পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই হচ্ছেন বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের চরম নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের একমাত্র ত্রাণকর্তা, মুক্তির দিশারী। সুবহানাল্লাহ!-ধারাবাহিক।


পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই হচ্ছেন বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের চরম নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের একমাত্র ত্রাণকর্তা, মুক্তির দিশারী। সুবহানাল্লাহ!-ধারাবাহিক।
**********************************************************************
পূর্ব প্রকামিতের পর —
**************************
সেটাই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
وَبَعْدَ الْـمُلُوْكِ جَبَابِرَةٌ وَّبَعْدَ الْـجَبَابِرَةِ يـَخْرُجُ رَجُلٌ مّـِنْ اَهْلِ بَـيْتِـىْ يـَمْلَاُ الْاَرْضَ عَدْلًا.

অর্থ: “রাজা-বাদশাদের পর তথা রাজতন্ত্রের পর হবে চরম অত্যাচারী, চরম যালিম, চরম অহঙ্কারী, চরম প্রতাপশালী, চরম লুটেরা, চরম স্বৈরাচারী, চরম নাফরমান, চরম উদ্ধত, চরম গোমরাহ, চরম পথভ্রষ্ট, চরম বিভ্রান্ত, চরম গোমরাহকারী, চরম পথভ্রষ্টকারী, চরম বিভ্রান্তকর শাসকদের শাসন ব্যবস্থা। (তাদের কারণে ফিতনা-ফাসাদ, বেপর্দা-বেহায়া, অত্যাচার-অবিচার, যুলুম-নির্যাতন, কুফরী-শিরকী, হারাম-নাজায়িয, কার্যকলাপে, বেইনসাফীতে পুরো পৃথিবী ভরে যাবে, কোথায়ও সম্মানিত ইনসাফ উনার লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকবে না।) অতঃপর আমার পূত পবিত্র মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে আমার একজন খাছ আওলাদ, একজন মহান খলীফা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুাবরক নিবেন। তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুাবরক নিয়ে পুরো পৃথিবী, সারা কায়িনাত সম্মানিত ইনসাফ মুবারক দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবেন তথা সারা বিশ্বে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত ‘আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিা করবেন (এবং সারা বিশ্বের চরম নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানব জাতিকে চরম যুলুম-নির্যাতনের বেড়ী জাল থেকে চির মুক্তি দান করবেন, তাদেরকে প্রকৃত কল্যাণ ও নাজাত দান করবেন)।” সুবহানাল্লাহ!

অন্য হাদীছ শরীফ মুবারক উনার মধ্যে বলা হয়েছে, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের এই কেন্দ্রের নিকট তিনজন ব্যক্তি শহীদ হবেন। উনারা প্রত্যেকেই হবেন একজন আখাচ্ছুল খাছ মহান খলীফা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মুবারক বংশধর। অর্থাৎ উনারাও সম্মানিত খলীফা হবেন। তবে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী পবিত্র আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে যে খাছভাবে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের কথা বলা হয়েছে উনারা সেই ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত নন; কিন্তু উনারা সৎ ও ইনসাফগার খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক মনোনীত। অতঃপর হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হিসেবে প্রকাশ পাবেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হচ্ছে-
عَنْ حَضْرَتْ ثَوْبَانَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يَقْتَتِلُ عِنْدَ كَنْزِكُمْ ثَلاَثَةٌ كُلُّهُمُ ابْنُ خَلِيفَةٍ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى ولد خليفة، ثُـمَّ لاَ يَصِيْرُ اِلـٰى وَاحِدٍ مِنْهُمْ ثُـمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ فَيَقْتُلُوْنَكُمْ قَتْلاً لَـمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ ثُـمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لاَ أَحْفَظُه فَقَالَ فَاِذَا رَاَيْتُمُوْهُ فَبَايِعُوْهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ فَاِنَّه خَلِيْفَةُ اللهِ الْمَهْدِيُّ.
“হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন , )হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে) আপনাদের এই কেন্দ্রের নিকট তিনজন ব্যক্তি শহীদ হবেন। উনারা প্রত্যেকেই হবেন একজন মহান খলীফা আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ বা সন্তান। অন্য বর্ণনায় এসেছে- ولد خليفةতথা উনারা প্রত্যেকেই হবেন একজন আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ খলীফা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মুবারক বংশধর। অতঃপর তিনি উনাদের একজনের নিকটও পৌঁছাবেন না। তারপর পূর্ব দেশ থেকে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। অতঃপর তারা তোমাদেরকে এমনভাবে শহীদ করবে, যেমনটি ইতঃপূর্বে কোনো জাতি করেনি। রাবী বলেন, এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো কিছু আলোচনা মুবারক করেছেন, যা আমার স্মরণে নেই। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা যখন উনাকে (হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম) দেখতে পাবে, তখন উনার মুবারক হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে, যদিও তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়। কেননা তিনিই হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম।”
(ইনশাআল্লাহ চলবে)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে