পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে পবিত্র যাকাত সম্পর্কিত আলোচনা!


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র যাকাত অর্থে যে সমস্ত শব্দ মুবারক এসেছে তার ব্যবহার প্রসঙ্গ :
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মোট ৩২ স্থানে পবিত্র যাকাত উনার কথা এসেছে, তন্মধ্যে ২৬ স্থানে সরাসরি পবিত্র নামায উনার সাথে সাথেই, ২ স্থানে পবিত্র অর্থে এবং ৪ স্থানে স্বতন্ত্রভাবে পবিত্র যাকাত উনার কথা উল্লেখ আছে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, যেখানে কোন বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি শুধুমাত্র একবার আদেশ মুবারক করলেই তা সমস্ত কায়িনাতের জন্য পালন করা ফরযে আইনের উপর ফরয হয়ে যায়। সেখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ৩২ বার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র যাকাত উনার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। তাহলে পবিত্র যাকাত উনার গুরুত্ব কতখানি তা ফিকির করতে হবে। নি¤েœ এ বিষয়ে স্ববিস্তারে আলোচনা করা হলো-
পবিত্র যাকাত শব্দখানা পবিত্র ছলাত উনার সাথে সাথেই উল্লেখ রয়েছে :
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র যাকাত শব্দখানা পবিত্র ছলাত উনার সাথে সাথে উল্লেখ রয়েছে। যেমন-
وَيُقِيمُونَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَيُطِيعُونَ اللهَ وَرَ‌سُولَه
অর্থ : “আর তারা পবিত্র নামায কায়িম করে, পবিত্র যাকাত প্রদান করে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্য করে।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)
مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الاٰخِرِ‌ وَاَقَامَ الصَّلٰوةَ وَاٰتَى الزَّكٰوةَ.
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ও পরকালের প্রতি যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে এবং পবিত্র নামায কায়িম করে ও পবিত্র যাকাত প্রদান করে।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮)
فَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَآتُوا الزَّكٰوةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللهِ هُوَ مَوْلاكُمْ
অর্থ : “তবে তোমরা পবিত্র নামায কায়িম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান কর এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো, তিনিই তোমাদের মহান অভিভাবক।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৮)
لَئِنْ اَقَمْتُمُ الصَّلٰوةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكٰوةَ وَاٰمَنتُم بِرُ‌سُلِي وَعَزَّرْ‌تُـمُوهُمْ وَاَقْرَ‌ضْتُمُ اللهَ قَرْ‌ضًا حَسَنًا لاُكَفّرَ‌نَّ عَنكُمْ سَيّئَاتِكُمْ.
অর্থ : “অবশ্যই যদি তোমরা পবিত্র নামায কায়িম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান করো এবং আমার রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো ও উনাদের খেদমত মুবারক করো, আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে উত্তম ঋণ (করযে হাসানা) দান করো; অবশ্যই আমি তোমাদের পাপসমূহ দূর করে দিবো।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২)
وَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَاَطِيعُوا الرَّ‌سُولَ.
অর্থ : “আর তোমরা পবিত্র নামায কায়িম কর ও পবিত্র যাকাত প্রদান কর এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য কর।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
পবিত্র যাকাত মহিলাদেরকেও যে দিতে হবে সে সম্পর্কিত আয়াত শরীফ :
وَاَقِمْنَ الصَّلٰوةَ وَاٰتِينَ الزَّكٰوةَ وَاَطِعْنَ اللهَ وَرَ‌سُولَه ۚ
অর্থ : “আর তোমরা (মহিলারা) পবিত্র নামায কায়িম করো ও পবিত্র যাকাত প্রদান করো এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য কর।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
وَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَارْ‌كَعُوا مَعَ الرَّ‌ا كِعِينَ.
অর্থ : “আর তোমরা পবিত্র নামায কায়িম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান করো এবং রুকূকারী উনাদের সাথে রুকূ করো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৩)
وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ.
অর্থ : “আর তোমরা মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলো এবং পবিত্র নামায কায়িম করো ও পবিত্র যাকাত প্রদান করো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৩)
وَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ ۚ وَمَا تُقَدّمُوا لاَنفُسِكُم مّنْ خَيْرٍ‌ تَـجِدُوهُ عِندَ اللهِ ۗ
অর্থ : “আর তোমরা পবিত্র নামায কায়িম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান করো। তোমরা নিজের জন্য যা অগ্রে পাঠাবে তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পাবে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১০)
وَاَقَامَ الصَّلٰوةَ وَاٰتَى الزَّكٰوةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ اِذَا عٰهَدُوا ۖ
অর্থ : “আর তোমরা পবিত্র নামায কায়িম করে, পবিত্র যাকাত প্রদাণ করে এবং যারা মহান আল্লাহ পাক উনার নামে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে তা পূর্ণ করে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭৭)
وَاَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتَوُا الزَّكٰوةَ لَـهُمْ اَجْرُ‌هُمْ عِندَ رَ‌بّـهِمْ.
অর্থ : “আর তারা পবিত্র নামায কায়িম করে ও পবিত্র যাকাত প্রদান করে, তাদের জন্য বিনিময় রয়েছে তাদের রব তায়ালা উনার নিকট।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭৭)
اَلَـمْ تَرَ‌ اِلَى الَّذِيْنَ قِيْلَ لَـهُمْ كُفُّوا اَيْدِيَكُمْ وَاَقِيْمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ.
অর্থ : “তারা কী ওদের দেখেনা? যখন তাদের বলা হলো- তোমরা তোমাদের হস্ত সংবরণ করো, আর পবিত্র নামায কায়িম করো ও পবিত্র যাকাত প্রদান করো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৭)
وَالْمُقِيمِينَ الصَّلٰوةَ ۚ وَالْمُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَالْمُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الٰاخِرِ‌ اُولئِكَ سَنُؤْتِيهِمْ أَجْرً‌ا عَظِيمًا.
অর্থ : “আর যারা পবিত্র নামায কায়িমকারী, পবিত্র যাকাত প্রদানকারী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ও পরকালে বিশ্বাসী; অচিরেই আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার প্রদান করবো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬২)
اَلَّذِيْنَ يُقِيمُونَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَهُمْ رَ‌اكِعُونَ.
অর্থ : “যারা পবিত্র নামায কায়িম করে, পবিত্র যাকাত প্রদান করে এবং তারা রুকূকারী।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)
فَاِن تَابُوا وَاَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتَوُا الزَّكٰوةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ ۚ
অর্থ : “তবে যদি তারা তওবা করে এবং পবিত্র নামায কায়িম করে ও পবিত্র যাকাত প্রদান করে তবে তোমরা তাদের পথ ছেড়ে দাও।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
فَاِن تَابُوا وَاَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتَوُا الزَّكٰوةَ فَاِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ
অর্থ : “তবে যদি তারা তওবা করে এবং পবিত্র নামায কায়িম করে ও পবিত্র যাকাত প্রদান করে তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১)
وَاَوْصَانِي بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ مَا دُمْتُ حَيًّا.
অর্থ : “(হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন) আর আমাকে নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে পবিত্র নামায ও পবিত্র যাকাত আদায়ের ব্যাপারে, যতদিন আমি জীবিত থাকবো।” (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
وَكَانَ يَاْمُرُ‌ اَهْلَه بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ وَكَانَ عِندَ رَ‌بّه مَرْ‌ضِيًّا.
অর্থ : “আর তিনি (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম) উনার স্বজনদের নির্দেশ মুবারক দিতেন পবিত্র নামায ও পবিত্র যাকাত উনার বিষয়ে এবং তিনি উনার মহান রব উনার নিকট প্রিয়ভাজন অর্থাৎ সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত ছিলেন।” (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)
وَاَوْحَيْنَا اِلَيْهِمْ فِعْلَ الْـخَيْرَ‌اتِ وَاِقَامَ الصَّلٰوةِ وَاِيتَاءَ الزَّكٰوةِ ۖ
অর্থ : “আর আমি তাদের প্রতি নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছি সৎকর্মসমূহের এবং পবিত্র নামায কায়িম করার ও পবিত্র যাকাত প্রদান করার।” (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৩)
اَلَّذِينَ اِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الاَرْ‌ضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَاَمَرُ‌وا بِالْمَعْرُ‌وفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ‌ ۗ
অর্থ : “যারা (মু’মিনগণ) এমন যে, যদি আমি তাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি, তারা (১) পবিত্র নামায কায়িম করবে, (২) পবিত্র যাকাত প্রদান করবে, সৎ কাজের আদেশ করবে ও (৪) মন্দ কাজে বাধা প্রদান করবে।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪১)
رِ‌جَالٌ لا تُلْهِيهِمْ تِـجَارَ‌ةٌ وَلا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ‌ اللهِ وَاِقَامِ الصَّلٰوةِ وَاِيتَاءِ الزَّكٰوةِ ۙ
অর্থ : “এমন সকল মানুষ তাদের উদাসীন করে না ব্যবসা ও বেচা-কেনা মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ হতে এবং পবিত্র নামায কায়িম ও পবিত্র যাকাত প্রদান হতে।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৭)
الَّذِيْنَ يُقِيمُونَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَهُم بِالٰاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ.
অর্থ : “যারা পবিত্র নামায কায়িম করে ও পবিত্র যাকাত প্রদান করে; আর তারাই পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করে।” (পবিত্র সূরা নামল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
اَلَّذِيْنَ يُقِيمُونَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَهُم بِالٰاخِرَ‌ةِ هُمْ يُوقِنُونَ.
অর্থ : “যারা পবিত্র নামায কায়িম করে ও পবিত্র যাকাত প্রদান করে; আর তারাই পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করে।” (পবিত্র সূরা লুকমান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
وَتَابَ اللهُ عَلَيْكُمْ فَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَاَطِيعُوا اللهَ وَرَ‌سُولَه ۚ
অর্থ : “আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের তওবা গ্রহণ করেছেন, সুতরাং তোমরা পবিত্র নামায কায়িম কর ও পবিত্র যাকাত প্রদান কর এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অনুসরণ করো।” (পবিত্র সূরা মুজাদালাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
وَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَاَقْرِ‌ضُوا اللهَ قَرْ‌ضًا حَسَنًا ۚ
অর্থ : “আর তোমরা পবিত্র নামায কায়িম করো ও পবিত্র যাকাত প্রদান করো এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে উত্তম ঋণ (করযে হাছানা) প্রদান করো।” (পবিত্র সূরা মুযযাম্মিল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২০)
وَيُقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكٰوةَ ۚ وَذٰلِكَ دِينُ الْقَيّمَةِ.
অর্থ : “আর তারা পবিত্র নামায কায়িম করে ও পবিত্র যাকাত প্রদান করে এবং এই হলো প্রতিষ্ঠিত দ্বীন।” (পবিত্র সূরা বাইয়্যিনাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
পবিত্র যাকাত শব্দখানা পবিত্রতা অর্থে ব্যবহার :
فَاَرَ‌دْنَا اَن يُبْدِلَـهُمَا رَ‌بُّهُمَا خَيْرً‌ا مّنْهُ زَكَاةً وَاَقْرَ‌بَ رُ‌حْـمًا.
অর্থ : “অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের মহান রব তিনি যেন তাদেরকে এর পরিবর্তে দান করেন (এমন সন্তান) যে পবিত্রতায় ও দয়ায় তার অপেক্ষা উত্তম।” (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১)
وَحَنَانًا مّن لَّدُنَّا وَزَكَاةً ۖ وَكَانَ تَقِيًّا.
অর্থ : “আর (আমি হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনাকে দান করেছি) আমার পক্ষ থেকে ¯েœহ-দয়া ও পবিত্রতা, আর তিনি ছিলেন মুত্তাকী।” (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
পবিত্র যাকাত শব্দখানা স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ :
فَسَاَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَالَّذِينَ هُم بِايَاتِنَا يُؤْمِنُونَ.
অর্থ : “তবে আমি অচিরেই নির্ধারণ করবো তা ওইসব লোকদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, পবিত্র যাকাত প্রদান করে, আর যারা আমার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে।” (পবিত্র সূরা আরাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৬)
وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكٰوةِ فَاعِلُونَ.
অর্থ : “আর যারা পবিত্র যাকাত সম্পাদনকারী (তারা সফল মুমিন)।” (পবিত্র সূরা মুমিনূন শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
وَمَا اٰتَيْتُم مّن زَكٰوةٍ تُرِ‌يدُونَ وَجْهَ اللهِ فَاُولئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ.
অর্থ : “আর তোমরা যারা যাকাত দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি কামনা কর; তারাই ঐ সম্পদ বহুগুণ প্রাপ্ত হবে।” (পবিত্র সূরা রূম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৯)
اَلَّذِينَ لا يُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَهُم بِالٰاخِرَ‌ةِ هُمْ كٰفِرُ‌ونَ.
অর্থ : যারা পবিত্র যাকাত প্রদান করে না, আর তারাই পরকাল অবিশ্বাসী। (পবিত্র সূরা হা-মীম সাজদাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)
পবিত্র যাকাত উনার সমার্থবোধক শব্দ :
خُذْ مِنْ اَمْوَالِـهِمْ صَدَقَةً تُطَهّرُ‌هُمْ وَتُزَكّيهِم بِـهَا.
অর্থ : “আপনি গ্রহণ করুন তাদের মাল হতে পবিত্র যাকাত যা দ্বারা আপনি তাদেরকে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ উভয়ভাবে পাক ও পবিত্র করবেন ।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
পবিত্র উশর প্রদান প্রসঙ্গে :
اَنفِقُوا مِن طَيّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِـمَّا اَخْرَ‌جْنَا لَكُم مّنَ الاَرْ‌ضِ ۖ
অর্থ : “তোমরা তোমাদের উপার্জিত হালাল মালের কিছু অংশ খরচ করো অর্থাৎ পবিত্র যাকাত প্রদান করো আর আমি তোমাদের জন্য যমীন হতে যা বের করেছি তার থেকে উশর প্রদান করো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬৭)
অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-وَاٰتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ ۖ “এবং আদায় করো তার হক্ব (উশর) শস্য কাটার সময়।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪১) এই উশর সম্পর্কে পরে বিস্তারিত আলোচনা আসতেছে।
পবিত্র যাকাত পূর্বেও ফরয ছিল; সে সম্পর্কিত পবিত্র আয়াত শরীফ :
পবিত্র যাকাত পবিত্র নামায উনার ন্যায় পূর্ববর্তী উম্মতগণের প্রতিও ফরয ছিলো। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
وَاِذْ اَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي اِسْرَ‌ائِيلَ لا تَعْبُدُونَ اِلا اللهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ اِحْسَانًا وَذِي الْقُرْ‌بٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَاَقِيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ.
অর্থ : “যখন আমি বনী ইসরাইলদের (ইহুদী ও নাছারাদের) অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম- তোমরা মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়, ইয়াতীম ও মিসকীনদের প্রতি ইহসান করবে, আর মানুষকে ভাল কথার উপদেশ দিবে এবং পবিত্র নামায কায়িম করবে, আর পবিত্র যাকাত আদায় করবে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৩)
পবিত্র যাকাত না দেয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে পবিত্র আয়াত শরীফ :
পবিত্র যাকাত দান না করার পরিণাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَلا يَـحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُونَ بِـمَا اٰتَاهُمُ اللهُ مِن فَضْلِهِ هُوَ خَيْرً‌ا لَّـهُم ۖ بَلْ هُوَ شَرٌّ‌ لَّـهُمْ ۖ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَـخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাদেরকে আপন সম্পদ হতে কিছু দান করেছেন, আর তারা তা নিয়ে কৃপণতা করে, তবে তারা যেন মনে না করে যে, তা তাদের জন্য ভাল বা খায়র বরকতের কারণ। বরং তা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ। শীঘ্রই কিয়ামতের দিন তাদের ঘাড়ে শিকলরূপে পরিয়ে দেয়া হবে, যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮০)
দানশীলের পবিত্র যাকাত শুধু শতকরা আড়াই ভাগই নয় বরং আরো বেশি :
শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫%) বা চল্লিশ ভাগের একভাগ পবিত্র যাকাত হলো ফরয। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য আরো বেশি দান-ছদকা করার কথা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন। যেমন-
يَسْئَلُوْنَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ ۗ
অর্থ : “(আয় আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে তারা কি ব্যয় করবে? আপনি বলুন- অতিরিক্ত (যা সম্ভব) সবই অর্থাৎ অতিরিক্ত সমস্ত সম্পদই দান করবে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
তাই হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন ২.৫% হলো যারা দানশীল নয় তাদের যাকাত। (তিরমিযী শরীফ)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে