পবিত্র মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক 


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِبْنُوا الْمَسَاجِدَ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ নির্মাণ করো। অর্থাৎ ভাঙ্গার তো প্রশ্নই আসে না বরং আরো বেশী বেশী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আবী শায়বাহ শরীফ ১/২৭৪, আস সুনানুল কুবরাহ লিলবাইহাক্বী ২/৬১৫)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قِرْصَافَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّهٗ سَـمِعَ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ اِبْنُوا الْمَسَاجِدَ وَاَخْرِجُوا الْقُمَامَةَ مِنْهَا فَمَنْ بَنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِى الْـجَنَّةِ قَالَ رَجُلٌ يَّا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهٰذِهِ الْمَسَاجِدُ الَّتِـىْ تُبْنٰـى فِى الطَّرِيْقِ قَالَ نَعَمْ وَاِخْرَاجُ الْقُمَامَةِ مِنْهَا مُهُوْرُ حُوْرِ الْعِيْـنِ.
অর্থ: “হযরত আবূ ক্বিরছাফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই তিনি শুনেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তোমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করো এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখো। অর্থাৎ ভাঙ্গার তো প্রশ্নই আসে না বরং আরো বেশী বেশী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করতে হবে এবং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করো। সুবহানাল্লাহ! কেননা যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক রাস্তায় নির্মাণ করা হয়? (সেই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ উনাদের হুকুম কী? ওই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা নির্মাণ করবেন, উনাদের জন্যও কি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে বালাখানা নির্মাণ করা হবে?) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ। সুবহানাল্লাহ!
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক থেকে ময়লা দূর করা তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অর্থাৎ ভাঙ্গার তো প্রশ্নই আসে না বরং আরো বেশী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করতে হবে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদসমূহ শুধু নির্মাণ করলেই চলবে না। সাথে সাথে উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণও করতে হবে এবং তা’যীম-তাকরীমের সাথে উত্তমভাবে সংরক্ষণ করাটা সম্মানিত জান্নাতী হুর উনাদের মোহরানাস্বরূপ। (অর্থাৎ যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে এবং তা’যীম-তাকরীমের সাথে উত্তমভাবে সংরক্ষণ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে হুরদের সাথে বিবাহ দিবেন। নিশ্চিত সেই ব্যক্তি তিনি জান্নাতী।)” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারনী শরীফ ৩/১৯, দুরররে মানছূর ৪/১৪৪, মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১১৩, জামি‘উছ ছগীর ১/৫, ফাতহুল কাবীর ১/২১, জামি‘উল আহাদীছ ১/১৩৭, কাশফুল খফা ২/৩৪, আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ ৩/৪৮৮, কানযুল ‘উম্মাল ৭/৬৫৫ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) قَالَتْ اَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِى الدُّوْرِ وَاَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَــيَّبَ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাড়িতে বাড়িতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য সম্মানিত আদেশ মুবারক করেছেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকসমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় করে রাখার জন্য অর্থাৎ ভাঙ্গার তো প্রশ্নই আসে না বরং আরো বেশী বেশী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করতে হবে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য এবং উত্তমভাবে তা’যীম-তাকরীমের সাথে সংরক্ষণ করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ছহীহ ইবনে হিব্বান ৪/৫১৩ ইত্যাদি)
উপরোক্ত দলীলভিত্তি আলোচনার মাধ্যমে দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বাড়িতে বাড়িতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের জন্য ফরয হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী প্রতি বাড়িতে বাড়িতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করা। যে বা যারা এই বরকতময় ও নিয়ামতপূর্ণ কাজের আনজাম দিবে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী তারা প্রত্যেকেই জান্নাতী হবে। সুবহানাল্লাহ! তাই এই বিষয়ে সরকারকে অতি সত্তর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
পবিত্র মসজিদ নির্মাণের ফযীলত মুবারক:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ مَنْ بَنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا اَدْخَلَ الْـجَنَّةَ.
অর্থ: “হযরত ‘আমর ইবনে আবাসাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, সে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (কানজুল উম্মাল ৭/৬৫৪)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُثْمَانَ ذِى النُّوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِـى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ ذِى النُّوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ بَنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَنَـى اللهُ لَهُ مِثْلَهٗ فِـى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে অনুরূপ একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, সুনানে ইবনে মাজাহ্ শরীফ, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ২/৪৩৭, শু‘য়াবুল ঈমান ৪/৩৭৩ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَنٰـى مَسْجِدًا يُذْكَرُ فِيْهِ اسْمُ اللهِ بَنَـى اللهُ لَهٗ بَيْتًا فِـى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকির মুবারক করার উদ্দেশ্যে একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাজাহ শরীফ, ছহীহ ইবনে হিব্বান শরীফ ৪/৪৮৬, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ শরীফ ১/৩১০, জামি‘উল আহাদীছ ২০/১৩০, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২২৩২৫, কানযুল উম্মাল ৭/৬৫৩ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَنٰـى لِلّٰهِ مَسْجِدًا بَنَـى اللهُ لَهٗ قَصْرًا فِـى الْـجَنَّةِ مِنْ دُرٍّ وَّيَاقُوْتٍ وَّزَبَرْجُدٍ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে মুক্তা, ইয়াকূত ও জমরূদের একটি বালাখানা নির্মাণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (জামি‘উল আহাদীছ ২০/১২৬, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২২৩১৪, কানযুল উম্মাল ৭/৬৫৪ ইত্যাদি)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল শান মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ ثَوْبَانَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ زَوٰى لِـىَ الْاَرْضَ فَرَاَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَـهَا وَاِنَّ اُمَّتِـىْ سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِىَ لِـىْ مِنْهَا وَاُعْطِيْتُ الْكَنْزَيْنِ الْاَحْـمَرَ وَالْاَبْيَضَ وَاِنِّــىْ سَاَلْتُ رَبّـِــىْ لِاُمَّتِـىْ اَنْ لَّا يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَاَنْ لَّا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِّنْ سِوٰى اَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيْحَ بَيْضَتَهُمْ واِنَّ رَبّـِــىْ قَالَ يَا مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّــىْ اِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَاِنَّهٗ لَا يُرَدُّ وَاِنِّـىْ اَعْطَيْتُكَ لِاُمَّتِكَ اَنْ لَّا اُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَاَنْ لَّا اُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِّنْ سِوٰى اَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيْحَ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَّنْ بِاَقْطَارِهَا اَوْ قَالَ مَنْ بَيْنَ اَقْطَارِهَا حَتّٰى يَكُوْنَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَّيَسْبِــىْ بَعْضُهُمْ بَعْضًا.
অর্থ: “বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি (আমার সম্মানিত উম্মত উনাদের সম্মানিত শান-মান মুবারক উনাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য) আমার সম্মুখে সারা কায়িনাত অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন। অতঃপর আমি সারা কায়িনাতের মধ্যে যা কিছু রয়েছে এবং তার যত প্রান্তসমূহ রয়েছে সমস্ত কিছু দেখে নিলাম। (কোন কিছুই বাকী রইলো না।) আর নিশ্চয়ই আমাকে যেই পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, অতিশীঘ্রই আমার সম্মানিত উম্মত উনাদের সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক সেখানে যেয়ে পৌঁছবে। সুবহানাল্লাহ! আর আমাকে (আনুষ্ঠানিকভাবে) দু’টি ধনভান্ডার সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে, একটি লাল অপরটি সাদা (অর্থাৎ, কায়সার ও কিসরার ধনভান্ডার)। আমি আমার রব উনার কাছে আমার সম্মানিত উম্মত উনাদের জন্য সম্মানিত আরজী মুবারক করেছি, যেন উনাদেরকে একই বছর ব্যাপকভাবে (দুর্ভিক্ষের দ্বারা) ধ্বংস না করা হয়। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন (আমার সম্মানিত উম্মত) উনাদের উপর স্বজাতি ব্যতীত অন্য শত্রুকে এমন কর্র্তৃত্ব দান না করেন যে, তারা (আমার সম্মানিত উম্মত) উনাদের কেন্দ্রস্থলকে দখল করে নেয়। আমার রব তা‘য়ালা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যখন কোন ব্যাপারে সম্মানিত ফায়ছালা মুবারক করি, তখন তা পরিবর্তন করা হয় না। আমি আপনাকে আপনার সম্মানিত উম্মত উনাদের ব্যাপারে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক দিচ্ছি যে, আমি উনাদেরকে একই বছর ব্যাপকভাবে (দুর্ভিক্ষের দ্বারা) ধ্বংস করব না এবং উনাদের স্বজাতি ব্যতীত শত্রুকে উনাদের উপর এমন কর্তৃত্ব দিব না যে, তারা উনাদের কেন্দ্রস্থল দখল করতে পারে। যদিও (আপনার সম্মানিত উম্মত) উনাদের বিরুদ্ধে উনাদের কেন্দ্রস্থলের সর্বদিকে যারা রয়েছে, তারা একত্রিত হয়। (রাবী সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন,) অথবা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আপনার সম্মানিত উম্মত উনাদের কেন্দ্রস্থলের সর্বদিকে যারা অবস্থিত রয়েছে। এমনকি তারা নিজেরাই একে অপরকে ধ্বংস করতে থাকবে এবং একে অপরকে বন্দী করতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে