ন্যায়পরায়ন বাদশাহ ( 2)


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে সুবিচার ও ইহ্সানের আদেশ দিতেছেন।”উল্লেখিত আদেশ মুবারক উনারব্যতিক্রম হলে, বাদশাহকে ক্বিয়ামতের দিন কঠিন জবাবদীহি করতে হবে। হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে। “প্রত্যেক রাখাল তার পশুপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। প্রত্যেক মানুষ তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
বাদশাহ নওশিরওয়াঁ সচ্চরিত্রবান হওয়া ছাড়াও পূর্ববর্তী শাসকদের উপদেশাবলী পাঠ করতেন, উনাদের কাহিনী শ্রবন করতেন এবং উনাদের অনুসৃত নীতি অনুযায়ী চলতেন। একদিন উনার উজির ইউনানকে বললেন, পূর্ববর্তী শাসন কর্তাদের জীবন চরিত্র সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন। জবাবে ইউনান বলেন। আমি কি এক কথায় উনাদের গুণাবলী বর্ণনা করব, না দুই কথায়, না তিন কথায় বর্ণনা করব? বাদশাহ নওশিরওয়াঁ বলেন। তিন কথায় বলুন। ইউনান বলেন। আমি উহাদের ব্যস্ততার কোন কাজে কর্মে মিথ্যা কিছু দেখি নাই এবং উনাদের অজ্ঞ ও কর্মবিমুখ হতে দেখি নাই। বাদশাহ বলেন- দুই কথায় বলুন- উজির বলেন- তাঁরা সব সময় ভালোর দিকে এগিয়ে যেতেন এবং মন্দ হতে আত্মরক্ষা করতেন। বাদশাহ বলেন- এক কথায় বলুন- উজির বলেন- প্রজাদের চাইতে নিজের উপর উনাদের শাসন অধিক কার্যকরী ছিল। আমিরুল মো’মেনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি এমন নীতিবান বিচারক ছিলেন যে, নিজের পুত্রের উপরও শরীয়তের বিধান কার্যকরী করেছেন।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন। “বাদশাহ একদিন সুবিচার সত্তর বৎসর ইবাদতের চাইতে উত্তম।” তিনি আরও বলেন- “অত্যাচারিতের প্রতি সুবিচার করা বিবেকের যাকাত।” বাদশাহ প্রজাদেরকে সুবিচার প্রদান করবে। কেননা প্রজারা বাদশাহ কাছ হতে নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা লাভ করে শয়ন করতে পারলে বাদশাহও কবরে নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে শয়ন করতে পারবেন। কারণ সেদিন সুবিচারের বিনিময়ে সুবিচার আর অবিচারের বিনময় অবিচারই লাভ হবে। একজন বাদশাহ রাজত্বের অধিকারী তখনই হতে পারে, যখন উনার মধ্যে জ্ঞান, সুবিচার, দানশীলতা, দয়াশীলতা, কোমলতা এবং সমীচীন অন্যবিদ গুণাবলী থাকে।

কেননা বাদশাহ জন্য উদারতা, আত্মার পবিত্রতা, সত্যিকার সম্পদ, বুদ্ধি, বিবেক, জ্ঞানই মূলতঃ উনার রাজত্বের পরিচয় জ্ঞাপন করে। জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন ধরণের বাদশাহ অধিক পবিত্রতার অধিকারী? তিনি জবাবে বলেন। যাকে নিষ্পাপ নিরাপরাধ ব্যক্তিরা ভয় পায়না, অপরাধীরা ভয় পায়। বলা হয়ে থাকে বাদশাহদের জন্য চারটি জিনিস অবশ্য কর্তব্যের শামিল। নির্লজ্জদের রাজত্ব হতে বিতাড়ন জ্ঞানীদের দ্বারা পরিপূর্ণকরন, জ্ঞান। বিজ্ঞানে পারদর্শীদের মর্যাদা বিধান এবং নিন্দনীয় কাজ হতে দেশকে পাক-সাফ করণ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে