পবিত্র ছফর শরীফ মাস অশুভ নয় এবং কুলক্ষণের প্রতীক নয়


পবিত্র ছফর শরীফ মাস মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত খাছ মাস। এ মাস অশুভ ও কুলক্ষণে নয়। কাফির-মুশরিকরা এ মাসকে অশুভ ও কুলক্ষণের প্রতীক মনে করে থাকে। আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে ‘পবিত্র ছফর শরীফ’ মাসকে কাফির-মুশরিকরা অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করতো। এ আক্বীদা তাদের অন্তরে বদ্ধমূল ছিল যে, সর্বপ্রকার আপদ-বিপদ, বালা-মুছীবত, রোগ শোক, মহামারি পবিত্র ছফর শরীফ মাসেই আগমন করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! এজন্যই এ পবিত্র ছফর শরীফ মাসকে নিয়ে তাদের নানা ভ্রান্ত আক্বীদা এবং কুসংস্কারমূলক কর্মকা-ের সূত্রপাত হয়। তাই তারা সুবিধানুযায়ী খেয়ালখুশি অনুযায়ী স্বেচ্ছাচারিতার সাথে এ মাসটি আগে-পিছে করতো। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে যা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। পূর্ব যামানায় ছফর মাসকে উপলক্ষ করে যেমনি ভ্রান্ত আক্বীদা বিরাজমান ছিল, তেমনি বর্তমানেও অনেক আক্বীদা সমাজে প্রচলিত আছে। সে সমস্ত ভ্রান্ত আক্বীদা মূলোৎপাটনকল্পে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে।

বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ও মিরকাত শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত আছে। সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই, পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছু নেই, তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) দ্বারা বৃষ্টি বা কোনো কিছু হওয়া বা না হওয়াও ভিত্তিহীন এবং ছফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।” সুবহানাল্লাহ!

অতএব, ছফর মাসকে গালি দেয়া, অশুভ, কুলক্ষণে ধারণা করা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি আক্বায়িদী মাসয়ালা। তাই প্রত্যেক নর ও নারীর দায়িত্ব-কর্তব্য পবিত্র ছফর শরীফ মাস সম্পর্কে উত্তম ধারণা রাখা। এ মাসকে গালি না দেয়া, অশুভ কুলক্ষণে মনে না করা প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের সকলকে যাবতীয় বিষয়ে সঠিক আক্বীদা পোষণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে