পবিত্র কুরবানীর পশুর ডিজিটাল হাট; প্রতারণার নতুন ফাঁদ


নানা ধরনের ভয়ংকর সব প্রতারণা হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যা। বদলাচ্ছে প্রতারণার ধরন। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনে ওঁৎপেতে থাকা প্রতারকরা নানা কৌশলে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করছে মানুষকে। আর বর্তমানেও পবিত্র কুরবানীর পশুর ডিজিটাল হাট বসিয়ে মুসলমানের ঈমান আমল ও অর্থসম্পদ লুট ও প্রতারণার নতুন সিস্টেম চালু করছে ডিজিটাল প্রতারকরা।
দেশব্যাপী সাধারণ মানুষ ডিজিটাল প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তারা শুধু আর্থিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হওয়ার সাথে সাথে ঈমান আমলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অনলাইনে পশুর ডিজিটাল হাটে ক্রয় বিক্রয় করতে গেলে যে বিষয়গুলোর সরাসরি প্রতারণার সম্মুখীন হতে হবে তা হলো –
১. কুরবানীর পশুর ছবি তোলা বা ভিডিও করার মাধ্যমে আপনাকে হারাম কাজে জড়িয়ে ইবলিসি কায়দায় জাহান্নামে পাঠানো।
২. পশুর বয়স, সুস্থতা ও নিখুঁততা যাচাই বাছাই পরিপূর্ণ না করেই পশুটি আপনার হাতে পৌঁছে দিয়ে কুরবানী কবুল হওয়ার শর্ত ভঙ্গের মাধ্যমে প্রতারণা।
৩. বর্তমান করোনাগযবকে ছোঁয়াচে বিশ্বাস করানোর মাধ্যমে মুশরিক বানিয়ে এবং সেই অজুহাত দিয়ে কুরবানীর পশুর ডিজিটাল হাট নাম দিয়ে আপনার সাথে প্রতারণা।
৪. না দেখে না শুনে ক্রয় করে আপনার পবিত্র কুরবানীকে অপছন্দনীয় পশু হিসেবে পাঠিয়ে ধারণার উপর ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রতারণা।
আবার বেচা-কেনা শরীয়তসম্মত উপায়ে সংঘটিত হওয়ার জন্য যেসব শর্ত শরায়েত রয়েছে তা ভঙ্গের মাধ্যমে প্রতারণা। সেক্ষেত্রে-
১. পশুটি বৈধ কি না সেটা যাচাই না হওয়া।
২. পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হলেও মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হওয়া।
৩. উভয়পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি না পাওয়া।
কাজেই অনলাইনে পশুর হাট আপানাকে প্রতারণার নতুন জালে বন্দী করার এক ষড়যন্ত্র ও কুটকৌশলে জাহান্নামে পাঠানো ও পবিত্র কুরবানী কবুল না হওয়ার এক নতুন ফাঁদ। এসব থেকে বিরত থাকা হাক্বীক্বী মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে