পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই হচ্ছেন বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের চরম নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের একমাত্র মুক্তির দিশারী। সুবহানাল্লাহ!-ধারাবাহিক।


পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই হচ্ছেন বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের চরম নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের একমাত্র মুক্তির দিশারী। সুবহানাল্লাহ!-ধারাবাহিক।
**********************************************************************
পূর্ব প্রকাশিতের পর —
***********************
অনেকেই বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে প্রশ্ন করেছেন- ইসলামী খিলাফত আবার কবে ফিরে আসবে দুনিয়া মাঝে?
এই প্রশ্নের উত্তরও কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ সুরা নুর-এ ৫৫ নং আয়াতে পাকে বলে দিয়েছেন-
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الْأَرْضِ
অর্থাৎ, তোমার যখন প্রকৃত ঈমান আনবে বা ঈমানদার হতে পারবে এবং একই সাথে আমলে সালেহ অর্থাৎ সুন্নাহ মুতাবিক নিজেদের আমল আখলাক সুসজ্জিত করতে পারবে তখনি তোমাদেরকে খিলাফত অর্থাৎ শাসন কতৃত্ব দান করা হবে- এটাই খালিক মালিক রব আল্লাহ পাক উনার ওয়াদা। সুবহানাল্লাহ!
 
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَإِذَا كَانَ اُمَراؤكم شِرَاركُمْ وأغنياؤكم بخلاؤكم وَأُمُورُكُمْ إِلَى نِسَائِكُمْ فَبَطْنُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ من ظهرهَا.
“আর যখন মন্দ লোকেরা আপনাদের শাসক হবে, বিত্তবান লোকেরা হবে কৃপণ এবং আপনাদের শাসনভার ন্যস্ত হবে মহিলাদের উপর, তখন যমীনের পিঠ অপেক্ষা তার পেট হবে আপনাদের জন্য উত্তম। অর্থাৎ তখন দুনিয়ার যমীনে বেঁচে থাকার চেয়ে কবরে চলে যাওয়াটা আপনাদের জন্য অতি উত্তম হবে।” (তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে বাযযার, আস সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান, তাহযীবুল আছার, হিলিয়াতুল আওলিয়া, জামি‘উল আহাদীছ, জামি‘উল উছূল ইত্যাদি)
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার বাস্ততা পরিপূণরূপে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে। নাঊযুবিল্লাহ!
 
সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক-এ একজন খলীফা তিনি একটি কুকুর, পশু-পাখি ও প্রাণীর খাদ্য ও শান্তির নিরাপত্তা দেন। একজন খলীফা তিনি মনে করনে, উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার আওতাধীন এলাকায় একটি কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায় এই জন্য উনাকে জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠী একটি কুকুর, পশু-পাখি ও প্রাণী তো দূরের কথা স্বয়ং দেশের কোটি কোটি জনগণের খাদ্যে ও শান্তির নিরাপত্তা দিতে পারে না, ঈমানের নিরাপত্তা দিতে পারে না। এই সমস্ত শাসকদের কারণে শুধু একটি কুকুর না; বরং লাখ লাখ লোক না খেয়ে থাকে। শত-সহ¯্র লোকের বেহুদা প্রাণহানি ঘটে। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে কোটি কোটি লোক। নাঊযুবিল্লাহ! দেশের জনতা কি এরপরেও এই বিষয়টি ফিকির করবে না? একবারও ভেবে দেখবে না?
তারা কি এরপরেও অসীম নাজ-নিয়ামত মুবারক-এ পরিপূর্ণ সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওয়াহ মুবারক বাদ দিয়ে কাফির-মুশরিকদের প্রণীত হারাম গণতন্ত্রকে আঁকড়িয়ে ধরে রাখবে? তারা কি এরপরেও মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মনোনীত একমাত্র শাসনব্যবস্থা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনাকে ছেড়ে দিয়ে কাট্টা কাফির আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রণীত যুলুম-নির্যাতন ও প্রতারণায় পরিপূর্ণ হারাম গণতন্ত্রের অনুসরণ করবে?
 
যা হোক, দেশের পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, যদি খারাপ হতে হতে শেষ পর্যন্ত এই অবস্থায় যেয়েও পৌঁছে যে, যেরূপ খারাপ পরিস্থিতির কথা কোন মানুষ কখনও কোন ইতিহাসে পড়েনি, কখনও শুনেওনি। সেখান থেকেও মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এই দেশবাসীকে চির মুক্তি দান করবেন, চির পরিত্রাণ দান করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা তিনি হচ্ছেন পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! আর ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার একটি বিশেষ অর্থ মুবারক হচ্ছে, সর্বশ্রেষ্ঠ আযাদ বা মুক্তিদানকারী। এমন আযাদ বা মুক্তিদানকারী যাঁর মতো আযাদ বা মুক্তিদানকারী দ্বিতীয় আর কেউ নেই। অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ আযাদ বা মুক্তিদানকারী। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং সাইয়্যিদুল খুলাফা, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি কাফির-মুশরিকদের প্রণীত হারাম গণতন্ত্রকে চিরতরে মিটিয়ে দিয়ে এই দেশে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেন তথা এই দেশবাসীকে যুলুম-নির্যাতনের জিঞ্জির থেকে চির মুক্তি দান করবেন, আযাদ দান করবেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উনার প্রতিষ্ঠিত এই সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে ছড়িয়ে পড়বে। উনার মুবারক উসীলায় তখন এই দেশ ও সারা পৃথিবী হবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার একটি অংশ। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হয়ে, পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম হয়ে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবী তো অবশ্যই; এমন কি সীমাহীন প্রতাপ ও ব্যাপকতার সাথে সারা কায়িনাতব্যাপী সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বৎসর যাবৎ সম্মানিত ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ’ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ! উনার পর উনার হুবহু ক্বায়িম-মাক্বাম হয়ে উনার সুমহান আওলাদ, খলীফাতুল উমাম আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিও সীমাহীন প্রতাপ ও ব্যাপকতার সাথে সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বৎসর যাবৎ সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। তখনও এদেশ ও সারা পৃথিবী থাকবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার একটি অংশ। সুবহানাল্লাহ!
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে