পবিত্র কারবালা শরীফ উনার নির্জন প্রান্তরে সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার জন্য নিঃসন্দেহে ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি-ই দায়ী


৬১ হিজরী সনের ১০ মুহররমুল হারাম শরীফ সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সপরিবারে কারবালার নির্জন প্রান্তরে সম্মানিত শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করেন। মূলত, উনাদের এই শাহাদাত মুবারক উনার পিছনে নিঃসন্দেহে কাফির ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি-ই দায়ী। সে নিজেই এই ঘটনার হোতা। তাইতো তার ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
واخرج أحمد والبزار بسند صحيح عن حَضْرَتْ أبي هريرة رَضِىَ اللّٰـهُ تَعَالىٰ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰـهِ صَلَّى اللّٰـهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَعَوَّذُوْا بِاللهِ مِنْ رَأْسِ السّـِتّـِيْنَ وَمِنْ اِمَارَةِ الصّـِبْيَانِ
“হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমাম বাযযার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ছহীহ সনদ মুবারক-এ হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- আখিরী রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ৬০ হিজরীর পরের অবস্থা (৬১ হিজরীর) থেকে এবং তরুণদের শাসনকাল থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন।” (আহমদ, বাযযার, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, খছাইছুল কুবরা ২/২৩৬ ইত্যাদি)
অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي عُبَيْدَةَ رَضِىَ اللّٰــهُ تَعَالىٰ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰـهِ صَلَّى اللّٰـهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَزَالُ أَمْرُ أُمَّتِي قَائِمًا بِالْقِسْطِ، حَتّٰى يَكُوْنَ أَوَّلُ مَنْ يَثْلَمُه رَجُلٌ مِنْ بَنِىْ أُمَيَّةَ يُقَالُ لَه يَزِيْدُ لَعْنَةُ اللهِ عَلَيْهِ.
হযরত আবূ উবাইদা ইবনে জাররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সম্মানিত উম্মত উনাদের শাসন ব্যবস্থা তথা সম্মানিত খিলাফত মুবারক সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ উনার উপর অবিচল থাকবে। আর সর্বপ্রথম বনূ উমাইয়ার এক সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি সেই সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক বিনষ্ট করে দিবে (তথা রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে)। তার নাম হচ্ছে, ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৮৯, খছাইছুল কুবরা ২/২৩৬, তারীখুল খুলাফা ১৬৬, আছ ছওয়াইকুল মুহরিক্বাহ ২/১২৩, জামিউল আহাদীছ ৯/২৪, দায়লামী শরীফ ৫/৯২, আবূ ইয়ালা, আবূ নাঈম, বাইহাক্বী, ইবনে আসাকির ইত্যাদি)
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللّٰــهُ تَعَالىٰ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰـهِ صَلَّى اللّٰـهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيْدُ لَعْنَةُ اللهِ عَلَيْهِ ‍‍‍‍‍‍‍! لا بَارِكَ اللهُ فِي يَزِيْدَ لَعْنَةُ اللهِ عَلَيْهِ الطَّعَّانِ اللَّعَّانِ. أَمَا إِنَّه نُعِيَ إِلَيَّ حَبِيْبِيْ وَحِبّـِىْ حَضْرَتْ اِمَامٌ حُسَيْنٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ أُتِيْتُ بِتُرْبَتِهٖ وَرَأَيْتُ قَاتِلَه أَمَا إِنَّه لا
অর্থাৎ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আয় বারে ইলাহী মহান আল্লাহ পাক! আপনি ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি-এর উপর থেকে বরকত তুলে নিন, তার উপর আপনি লা’নত বর্ষণ করুন, তার উপর আপনি লা’নত বর্ষণ করুন, সে হচ্ছে আমার পূত-পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সর্বনিকৃষ্ট আক্রমণকারী, আঘাতকারী এবং উনাদের ক্ষতি সাধন করার ব্যাপারে দৃঢ়। সাবধান! নিশ্চয়ই ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি সেই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি যে, আমার পূত-পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে শহীদ করবে। আমার নিকট আমার অতি প্রিয় হাবীব এবং মাহবূব হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সংবাদ মুবারক নিয়ে আসা হয়েছে এবং তিনি যেই জায়গায় সম্মানিত শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করবেন, সেই জায়গার মাটি মুবারক আমার মুবারক খিদমতে পেশ করা হয়েছে। আর উনাকে যে শহীদ করবে, আমি সেই সর্বনিকৃষ্ট মাল’ঊন, মরদূদ ব্যক্তিটিকে দেখেছি। সাবধান! তিনি নির্জন এলাকায় সম্মানিত শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করবেন এবং ওই সময় উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ কেউ এগিয়ে আসবে না। তবে উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত থাকবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে ব্যাপকভাবে শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করে দিবেন।” (জামি’উল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ২৪/১২৬, জাম’উল জাওয়ামি’ লিস সুয়ূত্বী ১ম খ-, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৮৯, ইবনে আসাকির ইত্যাদি)
১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
فكتب يزيد إلى واليه بالعراق عبيد الله بن زياد بقتاله
“অতঃপর ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি ইরাকের গভর্নর উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের নিকট সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুছ ছালিছ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার জন্য লিখিত ফরমান পাঠায়।” (তারীখুল খুলাফা ১৬৫ পৃষ্ঠা)
তিনি আরো বলেন,
لعن الله قاتله و ابن زياد معه و يزيد أيضا
“যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইমামুছ ছালিছ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে যে শহীদ করেছে তার উপর এবং ইবনে যিয়াদ ও ইয়াযীদের উপর লা’নত বর্ষণ করুন।” আমীন! (তারীখুল খুলাফা ১৬৫পৃ.)
و قال نوفل بن أبي الفرات كنت عند عمر بن عبد العزيز فذكر رجل يزيد فقال : قال أمير المؤمنين يزيد بن معاوية فقال : تقول أمير المؤمنين ؟ و أمر به فضرب عشرين سوطا
“হযরত নওফেল ইবনে আবুল ফারাত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একদা আমি খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বসেছিলাম। তখন এক ব্যক্তি ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি-এর আলোচনা করতে যেয়ে, তাকে আমীরুল মু’মিনীন ইয়াযীদ ইবনে মুয়াবিয়া বললে খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত ব্যক্তিকে বললেন, এই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে আমীরুল মু’মিনীন বলছো? এই কথা মুবারক বলে তিনি এই অপরাধের জন্য তাকে বিশটি বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তাকে বিশটি বেত্রাঘাত করা হলো।” (তারীখুল খুলাফা ১৬৬)

 

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+