পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা পবিত্র থেকে পবিত্রতম ছিলেন


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لم ازل انقل من اصلاب الطاهرين الى ارحام الطاهرات على ان جميع ابائه صلى الله عليه وسلم وامهاته الى ادم وحواء عليهما السلام ليس فيهم كافر.
অর্থ: “আমি সর্বদা পবিত্র পৃষ্ঠ মুবারক হতে পবিত্রা রেহেম শরীফ উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছি। আমার পূর্ববর্তী যত পুরুষ ও মহিলাগণ উনারা আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং উম্মুল বাশার হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনার পর্যন্ত অতীত হয়েছেন, উনাদের কেউই কাফির ছিলেন না।” সুবহানাল্লাহ!
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ব-পুরুষ সকলেই ছিলেন যুগের সবচাইতে সম্ভ্রান্ত, মর্যাদাশীল ও মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও মকবুল বান্দা উনাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি পবিত্র পুরুষ ও পবিত্রা মহিলাগণ উনাদের মাধ্যমে বংশ পরম্পরায় এ যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। চাই পিতা উনার দিক থেকে হোক কিংবা মাতা উনার দিক থেকে হোক উনাদের কেউই মুশরিক বা কাফির ছিলেন না। এমনকি উনাদের মধ্যে কেউ চারিত্রিক দোষেও দোষী ছিলেন না। প্রত্যেকেই পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
لم يلتق ابوى قط على سفاح.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষগণ কেউই চারিত্রিক দোষে দোষী ছিলেন না।” সুবহানাল্লাহ!
অতএব, প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষগণ শুধু ঈমানদারই নন, বরং উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাহবুব বান্দা-বান্দী উনাদের অন্তর্ভুক্ত। আর এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামে পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وتقلبك فى الساجدين.
অর্থ: “আপনাকে সিজদাকারীদের মধ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
তাফসীরে মাদারেক ও জামালের গ্রন্থকার এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুধু পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা নন, বরং উনার সকল পূর্বপুরুষ উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার তাওহীদভুক্ত বলে ঘোষণা দেন। প্রকৃতপক্ষে উনার পূর্বপুরুষগণ উনারা সকলেই ঈমানদার ও সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব-ব্যক্তিত্বা ছিলেন।
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি সর্বযুগে যুগশ্রেষ্ঠ বান্দা-বান্দী উনাদের মাধ্যমে যমীনে এসেছেন। তাহলে উনারা কি করে কাফির-মুশরিক হতে পারেন? নাউযুবিল্লাহ! কারণ প্রথমত, কাফিররা হচ্ছে নাপাক। দ্বিতীয়ত, সাধারণ ঈমানদার দাস-দাসীরাও সমস্ত কাফির-মুশরিকদের চেয়েও উত্তম।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে