‘পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াযদাহম’ উনার শিক্ষা: ইন্তেকালের পূর্বেই হাক্বীকি মুসলমান হতে হবে


“হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ্ পাক উনাকে ভয় করার মতো ভয় করো। অর্থাৎ হাক্বীক্বীভাবে ভয় করো। তোমরা মারা যেও না মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: ১০২)

গাউছুল আ’যম হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, এই পবিত্র আয়াত শরীফ হাক্বীকিভাবেই ফিকির করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যেকারণে বিছাল শরীফ গ্রহণের পূর্বে উনার ভিতরের কলিজা, গুর্দা আর যা কিছু আছে সব তছনছ হয়ে রক্ত মুবারকে পরিণত হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ!

অথচ উনার সুমহান শান মান বুজুর্গি মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, একবার এক লোক উনাকে জিজ্ঞেস করলো, হুযূর! আপনি কি মুজাদ্দিদে যামান? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর বলা হলো, আপনি কি সুলত্বানুল আরিফীন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার বলা হলো, আপনি কি কুতুবুল আলম? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার বলা হলো আপনি কি গাউছুল আ’যম? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন সে নিশ্চুপ হয়ে গেল। তিনি বললেন, তোমার কি আর কোনো লক্বব জানা নেই? লোকটি বললো: জ্বি-না, আমার আর কিছু জানা নেই। তখন তিনি বললেন- আমার মর্যাদা তারও উপরে, তারও উপরে, তারও উপরে। সুবহানাল্লাহ!

উনার বিছাল শরীফের পূর্বে গায়েব হতে আওয়াজ এসেছে, “হে প্রশান্ত নফ্স! আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্ট চিত্তে নিজ প্রতিপালক উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করুন। আপনি আমার নেককার বান্দা উনাদের মধ্যে শামিল হয়ে যান এবং সম্মানিত বেহেশতে প্রবেশ করুন।” সুবহানাল্লাহ! তিনি পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করে তাআজ্জাজা (বিজয়ী হওয়া) উচ্চারণ করতে করতে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফে প্রত্যাবর্তন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

তারপরেও যদি তিনি ‘প্রকৃত মুসলমান হতে পেরেছেন কিনা’ এটা ফিকির করেন, তাহলে আমাদের কতখানি ফিকির করা উচিত! কতখানি তওবা ইস্তেগফার করা উচিত! হাক্বীকি মুসলমান হবার কতখানি কোশেশ করা উচিত!

আজ সুমহান ১১ই রবীউছ ছানী, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ দিবস যা ‘পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াযদাহম’ নামে মশহুর। এই মহান দিবসের সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সবাইকে হাক্বীকি মুসলমান হবার তৌফিক দান করেন।

Views All Time
3
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে