পবিত্র আশুরা শরীফ পালনের মধ্যে মুসলমানদের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত


পবিত্র আশুরা যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বান্দাদের প্রতি অফুরন্ত দয়া ও ইহসান উনার নিদর্শন। কারণ পবিত্র আশুরা বান্দার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুক্তি দানের উছিলা। মানুষ মাত্রেই সবসময়ই রুজী- রোজগার নিয়ে পেরেশানীতে থাকে। আর এই পবিত্র আশুরা শরীফ মানুষকে রুজি-রোজগার বিষয়ে মুক্তি দিয়ে দেয়।
হাদীস শরীফ মুবারকে বর্ণিত রয়েছে, পবিত্র আশুরা শরীফের দিন কেউ যদি তার পরিবারের জন্য ভাল খাবারের ব্যবস্থা করে তাহলে আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে সারা বছর ভাল খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সুবহানাল্লাহ। কেউ কেউ মনে করে থাকে ইংরেজি বা বাংলা নববর্ষের দিন ভাল খেলে সারা বছর খাওয়া যাবে – এটা কুফরী আকীদা, ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। মুসলমানদের জন্য নওরোজ পালন করা জায়েজ নেই। এরপর অসুখ-বিসুখ অসুস্থতা নিয়ে মানুষের পেরেশানী লেগেই থাকে। এ প্রসঙ্গেও পবিত্র আশুরা শরীফ উনার মধ্যে নাযাত রয়েছে। হাদীস শরীফ মুবারকে বর্ণিত রয়েছে, পবিত্র আশুরা শরীফের দিন কেউ যদি গোসল করে তাহলে পরবর্তী এক বছর ঐ ব্যক্তির মৃত্যুরোগ ব্যতিত কোন কঠিন অসুখ বিসুখ হবেনা। সুবহানাল্লাহ্।
মানুষ অতীতের গোনাহখতা নিয়ে হতাশার মধ্যে থাকতে পারে। এই ব্যাপারে হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি পবিত্র মুর্হরম মাস উনাকে তথা উনার মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন, সুবহানাল্লাহ। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রোজাদারকে (পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দুটি রোজা রাখতে হয়) পুর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেন এবং ষাট বৎসর রাতে ইবাদত বন্দেগী ও দিনে রোজা রাখার ফজিলত দান করেন।
অতএব দেখা যাচ্ছে যে, পবিত্র আশুরা শরীফ মানুষের অত্যাবশ্যক বিষয়গুলোর সুষ্ঠু ফয়সালা ও নাজাতের উছিলা স্বরূপ। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি যেন যামানার ইমাম, ইমামে আ‘যম, গাউছুল আ‘যম মামদুহ্ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার উছিলায় সবাইকে পবিত্র আশুরা শরীফ উনার যথাযথ আদব রক্ষা ও তাযীম-তাকরীম করার তৌফিক দান করেন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে