পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিধর্মীদের কালচার বলা কাট্টা কুফরী


সুলত্বানুল আরিফীন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “ওসায়িল ফী শরহি শামায়িল” নামক কিতাবে বলেন, যেকোনো ঘরে অথবা মসজিদে অথবা মহল্লায় মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয় বা মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্যাপন করা হয়, সেখানে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা বেষ্টন করে নেন। আর উনারা সে স্থানের অধিবাসীগণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করতে থাকেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টির আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেশতা অর্থাৎ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, হযরত মীকাইল অলাইহিস সালাম, হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম ও হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম উনারা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠকারীর উপর বা পবিত্র মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্্যাপনকারীর উপর ছলাত-সালাম পাঠ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
এমনকি দেওবন্দীদের পীর ও মুর্শিদ হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “মাওলিদ শরীফ (মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমস্ত হারামাইন শরীফাইনবাসীই উদ্্যাপন করেন।”
এটাই প্রমাণিত যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম, খুলাফায়ে রাশিদিন, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন। অথচ ওহাবীরা বলতে চায় যে, বিলাদত দিবস পালন করা খ্রিস্টানদের কালচার। নাউযুবিল্লাহ! তাদের এসব বক্তব্যে কি এটাই বলা হয় না যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম, খুলাফায়ে রাশিদীন, আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা খ্রিস্টানদের কালচার পালন করেছেন? নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের সম্মত কোনো আমল অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী পালন করলে যে তা মুসলমানের জন্য পালন করা যাবে না- এ আক্বীদা বা বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল, অশুদ্ধ ও কুফরী। যেমন- অনেক বিধর্মী দাড়ি রাখে সে জন্য মুসলমান কি দাঁড়ি রাখা ছেড়ে দিবে? কখনোই নয়। বরং মুসলমান যে বিষয়টি পালন করবে সে বিষয়টি শরীয়তসম্মত হলেই তা পালন করবে। আর শরীয়তসম্মত না হলে পালন করা যাবে না।
অথচ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরাই সবক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রিস্টান বা বেদ্বীন-বদদ্বীনদেরকে অনুসরণ করে; তারা কোট-টাই পরিধান করে, গণতন্ত্র করে, হরতাল করে, লংমার্চ করে, কুশপুত্তলিকা দাহ করে, শহীদ মিনারে ও স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়, নীরবতা পালন করে। তখন কিন্তু এরা প্রশ্ন তোলে না- এটা খ্রিস্টানদের বা বিধর্মীদের কালচার। মুসলমানদের মনে রাখতে হবে, যারা সর্বদা কাফিরদের কালচারের মধ্যে ডুবে থাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য নয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে