পবিত্র মসজিদ উচ্ছেদ বা ভাঙার ষড়যন্ত্রকারীরা দ্বীন ইসলাম উনার শত্রু


বর্তমানে ইহুদী-খ্রিস্টান, কাফির-মুশরিক ও তাদের এজেন্ট মুনাফিক্বরা একাত্ম হয়েছে পৃথিবীর বুক থেকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও সম্মানিত মুসলমানদের নাম নিশানা মুছে দেয়ার জন্য। না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই তারা তাদের সে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য একের পর এক সর্বঘৃণ্য ও সর্বনিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও সম্মানিত মুসলমানদের বিরুদ্ধে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর সে সকল ষড়যন্ত্রসমূহের একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র ঘর মুবারক যা সম্মানিত মুসলমানদের ইবাদতখানা অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে ভেঙ্গে ফেলা। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
বর্তমানে তারা আমাদের দেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কূটকৌশলের সাথে একের পর এক সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক ভেঙ্গে যাচ্ছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! বিশেষ করে শতকরা ৯৮ ভাগ সম্মানিত মুসলমান অধ্যুষিত আমাদের এদেশে পরিবেশ রক্ষা ও রাস্তা নির্মাণের দোহাই দিয়ে এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে একের পর এক সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অথচ সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র ঘর মুবারক। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য, সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করার জন্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ ذِى النُّوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْۢ بَنٰى لِلّٰهِ مَسْجِدًاۢ بَنَى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْۢ بَنٰى مَسْجِدًا لِّلّٰهِ كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ اَوْ اَصْغَرَ بَنٰى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য কবুতরের বাসার মতো অথবা তার চেয়েও ছোট একটি মসজিদ নির্মাণ করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, কানযুল উম্মাল)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ زَادَ بَيْتًا فِى الْمَسْجِدِ فَلَهُ الْـجَنَّةُ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক উনার জায়গা বৃদ্ধি করবে, তার জন্য সম্মানিত জান্নাত ওয়াজিব।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ৫/১১৮, কানযুল উম্মাল ৭/৬৫৩)
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
“হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করে, সে যেন আমাকে মুহব্বত করে। আর যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করে, সে যেন আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে মুহব্বত করে। আর যে ব্যক্তি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে মুহব্বত করে, সে যেন সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে মুহব্বত করে। আর যে ব্যক্তি সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে মুহব্বত করে, সে যেন সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক উনাদেরকে মুহব্বত করে। সুবহানাল্লাহ! কেননা নিঃসন্দেহে সম্মানিত মসজিদসমূহ হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার আঙ্গিনা, মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কুরতুবী শরীফ ১২/২৬৬, শরহুল বুখারী শরীফ ১/৪১৪)
আর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَنْ اَظْلَمُ مِـمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللهِ اَنْ يُّذْكَرَ فِيْهَا اسْـمُه وَسَعٰى فِـىْ خَرَابِـهَا اُولٰئِكَ مَا كَانَ لَـهُمْ اَنْ يَّدْخُلُوْهَاۤ اِلَّا خَائِفِيْنَ لَـهُمْ فِى الدُّنْيَا خِزْىٌ وَّلَـهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَاب عَظِيْمٌ.
অর্থ: “ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে? যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করতে, সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে। এদের জন্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অর্থাৎ খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করা ব্যতীত সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে প্রবেশ করা জায়িয নেই। তাদের জন্য রয়েছে ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা বাক্বারা শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ- ১১৪)
অর্থাৎ ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় কাট্টা যালিম, কাট্টা কাফির, কাট্টা মুশরিক, কাট্টা মুনাফিক্ব যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহে উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করতে, উনার স্মরণ মুবারক করতে বাধা দেয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গা, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগীতা করা এবং সমর্থন করা কতো জঘন্যতম অপরাধ, কতো নিকৃষ্টতম পাপ তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। নাউজুবিল্লাহ!
আর সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِيْدِ ۣ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَاٰى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهٖ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهٖ فَاِنْ لَّـمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهٖ وَذٰلِكَ اَضْعَفُ الْاِيْـمَانِ.
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ যখন সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার খিলাফ কোন কাজ দেখবে, তখন সে যেন তা হাত দিয়ে বাধা দেয়। যদি হাত দিয়ে বাধা দিতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে যেন তা মুখ দিয়ে বাধা দেয়। যদি তাতেও সম্ভব না হয়, তাহলে যেন তা অন্তরে বাধা দেয়। অর্থাৎ অন্তরে খারাপ জেনে সেখান থেকে দূরে সড়ে যায়। এটা হচ্ছে সম্মানিত ঈমান মুবারক উনার সর্বনি¤œ স্তর।” (মুসলিম শরীফ, নাসাঈ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, শরহুস সুন্নাহ, শু‘য়াবুল ঈমান, ছহীহ ইবনে হিব্বান, হিলইয়াতুল আউলিয়া, মিশকাত শরীফ)
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
وَلَيْسَ وَرَاءَ ذٰلِكَ مِنَ الْاِيْـمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ.
অর্থ: “এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও সম্মানিত ঈমান মুবারক অবশিষ্ট থাকবে না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
তাই সমস্ত সম্মানিত মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে সম্মানিত ও পবিত্র মসজিদ মুবারক ভাঙ্গার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করা। কেউ যদি এই বিষয়ে প্রতিবাদ না করে, তাহলে সে ঈমানদার থাকতে পারবে না। আর কেউ যদি তা সমর্থন করে তাহলে সে ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হয়ে যাবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে