পবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ পালন যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, হযরত বদরী ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা এ ব্যাপারে সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ


পবিত্র মাক্কী সূরাসমূহ উনাদের অন্যতম একখানা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই সূরা সমূহ উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি মানবজাতিকে সম্বোধন করে (যেমন- يَا اَيُّهَا النَّاسُ উল্লেখ করে) পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন। পক্ষান্তরে পবিত্র মাদানী সূরাসমূহ উনাদের অন্যতম একখানা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই সূরা সমূহ উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুমিন উনাদেরকে সম্বোধন করে (যেমন- يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا উল্লেখ করে) পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন।
পবিত্র মাক্কী সূরাসমূহ উনাদের মধ্যে একটি সূরা হচ্ছে পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ। এই পবিত্র সূরা শরীফ নাযিলের দিক দিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মক্কা শরীফ অবস্থানকালীন সময়ের শেষের দিকের সূরা। এই পবিত্র সূরা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে মানবজাতিকে ফালইয়াফরহূ বা খুশি মুবারক প্রকাশ করতে বলেছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْـمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ.
অর্থ : “হে মানবজাতি! অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্যে তাশরীফ মুবারক এনেছেন মহান নছীহত মুবারক দানকারী, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ শিফা মুবারক দানকারী, কুল-কায়িনাতের মহান হিদায়েত মুবারক দানকারী ও খাছভাবে ঈমানদারদের জন্য, আমভাবে সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহান রহমত মুবারক দানকারী (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ফদ্বল বা অনুগ্রহ মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন; সেজন্য তারা যেনো সম্মানিত ঈদ উদযাপন তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করে। এই খুশি মুবারক প্রকাশ বা ঈদ করাটা সেসব কিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া-আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (পবিত্র সূরা ইঊনুস শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ফদ্বল বা অনুগ্রহ মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক হিসেবে পাওয়ার কারণে মানবজাতি সহ কুল কায়িনাতকে এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বয় উনাদের মাধ্যমে খুশি মুবারক প্রকাশ করার আদেশ মুবারক প্রদান করেছেন। এবং সাথে সাথে এটাও বলে দিয়েছেন যে, এই খুশি মুবারক প্রকাশ করাটা সমস্ত আমল থেকেও সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ।
এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বয় যখন নাযিল হয় তখনও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পূর্ণতা ঘোষণা দেয়া হয়নি। কেননা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পূর্ণতা প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত বিদায় হজ্জ উনার সময়।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَتْـمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِيْنًا .
অর্থ : “আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে কামিল বা পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত তামাম বা পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
এমনকি পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ উনার ৫৭ ও ৫৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বয় যখন নাযিল হয় তখনও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ৫টি বুনিয়াদ (কালেমা, নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত) উনাদের সবকয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিতই হয়নি।
পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ উনার ৫৭ ও ৫৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বয় নাযিল হওয়ার কয়েক বছর পরে সম্মানিত হিজরত মুবারক সংঘটিত হয়। আর দ্বিতীয় হিজরী শরীফে বদর জিহাদ সংঘটিত হয়।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বদর জিহাদ সংঘটিত হওয়ার পর সমস্ত হযরত বদরী ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে যাঁরা গাজী হিসেবে যমীনে অবস্থান মুবারক করছিলেন উনাদেরকে যা ইচ্ছা আমল করার অনুমতি মুবারক প্রদান করেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَضْرَتْ مُوْسٰى رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ‏ فَلَعَلَّ اللهَ وَقَالَ حَضْرَتْ اِبْنُ سِنَانٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اطَّلَعَ اللهُ عَلٰى اَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اِعْمَلُوْا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ‏.‏
অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বর্ণনাকারী হযরত মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনায় রয়েছে, ‘আশা করা যায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি’ এবং বর্ণনাকারী হযরত ইবনে সিনান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনায় রয়েছে, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি বদর জিহাদে অংশগ্রহণকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে অবহিত করে ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা যা ইচ্ছা আমল করেন, অবশ্যই আমি আপনাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।” (আবূ দাঊদ শরীফ : কিতাবুস সুন্নাহ : বাবু ফিল খুলাফাহ্ : হাদীছ শরীফ নং ৪৬৫৪)
অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি বদর জিহাদে অংশগ্রহণকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে ক্ষমা করে কবূল করে নিয়েছেন। আর তাই উনাদেরকে ইখতিয়ার দিয়েছেন যা ইচ্ছা আমল করার।
** কিন্তু তখনও হজ্জ ফরয হয়নি। হজ্জ পালনের বিধান নাযিল হয় নবম হিজরীতে। এ ব্যাপারে বর্ণিত রয়েছে-
وَاٰيَةُ فَرْضِ الْـحَجِّ وَهِيَ قَوْلُهُ تَعَالٰى وَلِلّٰهِ عَلَى النّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَيْهِ سَبِيْلًا [اٰلُ عِمْرَانَ ۹۷] عَامَ الْوُفُوْدِ أَوَاخِرَ سَنَةَ تِسْعٍ.
অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যেই মানুষের প্রতি হজ্জ করা ফরয যার পথের সামর্থ্য ও নিরাপত্তা রয়েছে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৭) এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে হজ্জ ফরয হয়। এই পবিত্র আয়াত শরীফ আমুল ওফুদ (প্রতিনিধিদল আগমনের বছর) তথা নবম হিজরীর শেষ দিকে নাযিল হয়েছে। অতএব, নবম হিজরীর শেষ দিকে হজ্জ ফরয হয়েছে।” (যাদুল মা‘য়াদ ৩য় খ- ৫১৮ পৃষ্ঠা)
** তখনও যাকাত ফরয হয়নি। পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যেই ৮ম হিজরীতে পবিত্র যাকাত ফরয হয়েছে।
** তখনও পর্দা ফরয হয়নি। পর্দার বিধান নাযিল হয় পঞ্চম হিজরীর যিলক্বদ মাসে।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত রয়েছে-
وَنُزِلَ الْـحِجَابُ عَلٰى مَا أَخْرَجَ اِبْنُ سَعْدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ سَنَةَ خَمْسٍ مِّنَ الْـهِجْرَةِ وَأَخْرَجَ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ أَنَّ ذٰلِكَ فِـيْ ذِي الْقَعْدَةِ مِنْهَا.
অর্থ : “হিজাব বা পর্দার হুকুম সম্পর্কিত পবিত্র আয়াত নাযিল হয়, সেই ঘটনার উপর ভিত্তি করে যা হযরত ইবনু সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। যা পঞ্চম হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছিল। হযরত ছলিহ্ ইবনে কাইসান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই পর্দার বিধান নাযিল হয় পঞ্চম হিজরীর যিলক্বদ মাসে।” (তাফসীরে রূহুল্ মায়ানী ১২ জিঃ ৭২ পৃষ্ঠা, আহকামুল কুরআন লিশ্ শফী ওয়াত্ থানুবী ৩য় জিঃ ৪০৩ পৃষ্ঠা)
** তখন মাত্র রোযা ফরয হয়েছে। কিন্তু রোযা পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্ত হয়নি।
রোযা কখন ফরয করা হয়েছে এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে-
وَفُرِضَ بَعْدَ صَرْفِ الْقِبْلَةِ إِلَى الْكَعْبَةِ لِعَشْرٍ فِيْ شَعْبَانَ بَعْدَ الْـهِجْرَةِ بِسَنَةٍ
অর্থ : “দ্বিতীয় হিজরী শাবান মাসের ১০ তারিখে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা ফরয করা হয়েছে।” (দুররে মুখতার ১ম খ- ১৪২ পৃষ্ঠা)
দ্বিতীয় হিজরী পবিত্র শাবান মাসে রোযা ফরয সংক্রান্ত প্রথম আয়াত শরীফ নাযিল হয়-
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ.
অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর পবিত্র রোযা ফরয করা হয়েছে; যেরূপ ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর। উনার মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারবে। অর্থাৎ হাক্বীক্বী মুত্ত্বাক্বী হতে পারবে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৩)
কিন্তু রোযা রাখার বিধি-বিধান তখনও শিথিল।
যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَيَّامًا مَّعْدُوْدَاتٍ. فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِيْضًا اَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَيَّامٍ اُخَرَ. وَعَلَى الَّذِيْنَ يُطِيْقُوْنَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِيْنٍ. فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ. وَاَنْ تَصُوْمُوْا خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ.
অর্থ : “রোযা নির্দিষ্ট কয়েক দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে। যাদের রোযা রাখতে অতিশয় কষ্ট হয় অর্থাৎ যারা রোযা রাখতে অক্ষম তাদের কর্তব্য হলো এর পরিবর্তে ফিদিয়া তথা একজন অভাবগ্রস্তকে (মিসকীন) খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার জন্য অধিক কল্যাণকর। আর রোযা পালন করাই তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৪)
অর্থাৎ ইচ্ছা হলে রোযা রাখতেন, তা না হলে ফিদিয়া আদায় করে দিতেন।
** শুধুমাত্র তখন (পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাতে) নামায ফরয হয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্ত হয়নি।
আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ১১তম বছর পবিত্র ২৭ রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়। তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক ৫১তম বছর মুবারক চলমান।
তবে এ সময় যুহর, আসর ও ইশা ২ রাকা‘য়াত করে আদায় করার বিধান ছিল। পরবর্তীতে ৪র্থ হিজরী শরীফ, যখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক ৫৫তম বছর মুবারক চলমান তখন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ২ রাকা‘য়াত বিশিষ্ট যুহর, আসর ও ইশাকে ৪ রাকা‘য়াতে উন্নীত করার আদেশ মুবারক দেয়া হয়।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ الصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّـهَا قَالَتْ فَرَضَ اللهُ الصَّلَاةَ حِيْنَ فَرَضَهَا رَكْعَتَيْنِ ثُـمَّ اَتَـمَّهَا فِي الْـحَضَرِ فَاُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ عَلَى الْفَرِيْضَةِ الاُوْلٰى‏.‏
অর্থ : “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামায ফরয করার সময় মহান আল্লাহ পাক তিনি দুই রাক‘য়াত করে ফরয করেছিলেন। তবে পরে বাড়ীতে অবস্থানকালীন নামায বৃদ্ধি করে পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে এবং সফরকালীন নামায পূর্বের মত দুই রাক‘য়াতই রাখা হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ : কিতাবু ছলাতিল মুসাফিরীনা ওয়া ক্বছরিহা : বাবু ছলাতিল মুসাফিরীনা ওয়া ক্বছরিহা : হাদীছ শরীফ নং ১৪৫৬)
তাহলে চিন্তা ও ফিকিরের বিষয় এই যে, বদর জিহাদের সময় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোন বুনিয়াদই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি, এমনকি নামায পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে ফরয হলেও নামায উনার বিধানও তখন পূর্ণাঙ্গ হয়নি, তার আগেই বদরী ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যা ইচ্ছা আমল করার ইখতিয়ার পেলেন। এর হাক্বীক্বত কি?
হাক্বীক্বত হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই খুশি বা সন্তুষ্ট মুবারক করার জন্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের প্রতিটি আমল করতেন। এমনকি জিহাদও করেছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই খুশি বা সন্তুষ্ট মুবারক করার জন্য। যার কারণে দেখা যেত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোন সুওয়াল মুবারক করার ক্ষেত্রে উনারা প্রায়ই বলতেন-
يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَبِـيْ اَنْتَ وَاُمِّيْ
অর্থ : “ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার জন্য আমার মাতা-পিতা কুরবান হউক!
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করে বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই খুশি বা সন্তুষ্ট মুবারক করার আদেশ মুবারকই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ উনার ৫৭ ও ৫৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বয় উনাদের মধ্যে প্রদান করেছেন।
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ আমল মুবারক উনার উপরই দায়িম-কায়িম রয়েছেন। এ কারণেই হযরত বদরী ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পূর্ণতা প্রাপ্তির পূর্বেই যা ইচ্ছা আমল করার ইখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং হযরত বদরী ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা হচ্ছেন ফালইয়াফরহূ যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ আমল এ ব্যাপারে সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে