিকে আহবান করলেন, নূহআলাইহিস সালাম   জাতির কাছে এসে বললেন: তিনি বলেছিলেন হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ নেই। (মু’মিনুন: ২৩)

লোকেরা তাঁকে মিথ্যারোপ করল, তিনি তাদেরকে আল্লাহর আযব থেকে সতর্ক করলেন, তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি। (শুয়ারা: ১৩৫)

যখন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম   নিশ্চিত হলেন যে, তার জাতি যুক্তিসংগত দাওয়াত গ্রহণ করেবেনা, তারা হেদায়েতের পথে চলবেনা, তখন তিনি সীমালংঘনকারীদের থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে দোয়া করতে লাগলেন। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম  বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। (শুয়ারা: ১১৭) অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন। (শুয়ারা: ১১৮)

তখন আল্লাহ তায়া’লা তাকে কিস্তি তৈরি করতে বললেন। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম  যখন ঈমানদার ও প্রত্যেক প্রাণী থেকে একজোড়া করে কিস্তিতে আরোহণ করলেন তখন আকাশ থেকে মুশল ধারে বৃষ্টি ঝড়তে শুরু করল, জমিন থেকে পানি নির্গত হতে লাগল। জমিন যখন পানিতে একেবারেই ডুবে গেল, তখন সব কাফির ধ্বংস হলো।

এরপরে জমিন তার পানি শুকিয়ে নিল, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম  ও ঈমানদারেরা কিস্তি থেকে নামল, তারা শহর গড়ে তুলল, গাছপালা রোপণ করল, যেসব পশুপাখি তাদের সাথে ছিল সেগুলো ছেড়ে দিল, এভাবে জমিন আবাদ করা শুরু করল, লোকজন সন্তান সন্তুতি জন্ম দেয়া শুরু করল।

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. চমৎকার পোষ্ট। তবে আলাইহিস সালাম বাক্যটি সম্পূর্ণ লিখাটা আদব Present

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে