পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়ার বিক্রিত অর্থ মাদরাসা ও ইয়াতিমখানায় খরচের খাতে ব্যবহারের বিধান


পবিত্র কুরবানী পশুর চামড়া বা তার মূল্য, যাকাত, ফিতরা ইত্যাদি গরীব, মিসকীন ও ইয়াতীমদের হক্ব অর্থাৎ ওয়াজিব ছদকা (আদায় হওয়ার জন্য) গরীব, মিসকীন ও ইয়াতীমদেরকে তার (ছদকার) মালিক করে দেয়া শর্ত। তাই যে সকল মাদরাসায় লিল্লাহ বোডিং অর্থাৎ গরীব, মিসকীন ও ইয়াতীম ছাত্র রয়েছে, সে সকল মাদরাসায় যাকাত, ফিতরা ও কুরবানী পশুর চামড়া বা তার মূল্য দেয়া যেরূপ জায়িয, তদ্রুপ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য তা লিল্লাহ বোডিংয়ে গ্রহণ করাও জায়িয।
উল্লেখ্য, উক্ত ছদকার টাকা দিয়ে শুধুমাত্র ছাত্রদেরকে খাওয়ালেই চলবেনা বরং ছাত্রদেরকে তা’লীম দেয়ার জন্য উস্তাদ বা শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে এবং ছাত্রদের থাকার জন্য ঘরের দরকার রয়েছে, আর তার জন্যে টাকা-পয়সারও জরুরত রয়েছে। তাই সম্মানিত ফুক্বাহ্ েকিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এরূপ ছদকার ব্যাপারে একটি সুন্দর সমাধান বা ফায়ছালা দান করেছেন। অর্থাৎ উনারা বলেছেন, “ছদকার টাকা হিলা করা হলে, তা দ্বারা উস্তাদদের বেতন দেয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও মাদরাসার জন্য ঘর তৈরী করা সবই জায়িয।”
আর হিলার পদ্ধতি হলো- মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কোন গরীব, মিস্কীন বা ফকীরকে উক্ত ছদ্কার টাকাগুলোর মালিক করে দিবে। অতঃপর উক্ত গরীব, মিসকীন ও ফকীর সে টাকাগুলো মাদরাসায় দান করে দিবে।
অতএব, শুধুমাত্র উক্ত ছূরতেই ছদকার টাকা দিয়ে উস্তাদদের বেতন দেয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও মাদরাসার জন্য ঘর তৈরী করা জায়িয ও শরীয়তসম্মত। (শামী, দুররুল মুখতার, আলমগীরী, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে