পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও হযরত আউলিয়ায় কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ক্বওল শরীফ উনাদের আলোকে পবিত্র ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ করার বেমেছাল ফযীলত


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করার নির্দেশ স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَه يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا اَيُّهَا الَّذِينَ امَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে পবিত্র ছলাত বা পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করেন। হে ঈমানদার বান্দাগণ! তোমরাও উনার শান মুবারক-এ পবিত্র ছলাত বা পবত্রি দুরূদ শরীফ পাঠ করো এবং সালামের মতো সালাম দাও অর্থাৎ পরিপূর্ণ আদবসহকারে উনার প্রতি পবিত্র সালাম পেশ করো।”
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত
صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
বাক্যখানা আমর বা আদেশসূচক। আর আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী আমর বা আদেশসূচক বাক্য দ্বারা ফরয-ওয়াজিব ছাবিত হয়। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বতের সাথে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা প্রত্যেক ঈমানদার বান্দা-বান্দী উনাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ করার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت كرم الله وجهه عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صلى على صلاة كتب الله له قيراطا والقيراط مثل احد
অর্থ: হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে কেউ আমার উপর একবার ‘পবিত্র দুরূদ শরীফ’ পাঠ করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এক ক্বীরাত ছওয়াব দিয়ে থাকেন। এক ক্বীরাত হচ্ছেন ওহুদ পাহাড়ের সমতুল্য।’ সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ)
عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صلى على فى يوم مائة مرة كتب الله له بها الف الف حسنة ومحا عنه الف الف سيئة وكتب له مائة صدقة مقبولة ومن صلى على ثم بلغتنى صلاته صليت عليه ونالته شفاعتى
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে কেউ প্রত্যহ আমার উপর ১০০ বার ‘পবিত্র দুরূদ শরীফ’ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার জন্য এক লক্ষ নেকি লিখে দেন। তার এক লক্ষ গুনাহকে মুছে দেন, তাকে একশত কবুল ছদক্বার ছওয়াব দেন। যে কেউ আমার উপর ‘দুরূদ শরীফ’ পাঠ করে, সেই ‘পবিত্র দুরূদ শরীফ’ আমার নিকট উপস্থাপিত হলে আমি তার জন্য রহমতের প্রার্থনা করি এবং সে আমার শাফায়াত লাভ করে থাকে।’ সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্তফা)
عن حضرت ابى مسعود انصارى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صلى على صلاة لم يصل فيها على اهل بيتى لم تقبل منه
অর্থ: হযরত আবী মাসউদ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে কেউ নামায পড়ে কিন্তু সেই নামাযের মধ্যে আমার এবং আমার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ উনাদের উপর ‘পবিত্র দুরূদ শরীফ’ পাঠ করে না, তবে সেই নামায মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেন না।’ সুবহানাল্লাহ! (দারুকুতনী শরীফ, বায়হাকী শরীফ)

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صلى على فى كتاب لم تزل الملائكة يستغفرون له مادام اسمى فى ذالك الكتاب
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘কোন ব্যক্তি কোনো কিতাব রচনাকালে তন্মধ্যে পবিত্র দরূদ শরীফসহ আমার নাম মুবারক লিপিবদ্ধ করে তবে যতদিন সেই কিতাবে আমার পবিত্র নাম মুবারক বর্তমান থাকবে ততদিন পর্যন্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবেন।’ সুবহানাল্লাহ! (তাবারানী শরীফ)

Views All Time
2
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে