সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

পবিত্র কুরবানী কি নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে!


(১). আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার সময় ঘরে ঘরে পাড়ায় মহল্লায় পশু কুরবানী করা যাবে না বলে সরকার জানিয়েছে। রাজধানীতে পশু কুরবানীর জন্য স্থান নির্ধারণ করছে দুই সিটি কর্পোরেশন। এসব স্থানেই নাকি পশু কুরবানী করতে হবে।
(২). পশু জবাইয়ের স্থানের তালিকা ঈদের আগেই নগরবাসীকে জানিয়ে দেয়া হবে। নির্দিষ্ট স্থানে জবাই শেষে সেখানেই পশুর বর্জ্য রাখতে হবে, কর্পোরেশনের কর্মীরা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাবে।
এ রকম আজগুবি কথা শুনে কিছু প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক –
(১). ধীরে ধীরে এসব নীতিনির্ধারকরা কি কুরবানী নিষিদ্ধ করে দিতে চাইছে?
(২). হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য ঘরে ঘরে পাড়ায় মহল্লায় কুরবানীর পশু কুরবানী কেন তারা নিষিদ্ধ করে দিলো?
(৩). রাজধানীর সব পশু কি মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি স্থানে নিয়ে গিয়ে কুরবানী করা সম্ভব? যেখানে দিনে-দুপুরে ঘর থেকে মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, নারীদের তুলে নিয়ে গ্যাং রেপ করা হয়, সেখানে হাজার হাজার কুরবানীর পশুর জবাই, চামড়া তোলা, গোশত কাটা, বণ্টন ইত্যাদি যে নিরাপদে করা যাবে, গোশত ও চামড়া লুট হবে না, এর নিশ্চয়তা তারা কী করে দেবে?
(৪). পবিত্র ঈদুল আযহার দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্পোরেশনের লোকজন কী ঘরে ঘরে পাড়ায় মহল্লায় বেআইনী ঘোষিত কুরবানী দেয়ার সময় লোকজনকে ধাওয়া করবে, নাকি কুরবানীর নির্দিষ্ট স্থান পাহারা দেবে?
(৫). কুরবানীদাতারা গোশত কেটে তা কীভাবে বাড়ি-ঘরে আনবেন? বন্ধু ও আত্মীয়-প্রতিবেশীদের অংশ তারা কী করে বিলাবেন? পরিচিত ও নিজস্ব দরিদ্রদের অংশ তারা কীভাবে পৌঁছাবেন? জবাইয়ের মাঠেই কি এসব করা সম্ভব?
(৬). বাড়ির মহিলাদের পরামর্শ, কাজ ও সহায়তাটুকু কি মাঠে পাওয়া যাবে?
(৭). সরকার নির্ধারিত স্থানে কী হাজার হাজার পশু নিয়ে গিয়ে জবাই করা সম্ভব?
যদিও নাস্তিক-মুরতাদ লোকদের সরাসরি কুরবানী নিষিদ্ধ করার সাহস এখনো হয়নি, তবে তারা ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে। কুরবানীর জায়গায় বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি হলে মানুষ কুরবানী দেয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। ইসলামবিদ্বেষী চক্রটি এটাই চায়। তবে এসব ইসলামবিদ্বেষী নিয়মনীতি যারা চালু করার চেষ্টা করছে, তারা এর পাল্টা ধাক্কাটা সামাল দিতে পারবে কিনা সেটাই ভাবছি। এ আইন বাস্তবায়ন করা কিছুতেই সম্ভব নয়। মানুষ এ আইনকে কুরবানী নিষিদ্ধের পাঁয়তারা বলেই ভাবছে।
সরকারের এমন ভুল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতেই হবে। অন্যথায় এমন একটি সেনসিটিভ বিষয় নিয়ে কেউ যদি নয়-ছয় করে, তাহলে সরকারের জন্য তা সুখকর কিছু হবে না। জনগণের সরকার যদি হয়েই থাকে, তাহলে সরকারের উচিত- জনগণের অনুভূতিকে বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে