পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোন রোগ নাই “ছোঁয়াচে বিশ্বাস করা শিরক”


মহামারীসহ যে কোন রোগই তা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি এবং উনার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রনাধীন। রোগের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নাই যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হুকূম ছাড়া অন্যের উপর আক্রমন করবে। এবং তিনি কোন রোগকে এমন কোন ক্ষমতাও দেন নাই যে, সে তার নিজস্ব ইচ্ছায় অন্যের উপর আক্রমন করতে পারবে। কারো কোন রোগ হওয়া বা না হওয়া তা পরিপূর্ণ রূপে মহান আল্লাহ পাক উনার ইখতিয়ারভুক্ত।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমনিভাবে বলেছেন, “ছোয়াঁচে বলতে কোন রোগ নাই” তেমনিভাবে তিনি এই বিষয়টি উম্মতদেরকে তা’লিম দেয়ার জন্য, স্বয়ং তিনি সরাসরি আমল দ্বারাও প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন।
এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম, তাবেয়ীন,তাবে-তাবেয়ীন রহমাতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারাও সরাসরি আমলের দ্বারা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ছোঁয়াচে বলতে কোন রোগ নাই। তাই কোন রোগকে ছোয়াঁচে বা সংক্রামক মনে করা শিরক ও কুফরী।

হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনারা সরাসরি প্রমাণ করলেন যে, ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোনো রোগ নেই:
মহামারী সংক্রামক রোগ নয়, তাই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহামারীতে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ঘর সংসার করা বা না করা দুইটাই ব্যাক্তির ইচ্ছাধীন করা হয়েছে, এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
قَالَ حَضْرَتْ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ أَيُّمَا رَجُلٍ نَكَحَ وَبِهَا بَرَصٌ أَوْ جُنُونٌ أَوْ جُذَامٌ أَوْ قَرْنٌ فَزَوْجُهَا بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَمَسَّهَا إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ وَإِنْ مَسَّهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا.
অর্থ: ইমামুল আউয়াল মিন আহলি রসূল্লিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বিবাহ করলো এমন একজন মহিলাকে, যে ধ্ববল রোগীনী বা পাগলী বা কুষ্ঠ রোগীনী অথবা ক্বরন (একধরণের রোগ যা মহিলাদের গোপনাঙ্গে হয়ে থাকে) রোগীনী। উক্ত ব্যক্তি যদি উক্ত মহিলাকে স্পর্শ না করে থাকে, তাহলে তার জন্য ইখতিয়ার বা ইচ্ছাধীন রয়েছে যে, হয়তো সে তাকে স্ত্রী হিসেবে বহাল রাখবে অথবা তাকে তালাক দিয়ে দিবে। তবে যদি স্পর্শ করে থাকে তাহলে শরয়ী বৈধতার জন্য মহর প্রদান করতে হবে। (সুনানে কুবরা লিল বাইহাক্বী ৭/২১৫, সুনানে সাঈদ ইবনে মানছূর, ইতহাফুল খিয়ারাহ ৪র্থ খন্ড, আত তাহজীল ফী তাখরীজ, কাশফুল গুম্মাহ আন জামিয়িল উম্মাহ, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, আল মাজমূউ শরহিল মুহাযযাব ১৯/১৭-১, যাদুল মায়াদ, মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
এ বিষয়ে আরো বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ فِي رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً بِهَا جُنُونٌ أَوْ جُذَامٌ أَوْ بَرَصٌ قَالَ إِذَا لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فُرِّقَ بَيْنَهُمَا وَإِنْ كَانَ دَخَلَ بِهَا فَهِيَ امْرَأَتُهُ إِنْ شَاءَ طَلَّقَ وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَ
অর্থ: ইমামুল আউয়াল মিন আহলি রসূল্লিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বিবাহ করলো এমন একজন মহিলাকে যে ধবল রোগীণী বা পাগলী বা কুষ্ঠ রোগীণী। তিনি বলেন, যদি তারা নিরিবিলি অবস্থান না করে থাকে, তাহলে উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দাও। আর যদি নিরিবিলি অবস্থান করে থাকে, তাহলে সে তার স্ত্রীকে ইচ্ছা করলে তালাক দিতে পারবে অথবা তাকে স্ত্রী হিসেবে বহাল রাখতে পারবে। (মা’রেফাতুস সুনানি ওয়াল আছার লিল বাইহাক্বী ১০/১৮৯)
হযরত ফারুক্বে আ,যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে-
قَالَ حَضْرَتْ فَارُوْقٌ اَعْظَمٌ عليه السلام (عُمَرُ) إِذَا تَزَوَّجَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ وَبِهَا جُنُونٌ أَوْ جُذَامٌ أَوْ بَرَصٌ أَوْ قَرْنٌ فَإِنْ كَانَ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الصَّدَاقُ بِمَسِّهِ إِيَّاهَا وَهُوَ لَهُ عَلَى الْوَلِىِّ
অর্থ: হযরত ফারুক্বে আ,যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি পাগল বা কুষ্ঠ রোগে বা ধবল রোগে অথবা ক্বরন রোগে (একধরণের রোগ যা মহিলাদের গোপনাঙ্গে হয়ে থাকে) আক্রান্ত মহিলাকে শাদী করবে। এমতাবস্থায় যদি তার সাথে নির্জনে অবস্থান করে থাকে, তাহলে তাকে মহর আদায় করতে হবে। আর সেই মহর উক্ত মহিলার অভিভাবককে প্রদান করতে হবে। (সুনানে কুবরা লিল বাইহাক্বী, সুনানে দারাকুত্বনী)

ছাহাবী ও তাবেয়ীনগণ উনারা সরাসরি প্রমাণ করলেন যে, ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোনো রোগ নেই:
্এ বিষয়ের্ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قَالَ حَضْرَتْ عَمْرٌو كَانَ هَاهُنَا رَجُلٌ اسْمُهُ نَوَّاسٌ وَكَانَتْ عِنْدَهُ إِبِلٌ هِيمٌ فَذَهَبَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَاشْتَرَى تِلْكَ الإِبِلَ مِنْ شَرِيكٍ لَهُ فَجَاءَ إِلَيْهِ شَرِيكُهُ فَقَالَ بِعْنَا تِلْكَ الإِبِلَ فَقَالَ مِمَّنْ بِعْتَهَا قَالَ مِن شَيْخٍ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ وَيْحَكَ ذَاكَ وَاللَّهِ ابْنُ عُمَرَ فَجَاءَهُ فَقَالَ إِنَّ شَرِيكِي بَاعَكَ إِبِلاً هِيمًا وَلَمْ يَعْرِفْكَ قَالَ فَاسْتَقْهَا قَالَ فَلَمَّا ذَهَبَ يَسْتَاقُهَا فَقَالَ دَعْهَا رَضِينَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لاَ عَدْوَى.
অর্থ: হযরত আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ঐখানে নাওওয়াস নামক একজন ব্যক্তি ছিলেন, উনার নিকট একটি পিপাসা রুগ্ন একটি উট ছিল। অতপর হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি গিয়ে উক্ত রুগ্ন উটকে উনার অন্য একজন শরীকদার থেকে ক্রয় করলেন। কিছুক্ষন পর হযরত নাওওয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি আসার পর উনার শরীকদার উনাকে বললেন, আমরা উক্ত উটটি বিক্রয় করে দিয়েছি। তখন হযরত নাওওয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কার কাছে বিক্রয় করলেন। তখন শরীকদার কিছু লক্ষণ বর্ণনা করে বললেন, উমুক শায়খ উনার নিকট বিক্রয় করেছি। তখন হযরত নাওওয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনার জন্য আফসোস। তিনি তো হযরত ইবনু ‘উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন। এরপর হযরত নাওওয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার নিকট এলেন এবং বললেন, আমার শরীক আপনাকে চিনতে না পেরে আপনার কাছে পিপাসা রুগ্ন একটি উট বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, উটটি নিয়ে যান। তিনি যখন উটটি নিয়ে যেতে উদ্যত হলেন, তখন হযরত ইবনু ‘উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, রেখে দিন। কেননা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফয়সালা মুবারকে সন্তুষ্ট রয়েছি। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন: ছোঁয়াচে বলে কোনো রোগ নেই। (বুখারী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে:
عن حَضْرَتْ علي بن زيد بن جدعان قال دخلت على سالم بن عبد الله منزله وكان لا يأكل إلا ومعه مسكين قال فأرسل مولى له فأتاه بعجوز عمياء جذماء أو حدباء فأجلسها معه قال فجعلت تأكل معه قال وأنا ناحية لا يدعوني ولو دعاني ما أجبته قال فقال لها أي شيء تحبين أسقيك ؟ قالت ما شئت قال فدعا لها بشراب فشربت ثم أمر مولاه فردها وكانت علة قائلي هذه المقالة إبطال رسول الله صلى الله عليه وسلم العدوى
অর্থ: হযরত আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জাদয়ান রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি হযরত সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়িতে প্রবেশ করলাম, আর হযরত সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি কোন মিসকীন ব্যতিত খাদ্য গ্রহন করতেন না, বর্ণনাকারী বলেন হযরত সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি (উনার সাথে খাদ্য গ্রহন করার জন্য) একজন মিসকীনকে নিয়ে আসার জন্য উনার গোলামকে পাঠালেন। অতপর গোলামটি একজন অন্ধ অথবা কুঁজোপীঠ বিশিষ্টা কুষ্ঠরোগীনী বৃদ্ধা মহিলাকে নিয়ে আসলেন। অতপর তিনি উনার নিকট উক্ত মহিলাকে বসালেন। বর্ণনাকারী বলেন অতপর মহিলাটি উনার সাথে বসে খেতে শুরু করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি অন্য পার্শ্বে দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আমাকে খাদ্য খাওয়ার জন্য তিনি ডাকলেন না। যদি ডাকতেন তাহলে উনার ডাকে আমি সাড়া দিতাম না। বর্ণনা কারী বলেন তিনি বৃদ্ধাকে বললেন আপনি কোন জিনিস পান করতে পছন্দ করেন? মহিলাটি বললেন, অপনি যা ইচ্ছা করেন তাহাই নিয়ে আসুন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি মহিলাটির জন্য শরবত নিয়ে আসা হলে মহিলাটি তা পান করলো। তারপর তিনি উনার গোলামকে যথাস্থানে মহিলাকে পৌঁছে দিতে বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই ঘটনাটি বর্ণনা করার কারন ছিল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই, এই হাদীছ শরীফ মুবারক প্রমান করা। সুবহানাল্লাহ! (তাহযীবুল আছার লিত্ব ত্ববারী)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে