পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে জটিলতা বাড়াচ্ছে কারা?


পবিত্র কুরবানীর পশুর হাটগুলোকে ঢাকা শহরের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ঢাকা শহরের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব কিংবা পশ্চিম প্রান্তের কোনো এক হাট থেকে কুরবানীর পশু কিনে শহরের অভ্যন্তরে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু ঢাকা শহরটা একেবারে এমন ছোট শহর নয়। কমপক্ষে ২০০ বর্গকিলোমিটার। ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে কোনো ব্যক্তির পক্ষে যেকোনো প্রান্ত থেকে একটা গরু কিনে আনতে কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। অর্থাৎ গরু কিনতেই গোটা দিন শেষ। এরপর যদি পবিত্র কুরবানীর পশুকে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেতে হয় সিটি কর্পোরেশনের শ্লটার মেশিনে জবাই করে নিয়ে আসার জন্য, তাহলে ধরে নেয়া হয় যবাই করার জন্যও সারাটা দিনই ব্যয় করতে হবে (ভিআইপি এবং অন্যরা কেউ কেউ হয়তো সিটি কর্পোরেশনকে টু-পাইস দিয়ে তারাতারি করিয়ে আনতে পারবেন, সেটা আমার বিবেচ্য নয়)। আমাদের প্রতিবেশী মুশরিকটার দেশে কুরবানী করতে হলে এরকম সারাটা দিনই ব্যয় করতে হয়, অনেক দূরের জঙ্গলে নিয়ে যেতে হয়। নাউযুবিল্লাহ!
আমাদের দেশটার জনগণের শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমান। এখানে কুরবানী দিতে এত ধকল সইতে হবে কেন? পবিত্র ঈদুল আদ্বহার দিন নিজ হাতে কুরবানী দেয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরবানীর গরু কিনতে ঢাকা শহরের প্রান্তে চলে যেতে হবে, সুন্নত মুবারক আদায় করে পবিত্র কুরবানী করা যাবে না- মুসলমানদের দেশে মুসলমানরা সম্মানিত শরীয়ত উনার আমল করতে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হতে হবে। আমাদের দেশের সরকারতো মুসলমানই বটে। মুসলমানরা যাতে নির্বিঘেœ-নির্ঝঞ্জাটে কুরবানীর আমলটা করতে পারেন, সেজন্য সরকারের সব রকমের সুব্যবস্থা দরকার ছিল। সেটা কোথায়?
সম্মানিত পাঠক, মুসলমানদের দেশে মুসলমানদের প্রতি এরকম বৈষম্যমূলক আচরণকে মেনে নিতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টা কি আপনাকে ব্যথিত করে?

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে