পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার প্রমাণ


পবিত্র কুরআন শরীফে মহান মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون
অর্থ: “হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন যে, তারা যে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ‘ফযল’ ও ‘রহমত’ পেয়েছে, সেজন্য যেন খুশি প্রকাশ করে। এ খুশি প্রকাশ করাটা হবে তাদের তরফ থেকে তাদের সমস্ত জীবনের সমস্ত আমল তথা ঈমান-আমল, ইখলাছ ইত্যাদি জমাকৃত সকল নিয়ামত- যা দ্বীনি ও দুনিয়াবী তা অপেক্ষা অতি উত্তম।” (পবিত্র সূরা ইউনুছ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইচ্ছা করলে বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফে নির্দেশ মুবারকটি সরাসরি করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে নির্দেশ মুবারকটি জারি করার রহস্য লক্ষ-কোটি। তার মধ্যে একটি হলো- যত সব রহমত, নিয়ামত ও ফযল মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে প্রদত্ত হয়েছে বা হবে, সবগুলোর মূল হলেন- , হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। তাই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وما ارسلناك الا رحمة للعالمين
অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি আপনাকে সমস্ত আলমের জন্যে রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি অর্থাৎ রহমত মুবারকস্বরূপ সৃষ্টি করেছি।” (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)

‘ক্বুল’ শব্দ দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলছেন যে, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনি যেহেতু সব রহমত উনার মূল, তাই আপনার যবান মুবারক দিয়েই জানিয়ে দিন যে, যত সব নিয়ামত অর্থাৎ আমার অস্তিত্ব, আমার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ, পবিত্র নুবুওওয়াত ও পবিত্র রিসালত মুবারক ইত্যাদি মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হাদিয়া করেছেন, উনাদের জন্য ঈদ বা খুশি প্রকাশ করো। উপরে বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ‘ফদ্বল’ এবং ‘রহমত’ শব্দদ্বয় দিয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বর্ণনাভঙ্গীতে যখনই ‘ফদ্বল’ ও ‘রহমত’ বর্ণিত হয়, তখনই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করা হয়। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ولولا فضل الله عليكم ورحمته لاتبعتم الشيطان الا قليلا
অর্থ: “হে মুসলমানগণ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার ‘ফদ্বল’ এবং ‘রহমত’ তোমাদের উপর না হতো তাহলে তোমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাড়া সকলেই শয়তানের অনুগামী হয়ে যেতো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৩)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ‘ফদ্বল এবং ‘রহমত’ শব্দদ্বয়ের তাফসীরে অধিকাংশ মুফাসসির রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত হলো, শব্দ দুটি দ্বারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন যে, যদি আখিরী রসূল,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আগমন না করতেন, তাহলে তোমাদের অধিকাংশই শয়তানকে অনুসরণ করে ধ্বংস হয়ে যেতো। শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি দয়া করে উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়ে তোমাদেরকে হালাকী থেকে রক্ষা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
ولولا فضل الله عليكم ورحمته لكنتم من الخاسرين.
অর্থ: “আর যদি মহান আল্লাহ পাক উনার ‘ফদ্বল’ এবং উনার ‘রহমত’ না হতো, তবে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় অধিকাংশ মুফাসসিরীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত হলো, বর্ণিত ‘ফদ্বল’ ও ‘রহমত’ শব্দ দুটি দ্বারা আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণে তোমরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছো। সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা প্রমাণিত হলো যে- ‘ফদ্বল’ ও ‘রহমত’ শব্দ দ্বারা আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম উনাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। সুতরাং এই ‘ফদ্বল’ ও ‘রহমত’ লাভ করার কারণে খুশি প্রকাশ করার নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারাই আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ বা মুবারক তাশরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা ফরয প্রমাণিত হলো। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন মুবারক উনার আলোচনা করা, উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, যা সাধারণতঃ পবিত্র মীলাদ শরীফ মজলিসে করা হয়- এটা সুন্নাতুল্লাহ উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে