পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা প্রত্যেকটিই হারাম


বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন। প্রতিটি কাজ-কর্ম আজকের প্রেক্ষাপটে ছবি ছাড়া অসম্ভব। ছবি দ্বারা আজ পুরো দেশটাই পরিপূর্ণ। একটি জমি কিনবে তাতেও ছবি, একটি চাকরি তাতেও ছবি। এরূপ বিদেশ যাওয়া, হজ্জ করা ইত্যাদিতে ছবি তুলতে হয়। এমনকি একটা মোবাইল সিম কিনতে গেলেও ছবি লাগে। কিন্তু মুসলমান হিসেবে একটি প্রশ্ন সেটা হলো- পবিত্র দ্বীন ইসলাম তথা ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ছবি তোলা জায়িয আছে কী? যদি জায়িয না থাকে, তাহলে একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ছবির ব্যবহার চালু রাখা কতটুকু ইসলামী শরীয়তসম্মত? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে, জায়িয-নাজায়িয প্রমাণ করতে হলে তাকাতে হবে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রতিটি পাতার দিকে। আমরা যদি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, মহান রব্বুল আলামীন তিনি উনার কালাম শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে লোক সকল! আমার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা যথাযথ পালন করে। আর যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা হতে বিরত থাকো। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তিদাতা।” (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)
আর সেই আদেশ মুবারক, নিষেধ মুবারক জানার জন্য ছবির বৈধতা জানার জন্যই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পাতা উল্টালেই শত-সহস্র পবিত্র হাদীছ শরীফ খুঁজে পাই। যেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে প্রাণীর ছবি আঁকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত; নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে যে ছবি তোলে আঁকে, রাখে তার।”
একজন সমঝদার ব্যক্তির জন্য এ পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফই যথেষ্ট বুঝার জন্য যে- ছবি কি জায়িয, নাকি নাজায়িয? এ ছবি এমন একটি প্রথা; যা ইহুদী-নাছারা কর্তৃক প্রবর্তিত, যার মধ্যে কোনো নিরাপত্তা নেই। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে ছবির বিরুদ্ধে একজোট হই। এ ছবি প্রথা বাদ দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার মহান দান ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ আশিক-আশিকাতে পরিণত হয়ে হাক্বীক্বী মুসলমান বনে যাই। আয় বারে ইলাহী! আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে