পবিত্র কুরবানী উনার পশু যবেহ করা মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম, নির্দয়তা নয়


 

কাক, চিল, বাজ ও শকুন ছোট ছোট দুর্বল পাখিকে ছোঁ মেরে নিয়ে গিয়ে খায়। আঠালো ও মিষ্টি দ্রব্য মিশ্রিত জিহবা প্রসারিত করে কিছু জন্তু-জানোয়ার ওঁৎপেতে থাকে শিকারের আশায় পিপড়া, কীট-পতঙ্গ ও পোকা-মাকড় তাতে আকৃষ্ট হয়ে বসলে তা চট করে এগুলোকে খেয়ে ফেলে। আগুন পতঙ্গের জীবন নাশ করে। কুমির, উদ, হাঙ্গর, ডলফিন, তিমি প্রভৃতি বড় বড় রক্ত-পিপাসু প্রাণী ছোট ছোট পানিচর প্রাণীকে খেয়ে সাবাড় করে দেয়। এমনকি কোনো কোনো মাছ শিকারের নেশায় এক মেরু হতে অপর মেরু পর্যন্ত ছুটাছুটি করে। মাকড়শা, মশা-মাছি শিকার করে। মশা-মাছি শিকারী প্রাণী তা মেরেই খেয়ে থাকে। বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, চিতা, হায়েনা প্রভৃতি হিংস্র প্রাণী হরিণ, বানর ইত্যাদি মেরে খায়। বিড়াল ইঁদুর মেরে খায়। এন্টিইনসেক্ট ব্যবহার করে উকুন ও পোকা নিধন করা হয়। হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম তিনি পাত্র বিশেষে কতো কঠোরভাবে জান কবয করে দুনিয়া হতে বিদায় করেন। এসবই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ব্যবস্থাপার অধীন এবং তা যুলুম নয়।
আর খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হলেন অসীম দয়ালু, পরম করুণাময় ও সর্বোচ্চ ক্ষমাশীল। এরপরেও কী কোনো অনুগত বান্দা-বান্দি বলতে পারে? খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যাচারী যালিম, নির্দয় ইত্যাদি (নাঊযুবিল্লাহ) অথবা বিশ্ব ব্যবস্থায় এসব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা দেখেও কী কেউ বলতে পারে যে, যবেহ’র নিয়ম-কানুন,যুলুমের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে? তা কখনো নয়। তাহলে কিভাবে পবিত্র কুরবানী উনার পশু যবেহ করাকে নির্দয়তা বলে চালিয়ে দেয়া যায়? উচ্চ মর্যাদাশীল মানুষের শান্তি ও সুখের জন্য নি¤œ মর্যাদাশীল, পিপড়া, উকুন, তেলাপোকা বিনাশ করা যখন নির্দয়তা নয়, তখন পবিত্র কুরবানী উনার পশু যবেহ করা নির্দয়তা এমন আপত্তি কস্মিনকালেও গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ যদি পবিত্র কুরবানী উনার পশু যবেহ করাকে নির্দয়তা বলে পবিত্র কুরবানী পরিত্যাগ করে, তবে কী খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এগুলোকে চিরদিন বাঁচিয়ে রাখবেন? আর এগুলো না মরলেই কী এদের প্রতি দয়া করা হবে? এখন প্রশ্ন হলো, যবেহ করা যদি দয়া মায়া, অনুগ্রহ ও কৃপার পরিপন্থী হতো, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি শিকারী ও গোশতভোজী প্রাণী সৃষ্টি করতেন না। অধিকন্তু যদি যবেহ না করা হতো, তাহলে এসব প্রাণী কেনো রোগ-শোকে বা কোনো না কোনোভাবে মারা যেতোই। এ সময় এদের কত কষ্ট হতো। এ দুনিয়ার অনেক জিনিসই সীমাহীন বৃদ্ধি পেতে চায়। যেমন পশু-পাখি, জীব-জন্তু অনেক বটফল খেয়ে ফেলে এরপরেও এর যতো বীজ মাটিতে পড়ে তার সবগুলো থেকে গাছ হলে পৃথিবীটি বটগাছে ভরে যেতো। কিন্তু তা হয় না। এ থেকে বুঝা যায়, খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতময়।
অনুরূপভাবে যদি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এদের পবিত্র কুরবানী উনার ব্যবস্থা না করে রক্ষা করতেন, তাহলে এদের জীবনধারণের জন্য পৃথিবীর সমস্ত গাছ-পালাও খাদ্য হিসেবে হয়তো বা যথেষ্ট হতো না। পৃথিবী হতো এক প্রকার গাছ-পালা শূন্য। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতো। যখন পবিত্র কুরবানী না করার ফলে এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়, তখন এদের পবিত্র কুরবানী করা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছার পরিপন্থী কেন হবে? বরং পবিত্র কুরবানী উনার পশু যবেহ করা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম। আর খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম কস্মিনকালেও নির্দয়তা হতে পারে না। এখন কথা হলো, তথাকথিত পশুপ্রেমী ও মানবদরদীরা পবিত্র কুরবানী উনার হুকুমকে নির্দয়তা প্রতিপন্ন করলে; ম্যাডকাউ, অ্যানথ্রাক্স, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিগুলোকে প্রজ্জ্বলিত আগুনে ফেলে অথবা জীবন্ত কবর দিয়ে ধ্বংস করাতে এবং সারা দুনিয়ায় কাফিরগোষ্ঠী কর্তৃক নিরপরাধ নারী, শিশুসহ মুসলমানকে একেবারে অন্যায় ও বর্বোরোচিত পন্থায় নিধন করা হচ্ছে- একে তারা কী বলবে বা কি প্রতিপন্ন করবে? দয়া না নির্দয়তা? এক্ষেত্রে তারা লা-জাওয়াব, মুখে কুলুপ আটা অথচ পবিত্র কুরবানী উনাকে বিষোদগার করতে, নির্দয়তা বলতে ওদের মুখে কুলুপছোটা। হায়রে পশুপ্রেমী! হায়রে মানবদরদী! বন্তুত এগুলোই নির্দয়তা, পবিত্র কুরবানী উনার পশু যবেহ করা খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম, নির্দয়তা নয়।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে