পবিত্র দ্বীন ইসলাম কায়েমের জন্য রাজশক্তি বা রাজনৈতিক দল প্রয়োজন নয়, প্রয়োজন রূহানী শক্তি।


যেসব সম্মানিত ওলীআল্লাহগণ উনাদের পদস্পর্শে, পাক-ভারত পবিত্র হয়েছিল- কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, খাজায়ে খাজেগাঁ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাদের অন্যতম পথিকৃত। ৬৩৩ হিজরীর ৬ই রজব সোমবার দিন উনার বিছাল শরীফ সাধিত হয়। আজ সেই মহান দিন। উনার অমিতধর রূহানী শক্তির জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল প্রতাপশালী পৃথিরাজের অস্তিত্ব, নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল যাদু সম্রাট রামদেও, অজয় পালের বিবিধ বান, তন্ত্র-মন্ত্র এমনকি তাদের কুফরী অস্তিত্বও। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত বিলীন হয় তাদের বিরোধিতা; নছীব হয় পবিত্র ঈমান।
বর্ণিত আছে যে, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উসীলায় এক কোটিরও বেশি বিধর্মীর পবিত্র ঈমান নছীব হয়।
উনার পূর্বে প্রায় ১৭৫ বৎসর আগে গজনীর সুলত্বান মাহমুদ রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রায় ১৭ বার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। কিন্তু তিনি এদেশে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করতে পারেননি। ১১৯০-৯১ ঈসায়ী মুহম্মদ ঘুরী এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে ভারত আক্রমণ করলে পৃথ্বিরাজ অন্যান্য রাজপুত রাজাদের সাহায্য নিয়ে মুহম্মদ ঘুরীকে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু এদিকে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ, যাদুকর প্রেরণ, তাত্ত্বিক কাপালিক ঐন্দ্রজলিক প্রেরণ, সর্বোপরি হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লোকদের উপর চরম নির্যাতন ইত্যাদিতে পৃথ্বিরাজ যখন চরম মাত্রা ধারণ করলো তখন হাবীবুল্লাহ, সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক টুকরা কাগজে পৃথ্বিরাজকে লিখে পাঠালেন ‘মান তোরা যেন্দা বদস্তে লশকরে ইসলাম বসোর্পদম’ অর্থাৎ আমি তোমাকে তোমার জীবতাবস্থাতেই মুসলিম সেনাদের হাতে সোপর্দ করলাম। এরপরই শেখ শিহাবুদ্দীন ঘুরী ১১৯২ ঈসায়ী পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করেন ও নিহত করেন।

বলতে গেলে গোটা ভারতবর্ষে হাবীবুল্লাহ, খাজায়ে খাঁজেগা হযরত মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সানজরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দ্বারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম কায়েম হয়। যার দ্বারা আরো একবার প্রতিভাতও প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম কায়েমের জন্য রাজশক্তি বা রাজনৈতিক দল প্রয়োজন নয়, প্রয়োজন রূহানী শক্তি।
উনার বিছাল শরীফ উনার সময় উনার কপাল মুবারক উনার মধ্যে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়েছিল, “হাজা হাবীবুল্লাহ মাতা ফি হুব্বিল্লাহ”। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু বিদায় নিলেন। (সুবহানাল্লাহ) এবং এই পবিত্র রজব মাসেই আজ হযরত খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফ সাধিত হয়। 
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের অনেক স্থানে অনেকে শামছুল আরিফীন, রৌশন জামীর, পীরে পীরান হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারক-এ ওরশের আয়োজন করে এবং সেখানে নেশা সেবন, গান-বাজনা, বেপর্দা-বেশরা, বিবিধ হারাম কাজের সমাহার ঘটায়। 
অথচ কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যা জীবনে কখনো করেননি এবং যা বিলকুল হারাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও গোমরাহরা তাতেই মেতে আছে এবং তাদের অনুসারীরা তাই হক্ব মনে করছে। আবার কেবল এটাই নয়, অন্যক্ষেত্রেও অনেক নামধারী নাহক্ব হাদী, পীর, শায়খুল হাদীছ, মুফাসসির, মুফতী রয়েছে, যাদেরকে তাদের অজ্ঞ অনুসারীরা হক্ব বলে মনে করে, বড় বলে জানে। সত্যিকার অর্থে হক্ব বলে মানা বা জানাই কাম্য ছিল; যদি তারা হক্ব পথে কায়েম থাকতো। কিন্তু তারাই যখন ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র করাসহ বিবিধ হারাম কাজ করে, তখন তাদেরকে কি বলে হক্ব মনে করা যায়, সেটা কি তাদের অন্ধ অনুসারীদের ভেবে দেখা উচিত নয়?

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে