পঞ্চদশ শতকের মহামান্য মুজাদ্দিদ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল শান মুবারক সম্পর্কে অবগতি এবং ইমামে রব্বানী সাইয়্যিদুনা হযরত শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “সত্য এসেছে, মিথ্যা দূরীভূত হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা দূরীভূত হওয়ার যোগ্য।” এ পবিত্র আয়াত শরীফ যুগে যুগে যেসব মহান ওলীআল্লাহ উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক উনার বাস্তবরূপে প্রতিফলিত হয়েছে, উনাদের মাঝে ক্বইয়্যুমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত, বদরুদ্দিন শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা মুবারক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদিকে প্রবল প্রতাপশালী আকবরী রাজশক্তির ‘দ্বীনে ইলাহী’ কুফরী ফিতনা, অপরদিকে নামধারী তথাকথিত মশহুর উলামা তথা উলামায়ে ‘সূ’ গোষ্ঠীর কুতৎপরতা- সবকিছুই তিনি নির্মূল করেছিলেন। বাতিল ও বিদয়াতকে মিটিয়ে দিয়েছিলেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জাগরণ ঘটিয়েছিলেন, সুন্নতের পুনঃপ্রচলন করেছিলেন। তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে লক্বব মুবারক দিয়েছিলেন- ‘মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।’ সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র মকতুবাদ শরীফ) ক্বইয়্যুমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত, বদরুদ্দিন শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১০৩৪ হিজরী সনের সুমহান ২৮ ছফর শরীফ ৬৩ বছর বয়স মুবারকে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অর্থাৎ তিনি খাছ সুন্নতী বয়স মুবারক পেয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! সে হিসেবে আগামীকাল উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সঙ্গতকারণেই উনার ফযীলত মুবারক সম্পর্কে অবগতি এবং উনার মূল্যায়ন রহমত মুবারক ও নিয়ামত মুবারক হাছিলের কারণ। স্মর্তব্য, গতানুগতিক রাজ ক্ষমতার অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে উনার হিদায়েতের কাজ চালিত হয়নি। এতদুদ্দেশ্যে তিনি করেননি কোনো জনসভা, মিটিং-মিছিল অথবা জ্বালাও-পোড়াওয়ের সংগ্রাম। যদিও কথিত সে সংগ্রামে সফল হবার যথেষ্ট জনশক্তি উনার ছিল, তবে এ শক্তিকে তিনি গাইরুল্লাহজনিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত করেননি। করেছেন খুলুছিয়ত উনার পথে, ইছলাহ উনার পথে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার রাহে। বাদশাহর দরবারে এদের সংখ্যা ছিল এক নিয়ামক শক্তি। উনাদের তাছীরে বাদশাহ জাহাঙ্গীর হন অনুপ্রাণিত এবং সেই সাথে ক্বইয়্যুমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত, বদরুদ্দিন শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুরক্ত। আর স্বভাবতই এই আবহর প্রেক্ষাপটে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রথাসমূহ হয় পুনরুজ্জীবিত। সন্তোষজনকভাবে না হলেও ক্বইয়্যুমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত, বদরুদ্দিন শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আলোচনা অনেক মহলই করে। এমনকি বর্তমানে খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতী গোষ্ঠী তথা উলামায়ে ‘সূ’রাও উনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে থাকে। কিন্তু তাদের বক্র দিল, পর্দা ঢাকা দিল, অন্ধ দিল; সর্বোপরি অসুস্থ অন্তরের কারণে তারা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয় যে- ক্বইয়্যুমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত, বদরুদ্দিন শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাজদীদকালে আবুল ফজল, ফৈজী, মোল্লা মোবারক নাগৌরী প্রমুখ উলামায়ে ‘সূ’রা যে কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করেছিল, বর্তমানে তারাও ঠিক একই ভূমিকায় অবতীর্ণ রয়েছে। নাউযূবিল্লাহ! হাক্বীক্বতে তারাও উলামায়ে ‘সূ’। তারাও প্রবর্তন করছে আরেক ‘দ্বীন-ই শয়তানী’। কমিউনিস্ট কমরেড মাওসেতুংয়ের লংমার্চ, গান্ধীর হরতাল, খ্রিস্টানদের মৌলবাদ, ইহুদী-নাছারার ব্লাসফেমী আইন, গণতন্ত্র, নির্বাচন ইত্যাদির সমন্বয়ে, বর্তমানে উলামায়ে ‘সূ’দের তথাকথিত ইসলামী আন্দোলন মূলত বিভিন্ন ধর্মের গুমরাহী মতবাদের সমাহারে বাদশাহ আকবরের কুফরী দ্বীন-ই ইলাহীরই এক নতুন সংস্করণ। যাকে আখ্যা দিতে হয়- ‘দ্বীন-ই শয়তানী’। ঈমানের স্বার্থে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার রাহে এসব উলামায়ে ‘সূ’দের থেকে তাই আমাদের হতে হবে বিশেষ সাবধান। মূলত, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র আলোচনা আমাদেরকে একজন সুমহান মুজাদ্দিদ আলাইহিস সালাম উনার আগমন কাল, উনার কাজের প্রেক্ষাপট ও নীতি বা কৌশল সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দান করে। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক ফরমান, “আমি সময়কে মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঘুরিয়ে থাকি।” আইয়্যামে জাহিলিয়াতের পরেই এসেছিল পবিত্র খতমে নুবুওওয়াত উনার নিয়ামত মুবারক। তদ্রƒপ যুগে যুগে বেশরা-বিদয়াতের ঘনঘটার পরই আবির্ভূত হয় মুজাদ্দিয়ত উনার সুমহান সওগাত। উল্লেখ্য, এ ধারাবাহিকতায় শতকের মুজাদ্দিদ থেকে সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ থেকে পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদ উনি বেমেছাল মহামহিম এবং উনিই “সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম” তথা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ! এতদ্বপ্রেক্ষিতে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে হয় যে, ১৪৩৮ হিজরী সন হিসেবে এ সময় হচ্ছে বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকের প্রথমার্ধ, যা হিজরী শতাব্দীর প্রারম্ভকালের অংশ। যে সময়টা সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ উনার চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ বড় পঞ্চদশ শতকের মুজাদ্দিদ তথা পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ উনার তাজদীদকাল। উনার পরে এতো অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন আর কোনো মুজাদ্দিদ আসবেন না এবং উনার পূর্বে পঞ্চদশ শতকের প্রেক্ষাপটও ছিল না, তাই এত বড় ও মহামহিম মুজাদ্দিদ উনার অবতারণাও ছিল না। সুবহানাল্লাহ! আজ সারা বিশ্বে মুসলমানদের নতজানু ও পর্যুদস্ত অবস্থা, আমেরিকা, ইউরোপ তথা ইহুদী খ্রিস্টানের নির্মম অত্যাচার ও আগ্রাসন; ধর্মব্যবসায়ী নামধারী শাইখুল হাদীছ, মুফতী, মাওলানা, পীর ছাহেবদের পদস্খলন ও বিবিধ অপতৎপরতা আর বিজাতীয় বিধর্মীয় সংস্কৃতিতে মগ্ন, সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি, গান-বাজনা, অশ্লীলতা ও অরাজকতার আষ্টেপৃষ্ঠে জরাগ্রস্ত, আত্মবিস্মৃত, আমলহীন মুসলমানের গুনাহর কারণে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস, দুঃসহ হয়ে পড়ছে চারপাশের পরিবেশ। থেকে থেকে যেন ধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সে পবিত্র আয়াত শরীফ- “যারা বলে হে আমাদের প্রতিপালক এ জনপদ যার অধিবাসী যালিম, তা হতে আমাদেরকে অন্যত্র নিয়ে যান, আপনার নিকট থেকে কাউকে আমাদের অভিভাবক করুন এবং আপনার নিকট থেকে কাউকে আমাদের সাহায্যার্থে প্রেরণ করুন।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৫) হতাশাগ্রস্ত মুসলমানগণ উনাদের এ দোয়া যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করবেন তা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে প্রমাণ রয়েছে। পবিত্র ‘আবূ দাঊদ’ শরীফ উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক ফরমান, “নিশ্চয়ই এই উম্মতের মাঝে প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি একজন মুজাদ্দিদ পাঠাবেন। যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে অনুপ্রবেশকারী সব বিদয়াত-বেশরাকে নির্মূল করবেন। অর্থাৎ শাশ্বত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে উঁচ্চে তুলে ধরবেন।” এতদ্বপ্রেক্ষিতে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে হয় যে, শুধু সমষ্টিকভাবে নয়; ব্যক্তিগতভাবেও প্রত্যেক মুসলমানের উচিত- বর্তমান যামানায় স্ব স্ব দায়িত্ব হিসেবে যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারক তলব করা। যার স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আরো অনেক দলীল মুবারক মওজুদ রয়েছে। যা মূলত ফরয-ওয়াজিবের মধ্যে পড়ে। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে “যে যামানার মহান ইমাম (মুজাদ্দিদুয যামান) উনাকে চিনলো না, সে যেন জাহিলিয়াতের মধ্যে ইন্তিকাল করলো।” (পবিত্র কানযুল উম্মাল শরীফ) প্রসঙ্গত, পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের সামগ্রিক নির্দেশনায় আমরা নির্দ্বিধায় ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে বাধ্য যে, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, রাহবারে আ’যম, গাউছুল আ’যম, আওলাদে রসূল, আস সাফফাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের নির্দেশিত সুমহান পঞ্চদশ শতকের মহামান্য ‘মুজাদ্দিদ’ তথা “মুজাদ্দিদে আ’যম” আলাইহিস সালাম। খালিক্ব মালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের মহামহিম সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের নেক ছোহবত মুবারক, নিসবত মুবারক, তায়াল্লুক মুবারক, মুহব্বত মুবারক ও সন্তুষ্টি মুবারক নছীব করুন। নিয়ামত মুবারকসমূহ পুরা করুন এবং বরদাশত করার তাওফীক দান করুন। (আমীন)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে