পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গা বা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করবে না তারা ঈমানদার ও উম্মত হিসেবে থাকতে পারবে না


যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ

অর্থ: মানুষদের মধ্যে তোমরা হচ্ছো শ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে, এখন তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, সৎ কাজে আদেশ দেয়া, বদ কাজে নিষেধ করা এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি হাক্বীক্বী ঈমান আনা। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১০)
অর্থাৎ কেউ যদি নিজেকে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে সাব্যস্ত করতে চায় তাহলে তার দায়িত্ব-কর্তব্য হলো সৎ কাজে আদেশ করা, অসৎ কাজে তথা হারাম কাজে নিষেধ করা এবং হাক্বীক্বী মু’মিন হওয়া।

এখন দেখা যাচ্ছে, সারা দেশে সরকারি কিছু লোক, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল নির্মাণ, নদী রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি অজুহাতে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে- যারা পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার কথা বলবে বা ভাঙ্গবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিবাদ করা। যারা প্রতিবাদ করবেনা বুঝা যাবে তারাও মসজিদ ভাঙ্গার ব্যাপারে সমর্থনকারী, যে পাপ কাজ করলো আর যে পাপ কাজে সহায্য বা সমর্থন করলো দুজনের একই হুকুম।

কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
السكوت نصف الرضا
অর্থ: চুপ থাকা অর্ধেক সম্মতির লক্ষণ।

কাজেই পবিত্র মসজিদ যারা ভাঙ্গবে বা ভাঙ্গার কাজে সংশ্লিষ্ট থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিবাদ করতে হবে, যারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করবেনা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ঘোষণা অনুযায়ী তারা শ্রেষ্ঠ উম্মত থাকতে পারবে না। বরং সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।

বলা হয়েছে, পবিত্র মসজিদ উনাকে ইহানত করা কুফরী। তাহলে যারা নদীর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার কথা বলবে তারা কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে, সে যদি মুসলমান দাবী করে থাকে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে। মুরতাদের হুকুম হচ্ছে, তার তওবা করার সময় তিনদিন, তিনদিনের মধ্যে যদি সে তওবা না করে তার একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড।

সুতরাং সকল মুসলমানের দায়িত্ব হচ্ছে, সারা দেশে যেসব জায়গায় বিভিন্ন অজুহাতে মসজিদ ভাঙ্গার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেসব জায়গায় কঠিন প্রতিবাদ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সাথে সাথে ৯৮ ভাগ মুসলমান দেশের সরকার এবং ‘কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোন আইন পাশ হবে না।’ এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার সে যদি মু’মিন হয়ে থাকে এবং শ্রেষ্ঠ উম্মতের দাবিদার হয়ে থাকে, তাহলে সরকারের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে- যারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানান অজুহাতে মসজিদ ভাঙ্গার চেষ্টা করছে তাদের প্রত্যেককেই গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রবেশ করানো এবং পরবর্তীতে যেন কেউ পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার মতো এমন জঘন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারে সেজন্য বিশেষ আইন করা। নচেৎ সরকার সহ সংশ্লিষ্ট ইহকাল ও পরকালে সকলকে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সৎ কাজে আদেশ, অসৎ কাজে নিষেধ অর্থাৎ পবিত্র মসজিদ ভাঙ্গার কাজে বাধা প্রদান করা এবং হাক্বীক্বী মু’মিন হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে