পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে অকাট্য দলীল-আদিল্লাহর ভিত্তিতে ‘ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাসীদের’ ভ্রান্ত যুক্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব


ক্বিল্লতে ইলম ও ক্বিল্লতে ফাহাম তথা কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণে কিছু সংখ্যক উলামায়ে সূ’ একখানা আছার এবং দুইখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে বলেছেন, ‘ছোঁয়াচে বলতে কোনো রোগ নেই’ এ বিষয়টি অস্বীকার করতে চায় এবং ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ আছে বলে প্রমাণ করতে চায়। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
১) আছারটি হচ্ছে-
كَانَ فِي وَفْد ثَقِيف رَجُل مَجْذُوم فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاك فَارْجِعْ
অর্থ: “বনী সাক্বীফের প্রতিনিধ দলে একজন ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ব্যক্তি উনার নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বললেন, নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে বাই‘আত করে নিয়েছি। সুতরাং আপনি ফিরে যান।”
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দুইখানা হচ্ছেন-
১ নং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ-
وَفِّرْ مِنْ الْمَجْذُوم فِرَارك مِنْ الْأَسَد
অর্থ: “সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো।”
২ নং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ-
لَا يُورِد مُمْرِض عَلَى مُصِحّ
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনার অর্থ একেক জন একেকভাবে তুলে থাকে। যেমন-
* ‘অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে উপস্থিত করা যাবে না।’
* ‘চর্মরোগাক্রান্ত উটের মালিক যেন সুস্থ উটের পালে তার উট না নিয়ে যায়।’
উপরোক্ত আছারটি নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে। অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের বিপরীতে ইখতিলাফপূর্ণ আছার দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লামা ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুষ্ঠরোগীকে বাইয়াত করানো থেকে দূরে থাকার বিষয়টি’ অর্থাৎ উপরোক্ত আছারটি খ-ন করে দিয়েছেন। আর উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দুইখানা ছালফে ছালিহীনগণ প্রত্যাখান করেছেন। কেউ কেউ বানোয়াটও বলেছেন। আবার কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ আরো অনেকে মানসূখ বলেছেন। বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে (وَفِّرْ مِنْ الْمَجْذُوم فِرَارك مِنْ الْأَسَد) এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা প্রত্যাখান করেছেন এবং তিনি বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কস্মিনকালেও এরূপ বলেননি। তাছাড়া উপরোক্ত আছার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দুইখানা উনাদের মাধ্যমে ছোঁয়াচে রোগের অস্থিত্ব কস্মিনকালেও প্রমাণ হয় না। অন্যদিকে অনেক সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোনো রোগ নেই। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ দ্বারা কেউ কস্মিনকালেও প্রমাণ করতে পারবে না যে, ছোঁয়াচে বা সংক্রমাক রোগ আছে। আর যারা বলে থাকে, তারা মনগড়াভাবে ও বানিয়ে বলে থাকে এবং ইবলীসের মত ভিত্তিহীন যুক্তি প্রদান করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসলামী শরীয়ত মুবারক উনার দৃষ্টিতে কস্মিনকালেও গ্রহণযোগ্য নয়।
মূলত, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বলতে কোনো রোগই নেই। কোনো রোগের কোনো ক্ষমতা নেই যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা ব্যতীত কাউকে রোগাক্রান্ত করে। আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত জিন-ইনসান ও প্রাণী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের হায়াত-মাউত, বালা-মুছীবত, বিপদ-আপদ, রোগ-বালাই এবং রিযিক্বসমূহ সবকিছুই পূর্ব থেকে নির্ধারণ করে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! আইয়্যামে জাহিলীয়াতের যুগে মুশরিকরা ছোঁয়াচে রোগ বিশ্বাস করতো। অনেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা রোগী থেকে দূরে থাকা সংক্রান্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো মানসূখ হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كَانَ فِي وَفْد ثَقِيف رَجُل مَجْذُوم فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاك فَارْجِعْ هَذَا مُوَافِق لِلْحَدِيثِ الْآخَر فِي صَحِيح الْبُخَارِيّ (وَفِّرْ مِنْ الْمَجْذُوم فِرَارك مِنْ الْأَسَد) وَقَدْ سَبَقَ شَرْح هَذَا الْحَدِيث فِي بَاب ( لَا عَدْوَى ) وَأَنَّهُ غَيْر مُخَالِف لِحَدِيثِ (لَا يُورِد مُمْرِض عَلَى مُصِحّ) قَالَ الْقَاضِي قَدْ اِخْتَلَفَ الْآثَار عَنْ النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قِصَّة الْمَجْذُوم فَثَبَتَ عَنْهُ الْحَدِيثَانِ الْمَذْكُورَانِ وَعَنْ جَابِر رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ مَعَ الْمَجْذُوم وَقَالَ لَهُ كُلْ ثِقَة بِاَللَّهِ وَتَوَكَّلَا عَلَيْهِ وَعَنْ عَائِشَة قَالَتْ مَوْلَى مَجْذُوم فَكَانَ يَأْكُل فِي صِحَافِي وَيَشْرَب فِي أَقْدَاحِي وَيَنَام عَلَى فِرَاشِي قَالَ وَقَدْ ذَهَبَ عُمَر رَضِيَ اللَّه عَنْهُ وَغَيْره مِنْ السَّلَف إِلَى الْأَكْل مَعَهُ وَرَأَوْا أَنَّ الْأَمْر بِاجْتِنَابِهِ مَنْسُوخ .
অর্থ: “বনী সাক্বীফের প্রতিনিধি দলে একজন ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী ব্যক্তি ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ব্যক্তি উনার নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বললেন, “নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে বাই‘আত করে নিয়েছি। সুতরাং আপনি ফিরে যান।” এই আছারটির মুয়াফিক্ব বুখারী শরীফ-এ একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছেন, ‘সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো।’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা ‘ছোঁয়াচে বলতে কোনো রোগ নেই।’ নামক অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুরূপ আরেকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ ‘অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে উপস্থিত করা যাবে না বা চর্মরোগাক্রান্ত উটের মালিক যেন সুস্থ উটের পালে তার উট না নিয়ে যায়।’ ইমাম কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে কুষ্ঠরোগীর ঘটনা (বাই‘য়াত) সম্বলিত আছারটি নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে। (অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে বাই‘আত করে নিয়েছি। সুতরাং আপনি ফিরে যান। এরূপ ঘটনা ঘটেছে কিনা, এ বিষয়ে ইখতিলাফ রয়েছে।) আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দুইখানা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে ছাবিত বা প্রমাণিত। আর হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া করেছেন এবং তিনি কুষ্ঠরোগী উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক নিয়ে উনার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে এবং পূর্ণ ভরসা করে খাবার গ্রহণ করুন।” আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার একজন আযাদকৃত কুষ্ঠরোগী খাদেমা ছিলেন। তিনি আমার প্লেট মুবারক বা পাত্র মুবারক-এ খাবার খেতেন, আমার বাটি মুবারক-এ পানি পান করতেন এবং আমার বিছানা মুবারক-এ ঘুমাতেন।’ সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি, (সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি) এবং সালফে ছালেহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আরো অনেকে কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া করেছেন এবং উনারা বর্ণনা করেছেন, কুষ্ঠরোগী বা অন্যান্য রোগীর থেকে দূরে থাকা বা রোগীদেরকে দূরে রাখার আদেশ মুবারকখানা মানসূখ হয়ে গেছে।” সুবহানাল্লাহ! (ইকমালুল মু’লিম, শারহুন নববী লিমুসলিম ৭/৩৭২, নাইলুল আওত্বার ৭/২২০)
অনুরূপভাবে হযরত ঈসা ইবনে দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও রোগীদেরকে দূরে রাখার বিষয়ে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা মানসূখ বলেছেন। যেমন- তিনি বলেন,
وَلَكِنَّهُ عِنْدِي مَنْسُوخٌ بِقَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لَا عَدْوَى.
অর্থ: “আমার মতে ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোনো রোগ নেই’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা (অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে উপস্থিত করা যাবে না বা চর্মরোগাক্রান্ত উটের মালিক যেন সুস্থ উটের পালে তার উট না নিয়ে যায়।’) এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা মানসূখ হয়ে গেছে।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুন্তাক্বা ৪/৩৬৬)
ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وَحَكَى الْمَازِرِيّ وَالْقَاضِي عِيَاض عَنْ بَعْض الْعُلَمَاء أَنَّ حَدِيث (لَا يُورِد مُمْرِض عَلَى مُصِحّ ) مَنْسُوخ بِحَدِيثِ (لَا عَدْوَى)
অর্থ: “হযরত ইমাম মাযিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা কতিপয় ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোনো রোগ নেই’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা (অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে উপস্থিত করা যাবে না বা চর্মরোগাক্রান্ত উটের মালিক যেন সুস্থ উটের পালে তার উট না নিয়ে যায়।’) এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা মানসূখ হয়ে গেছে।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুন নববী আলা মুসলিম ৭/৩৭২)
আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وقال الطبري: اختلف السلف في صحة هذا الحديث -أي حديث: “فرَّ من المجذوم فرارك من الأسد”- فأنكر بعضهم أن يكون عليه السلام أمر بالبعد من ذي عاهة جذامًا كان أو غيره، قالوا: قد أكل مع مجذوم وأقعده معه، وفعله أصحابه المهديون، روى عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه: “أن وفد ثقيف أتوا أبا بكر الصديق رضي الله عنه فأتى بطعام فدعاهم، فتنحى رجل، فقال: ما له؟ قال: مجذوم، فدعاه وأكل معه”. وكان ابن عمر وسلمان رضي الله عنهم يصنعان الطعام للمجذومين ويأكلان معهم، وعن عكرمة: “أنه تنحى من مجذوم، فقال له ابن عباس: لعله خير مني ومنك”.
وعن عائشة: “أن امرأة سألتها. أكان رسول الله عليه السلام قال: فروا من المجذومين فراركم من الأسد؟ فقالت: عائشة كلَّا والله، ولكنه قال: لا عدوى، وقال: فمن أعدى الأول، وكان مولى لنا أصابه ذلك الداء، فكان يأكل في صحافي ويشرب في أقداحي وينام على فراشي”.
قالوا: وقد أبطل رسول الله العدوى.
অর্থ: “হযরত ইমাম ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সালফে ছালিহীনগণ উনারা ‘সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো।’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ কিনা এ বিষয়ে ইখতিলাফ করেছেন। উনাদের মধ্যে কতিপয় সালফে ছালিহীনগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুষ্ঠরোগী গোলাম বা অন্য কারো ব্যাপারে এরূপ আদেশ হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখান করেছেন, অস্বীকার করেছেন। উনারা বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবশ্যই কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া করেছেন এবং কুষ্ঠরোগীকে উনার সাথে বসিয়েছেন। আর এটা উনার আমল মুবারক এবং উনার সুপথপ্রাপ্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! “হযরত আব্দুর রহমান ইবনে ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি উনার পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ ইবনে আবূ বকর আলাইহিমুস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম ইবনে মুহম্মদ ইবনে আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, একদা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট ছাক্বীফ গোত্র থেকে এক প্রতিনিধি দল আসলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি খাবার মুবারক নিয়ে এসে উনাদের সবাইকে ডাকলেন। তখন এক ব্যক্তি দেখে দূরে সরে গেলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, উনার কি হয়েছে? তিনি বললেন, কুষ্ঠরোগী। তিনি উনাকে ডাকলেন এবং উনার সাথে খাওয়া-দাওয়া করলেন। সুবহানাল্লাহ! আর ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে কুষ্ঠরোগীদের জন্য খাবার তৈরী করতেন এবং কুষ্ঠরোগীদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করতেন। আর হযরত ইকরামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি একবার কুষ্ঠরোগীর কাছ থেকে দূরে সরে গেলেন। তখন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনাকে বলেন, হতে পারে এই কুষ্ঠরোগী ব্যক্তি তিনি আমার এবং আপনার থেকে উত্তম। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদা উনাকে একজন মহিলা জিজ্ঞাসা করলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি এরূপ বলেছেন যে, তোমরা সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো? জবাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! কস্মিনকালেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরূপ বলেননি। বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছুই নেই। তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন, তাহলে প্রথম উটটিকে কে সংক্রামিত করলো?’ আর আমাদের একজন আযাকৃত খাদেমা ছিলেন, যাঁর কুষ্ঠরোগ হয়েছিলো। তারপরেও উক্ত খাদেমা তিনি আমার প্লেট বা পাত্র মুবারক-এ খাবার খেতেন, আমার বাটি মুবারক-এ পানি পান করতেন এবং আমার বিছানা মুবারক-এ ঘুমাতেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা বলেন যে, আবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগকে নাকচ করেছেন, বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (নাখবুল আফকার ফী তানক্বীহি মাবানিইল আখবার ফী শারহি মা‘আনিইল আছার লিবাদরিদ্দীন আইনী হানাফী ১৪/৯৩, উমদাতুল ক্বারী ২১/২৪৭, শারহু ছহীহিল বুখারী লিইবনে বাত্ত্বাল ৯/৪১০, আত তাওদ্বীহ লিশারহিল জামিয়িছ ছহীহ লিইবনে মুলক্বিন ২৭/৪২৪)
আল্লামা বাদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
مَا قَالَه عِيَاض اخْتلفت الْآثَار فِي المجذوم فجَاء عَن جَابر أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أكل مَعَ مجذوم وَقَالَ ثِقَة بِاللَّه وتوكلاً عَلَيْهِ قَالَ فَذهب عمر رَضِي الله عَنهُ وَجَمَاعَة من السّلف إِلَى الْأكل مَعَه وَرَأَوا أَن الْأَمر باجتنابه مَنْسُوخ
অর্থ: “হযরত কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যা বলেছেন, ‘কুষ্ঠরোগীর বিষয়ে ইখলিফপূর্ণ হাদীছ আছারসমূহ বর্ণিত রয়েছে।’ হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া মুবারক করেছেন এবং তিনি কুষ্ঠরোগী উনাকে উনার সাথে বসিয়েছেন এবং তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক নিয়ে উনার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে এবং পূর্ণ ভরসা করে খাবার গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন, দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং সালফে ছালিহীন উনাদের একদল কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি সমর্থন করেছেন এবং উনারা বর্ণনা করেছেন যে, কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকার আদেশটি মানসূখ হয়ে গেছে।” সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী ২১/২৪৭)
ইমাম কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وقد اختلفت الآثار عن النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فى قصة المجذوم وحكمه فروى عنه ما تقدم وقد ذكر الطبرى عن جابر أن النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ واكل مجذوماً وأقعده معه وقال كل ثقة بالله وتوكلاً عليه وعن عائشة وقد سألتها امرأة عن الحديث المتقدم فى الفرار منه فقالت كلا والله ولكن رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال لا عدوى فمن أعدى الأول وقد كان لنا مولى أصابه ذلك فكان يأكل فى صحافى ويشرب فى أقداحى وينام على فراشى. وهذا يدل من فحوى كلام عائشة أنها لم تنكر الحديث الأول ولكنها ذهبت إلى نسخه بقوله لا عدوى وبفعله عليه السلام وقد روى أيضاً ذلك عن أئمة السلف عمر وغيره.
অর্থ: ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে কুষ্ঠরোগীর বাই‘আত সংক্রান্ত আছারটি নিয়ে এবং আছারের হুকুম নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে। (অর্থাৎ আছারে যে রয়েছে, বনী সাক্বীফের প্রতিনিধি দলে একজন ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ব্যক্তি উনার নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বলেছেন “নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে বাই‘আত করে নিয়েছি। সুতরাং আপনি ফিরে যান। এরূপ ঘটনা ঘটেছে কিনা, এ বিষয়ে ইখতিলাফ রয়েছে।) যা উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে, তা পূর্বে আলোচনা হয়েছে। ইমাম ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া মুবারক করেছেন এবং তিনি কুষ্ঠরোগী উনাকে উনার সাথে বসিয়েছেন এবং তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক নিয়ে উনার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে এবং পূর্ণ ভরসা করে খাবার গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে একজন মহিলা পূর্বে আলোচিত কুষ্ঠরোগী থেকে পালানোর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ (সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো। এ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। জবাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! কস্মিনকালেও না। বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছুই নেই। তাহলে প্রথম উটটিকে কে সংক্রামিত করলো?’ আর অবশ্যই আমাদের একজন আযাকৃত খাদেমা ছিলেন, যাঁর কুষ্ঠরোগ হয়েছিলো। তারপরেও উক্ত খাদেমা তিনি আমার প্লেট বা পাত্র মুবারক-এ খাবার খেতেন, আমার বাটি মুবারক-এ পানি পান করতেন এবং আমার বিছানা মুবারক-এ ঘুমাতেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার কথার তাৎপর্য থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে, তিনি প্রথম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ তথা ‘সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো।’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা শুধু প্রত্যাখানই করেননি; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলতে কোনো রোগ নেই।’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল মুবারক দ্বারা ঐ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ তথা ‘সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো’ এটাকে মানসূখ প্রমাণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এবং আরো অন্যান্য পূর্ববর্তী অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক (যেমন- সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার, হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদেরসহ আরো অন্যান্য) উনাদের থেকে অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (ইকমালুল মু’লিম ৭/১৬৩)
অতএব, উপরোক্ত বর্ণনা থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, ছোঁয়াচে বলে কোনো রোগ নেই। আর ‘সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো’ এবং ‘অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে উপস্থিত করা যাবে না বা চর্মরোগাক্রান্ত উটের মালিক যেন সুস্থ উটের পালে তার উট না নিয়ে যায়’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দুইখানা মানসূখ হয়ে গেছে। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার বর্ণনা থেকে, উনার আমল মুবারক থেকে এবং উনার ক্বসম দিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়চিত্ত বক্তব্য মুবারক প্রদান উনার পর অন্য কারো কোনো কথাই গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এ বিষয়টি সকলের জানা রয়েছে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা যখন কোনো বিষয়ে ইখতিলাফে পতিত হতেন, তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতেন। তিনি যেই ফায়ছালা মুবারক দিতেন, তা সকলে মেনে নিতেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আমল মুবারক, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক এবং হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আমল মুবারক এবং হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আমল মুবারকসহ আরো অন্যান্য অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের আমল মুবারক ও ক্বওল মুবারক দ্বারাও এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে না আনা বা রোগীদের সামনে না যাওয়া সম্পর্কিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো মানসূখ হয়ে গেছে। তার পাশাপাশি এই বিষয়টিও দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কুষ্ঠরোগী বা যে কোনো রোগীদের সাথে উঠা-বসা করা, শরীর ঘেঁষে বসা, হাতের সাথে হাত লাগানো, একই পাত্রে খাওয়া-দাওয়া করা, তারা যেই পাত্রে খায় ও পান করে এবং যে বিছানায় ঘুমায়, সেই পাত্রে খাওয়া ও পান করা এবং সেই বিছানায় ঘুমানো এবং রোগীরা হাত দিয়ে পাত্রের যেই স্থান থেকে খাবার খায়, হুবহু সেই স্থান থেকে সেই খাদ্য খাওয়া মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
(দলীল সমূহ: (১) ইকমালুল মু’লিম, (২) নাখবুল আফকার ফী তানক্বীহি মাবানিইল আখবার ফী শারহি মা‘আনিইল আছার লিবাদরিদ্দীন আইনী হানাফী, (৩) নাইলুল আওত্বার, (৪) আল মুন্তাক্বা, (৫) শারহুন নববী আলা মুসলিম, (৬) উমদাতুল ক্বারী, (৭) শারহু ছহীহিল বুখারী লিইবনে বাত্ত্বাল, (৮) আত তাওদ্বীহ লিশারহিল জামিয়িছ ছহীহ লিইবনে মুলক্বিন, (৯) মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, (১০) তিরমিযী শরীফ, (১১) আবূ দাউদ শরীফ, (১২) সুনানে ইবনে মাজাহ্, (১৩) মুসনাদে আবী ইয়া’লা, (১৪) আল মুন্তাখাব মিন মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ, (১৫) আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাতি, (১৬) আল আদাবু লিল বাইহাক্বী, (১৭) শু‘আবুল ঈমান, (১৮) শারহু সুনানি ইবনে মাজাহ লিস সুয়ূত্বী, (১৯) বাযলুল মাজহূদ ফী হাল্লি সুনানি আবী দাঊদ, (২০) আনীসুস সারী, (২১) আওনুল মা’বূদ, (২২) আল মাসালিক ফী শারহি মুয়াত্ত্বাই মালিক, (২৩) সিলাহুল মু’মিন ফীদ দো‘আ ওয়ায যিক্র, (২৪) তুহ্ফাতুয যাকিরীন, (২৫) তুহফাতুল আহওয়যী, (২৬) তাহ্যীবুল আছার, (২৭) জামি‘উল আহাদীছ, (২৮) জামি‘উ বায়ানিল ইলম ওয়া ফাদ্ব্লিহী, (২৯) মুয়াত্তা শরীফ, (৩০) মিশকাত শরীফ, (৩১) মিরক্বাত শরীফ, (৩২) তাফসীরে মাযহারী, (৩৩) জামি‘উল উছূল লি ইবনে আছীর, (৩৪) দায়লামী শরীফ, (৩৫) যখীরতুল উক্ববা, (৩৬) মাফতুহল মুনয়িম, (৩৭) আল বাহ্রুল মুহিত, (৩৮) আল মুফহিম, (৩৯) আল কাওকাবুল ওয়াহ্হাজ (৪০) ফাতহুর রব্বানী ইত্যাদি)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে