সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

পবিত্র কুরবানীর পশু ছুরি দিয়ে নিজ হাতে যবেহ করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।


 

আর মেশিনের সাহায্যে যবেহ করলে যবেহ দুরুস্ত হবে না, ফলে কুরবানী বাতিল হবে।
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- পবিত্র কুরবানীর পশু ছুরি দিয়ে নিজ হাতে যবেহ করা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। আর মেশিনের সাহায্যে যবেহ করলে যবেহ দুরুস্ত হবে না, ফলে কুরবানী বাতিল হবে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক ঈদে নিজ হাত মুবারককে দুটি দুম্বা যবেহ করেন এবং যবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেন।
আসলে একটি খাছ সুন্নত মুবারক থেকে মাহরূম ও কুরবানীদাতার কুরবানী বাতিল করতেই- সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে কুরবানীর পশুকে নিয়ে গিয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপিত শ্লটার মেশিনে যবেহ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এটা পবিত্র কুরবানী উনার বিরুদ্ধে একটি গভীর ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!! নাউযুবিল্লাহ!!!
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফায়ছালা হলো- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পশু যবেহ করার যে পদ্ধতি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যেমন- পশুকে বেঁধে মাটিতে শোয়াতে হবে। পশুর পা থাকবে পশ্চিম দিকে, মাথা থাকবে দক্ষিণ দিকে। যারা ধরবে তারা সকলে ক্বিবলামুখী থাকবেন। যিনি যবেহ করবেন তিনিও ক্বিবলামুখী হয়ে ধারালো ছুড়ি দিয়ে নিজ হাতে যবেহ করবেন। যবেহ করার সময় অবশ্যই বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলতে হবে। হলকুম এবং সিনার মাঝামাঝি স্থানে যবেহ করতে হবে। শ্বাসনালী, খাদ্যনালী তো অবশ্যই কাটতে হবে, দুই পাশের দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। যবেহ করার পর কলিজায় খোঁচা দেয়া যাবে না। পায়ের রগ কেটে দেয়া যাবে না। সম্পূর্ণ দম চলে যাওয়ার পর চামড়া ছিলানোর কাজ শুরু করতে হবে। অর্থাৎ এ পদ্ধতিতেই পশু যবেহ করতে হবে। এর খেলাফ করলে অর্থাৎ মেশিনে যবেহ করলে বিদয়াত তো হবেই উপরোন্ত তার যবেহ ও কুরবানী উভয়টাই বাতিল বলে গণ্য হবে এবং উক্ত পশুর গোশত খাওয়াও হারাম হবে।
যারা মেশিনে পশু যবেহ করাকে জায়িয বলছে তাদেরকে দলীল পেশ করতে হবে যে- পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের কোথাও মেশিনে পশু যবেহ করাকে জায়িয বলা হয়েছে? কেউ কেউ সউদী আরব ও অন্যান্য দেশের উদাহরণ দিয়ে থাকে। মূলত কোনো রাষ্ট্র ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসরণীয় হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত রাষ্ট্র ও ব্যক্তির আমলটি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত না হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের বক্তব্য ও আমলের পক্ষে দলীল পেশ করো।”
অতএব, পবিত্র কুরবানী ও পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাদের বিরোধী এ সিদ্ধান্ত ৯৮ ভাগ মুসলমান কখনোই মেনে নিবে না। তাই সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে- পবিত্র কুরবানী ও সুন্নত মুবারক উনার বিরোধী সকল সিদ্ধান্ত অতিসত্বর প্রত্যাহার করে নেয়া

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে