ন্যায়পরায়ন বাদশাহ -১


ন্যায়পরায়ন বাদশাহ সেই ব্যক্তি, যে সৃষ্টি জীবের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করে এবং অন্যায়-অবিচারকে ভয় করে। বাদশাহ যদি ন্যায় পরায়ন হন, তবে পৃথিবী আবাদ থাকবে এবং প্রজারা নির্ভয়ে জীবিকা নির্বাহ করবে।যে যেমন কাজ করে সে তেমনই আলোচিত বা সমালোচিত হয়।

সুতরাং বাদশাহের এ ব্যাপারে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া একান্তভাবে অপরিহার্য, যেন তাঁরা সুনাম বজায় রেখে ইহলোক ত্যাগ করতে পারেন এবং বদনাম যেন উনাদের সুনামকে নষ্ট করতে না পারে। , অতপর জ্ঞানীগণের উচিত তারা যেন পূর্ব ন্যায় পরায়ন বাদশাহ্গণের জীবন সম্পর্কে পড়াশুনা করেন এবং এ নশ্বর জগত সম্পর্কে গবেষণা করেন। কেননা

মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করেছেন, উনার বরকতে অবিশ্বাসের রাজ্য বিশ্বাসের রাজ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি উনার শরীয়ত বা জীবন ধারনকে দুনিয়াতে পরিপূর্ণভাবে সমৃদ্ধশালী করেছেন।

সুতরাং যে দেশের বাদশার ন্যায় বিচার নাই সেখানে অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার ইত্যাদি প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে রাজত্ব ক্ষতির সম্মুখীন হয়, অর্থনৈতিক অবস্থা দুরাবস্থার সম্মুখীন হয় এবং জনগণের শান্তি বিঘ্নিত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ঘোষণা করেন। “মাপে কম বেশী করোনা।” হযরত কাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন। “ইহার ভাবই হচ্ছে ন্যায়নিষ্ঠা।” মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন। “হে বণী আদম! তুমি তোমার নিজের স্বার্থে যেমন ন্যায়নিষ্ঠা পছন্দ কর, ঠিক অপরের স্বার্থে অনুরূপ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত কর।”

কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমান কোন বাদশাকে এই আয়াত শরীফ উনার আমল করতে দেখা জায়না। কারণ পূর্বের বাদশাহগন কোন না কোন হ্বক্কানী আল্লাহওয়ালা শায়েখ উনাদের মুরিদ ছিলেন। যার কারণে শায়েখ আলাইহাস সালাম উনাদের ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ নিয়ে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এখন কোন বাদশাহই হ্বক্কানী ওলিআল্লাহ উনাদের নিকটবর্তী হন না যার কারণে তারা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনা। তাই বর্তমান বাদশাহগন দেশ পরিচালোনার ক্ষেত্রে চরম অজ্ঞ ও মূর্খ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে