নেক কাজে দান করার গুরুত্ব এবং ফযীলত


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে একটি নেক কাজ করবে, সে তার দশগুণ পাবে।’ (সূরা আনয়াম : আয়াত শরীফ ১৬০)

কেউ কোনো নেক কাজের নিয়ত করা মাত্র তার জন্যে একটি নেকী লেখা হয়- নেক কাজটি করুক বা না করুক।

আর যখন নেক কাজটি সম্পাদন করে তখন তার আমলনামায় দশটি নেকী লেখা হয়।

এছাড়া কাজের ও নিয়তের খুলূছিয়াত বা বিশুদ্ধতা অনুযায়ী সাতশত, এমনকি তারও বেশি নেকী বা ছওয়াব লাভ করে থাকে।

যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “কেউ কোনো নেক কাজের নিয়ত করা মাত্র তার জন্যে একটি নেকী লেখা হয়- নেক কাজটি করুক বা না করুক। আর যখন নেক কাজটি সম্পাদন করে তখন তার আমলনামায় দশটি নেকী ও নিয়তের লেখা হয়। এছাড়া কাজের খুলূছিয়াত বা বিশুদ্ধতা অনুযায়ী সাতশত, এমনকি তারও বেশি নেকী বা ছওয়াব লাভ করে থাকে।”

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমল দশগুণ হতে সাতশতগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়ে থাকে।’ (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

বান্দার প্রতিটি নেক কাজই দশ থেকে সাতশতগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়; সেটা নামায হোক, যাকাত, ফিতরা, মানত ইত্যাদি ফরয-ওয়াজিব কিংবা নফল দান-ছদকা হোক, রোযা হোক, হজ্জ-কুরবানী যাই হোক না কেন।

এ প্রসঙ্গে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দান সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে যে, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, খলীফাতুল মুসলিমীন, আফজালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে একবার মদীনা শরীফ-এ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। বাইতুল মালেও কোনো খাদ্য ছিলো না। ঠিক সেই মুহূর্তে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার একটি বাণিজ্য কাফিলা এক হাজার উট বোঝাই করা খাদ্য নিয়ে মদীনা শরীফ-এ উপস্থিত হলেন। ব্যবসায়ী লোকজন হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট আসতে লাগলেন খাদ্য কিনে নেয়ার জন্য। কেউ স্বাভাবিক দামে, কেউ দ্বিগুণ দামে, কেউ তিনগুণ, চারগুণ দামেও খাদ্য কেনার জন্য প্রস্তুত। তবুও তিনি তাদের নিকট খাদ্য দিতে রাজি হলেন না। তিনি বললেন, আমার এ খাদ্য নিতে হলে কমপক্ষে দশগুণ মূল্য দিতে হবে। কারণ আপনাদের আগে একজন আমাকে দশগুণ মূল্য দেয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছেন। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের আগে কে এত অধিক মূল্যে খাদ্যদ্রব্য খরিদ করার কথা বললেন! মদীনা শরীফ-এ তো আমরাই বড় ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা আরো আলোচনা করলেন যে, হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি পূর্বে তো কখনো বেশি মূল্যের জন্য দর কষাকষি করেননি। তবে আজকে কেন করছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর ব্যবসায়ীরা বললেন, ঠিক আছে, যিনি আপনাকে বেশি মূল্য দেন উনাকেই আপনি মাল দিয়ে দিন। হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে খবর পাঠালেন যে, হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার সমস্ত খাদ্যদ্রব্য অর্থাৎ এক হাজার উট বোঝাই খাদ্য, যা সিরিয়া থেকে এসেছে, তা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য হাদিয়া করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন খলীফা উনার তরফ থেকে সমস্ত খাদ্যগুলো মদীনা শরীফ-এ বণ্টন করে দেয়া হয় এবং তাতে দুর্ভিক্ষ দূর হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

 

হযরত উছমান আলাইহিস সালাম তিনি যেদিন এই হাদিয়া করলেন সে রাত্রিতে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবুজ রং-এর খুব দামী পোশাক পরিধান করতঃ বোরাকে আরোহণ করে কোথাও যাচ্ছেন। এটা দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- আপনি কি জানেন না, আজ হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি যে মদীনা শরীফবাসীকে এক হাজার উট বোঝাই খাদ্য হাদিয়া করেছেন, যার কারণে মদীনা শরীফ-এর দুর্ভিক্ষ দূর হয়ে গেছে; তাই উনার হাদিয়ার কারণে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আজকে বেহেশতে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেছেন। আমি সেই মেহমানদারীতে শরীক হওয়ার জন্য যাচ্ছি।” সুবহানাল্লাহ!

কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘যা তোমার নিকট আছে তা শেষ হয়ে যাবে আর যা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আছে তা বাকি থাকবে।’ সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, একটি বকরী যবাই করা হলো এবং মেহমান-মুসাফির উনাদের হাদিয়া দেয়া হলো। এরপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, উহার কতটুকু আছে? উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, উহার একটি রান ব্যতীত কিছু বাকি নেই। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, উহার সবই বাকি আছে ঐ রানটি ব্যতীত।’ (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পথে যা ব্যয় করা হয়, তা মহান আল্লাহ পাক তিনি পরকালের জন্য জমা করে রাখেন এবং জমাকৃত মালের বদৌলতে দানকারী নাজাত ও ফযীলত লাভ করবে।

দান হচ্ছে মু’মিন ব্যক্তির অনন্য বৈশিষ্ট্য। কাজেই প্রত্যেক মু’মিন পুরুষ ও মহিলার উচিত- সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিয়া ও দান-ছদক্বা করা; হাদিয়া হচ্ছে যা মুহব্বতের কারণে দেয়া হয়। আর ফরয-ওয়াজিব দান-ছদক্বা তো অবশ্যই দিতে হবে বা করতে হবে। এছাড়া নফল দান-ছদক্বাও প্রত্যেকের সাধ্য সামর্থ্য অনুযায়ী করা উচিত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+