পবিত্র মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক, কুরবত-নৈকট্য মুবারক তালাশকারী পুরুষগণের উদ্দেশ্যে-(১)


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- والله ورسوله احق ان يرضوه ان كانوا مؤمنين অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সন্তুষ্ট করা মু’মিনগণের দায়িত্ব-কর্তব্য। কেননা উনারাই সন্তুষ্টি পাওয়ার সর্বাধিক হক্বদার বা উপযুক্ত।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬২) মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারকই শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- رضوان من الله اكبر অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকই সর্বশ্রেষ্ঠ।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭২) মু’মিন-মু’মিনাগণ ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত সেই শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত-সন্তুষ্টি মুবারক তালাশ করেন। জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে চূড়ান্ত সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে চান। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না যে, তা কখন ও কিভাবে হাছিল হয়। আর বুঝে না যে, এ নিয়ামতরাজি হাছিলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কি কি? সেই শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত হাছিলের ক্ষেত্রে সৃষ্টির তথা মাখলূক্বাতের সাথে সদাচরণ করা অতীব জরুরী। কেননা কোনো মাখলূক্বাতকে কষ্ট দিয়ে কেউ কখনো এই নিয়ামত লাভ করতে পারে না। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জেনে রাখ! কাউকে কষ্ট দিয়ে কখনো মা’রিফাত মুবারক, মুহব্বত মুবারক, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক লাভ করা যায় না।” তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি যতবেশি উন্নত স্বভাবের অধিকারী তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ততবেশি নৈকট্যশীল ও প্রিয়। আর যে যত খারাপ স্বভাবের সে ততবেশি অসন্তুষ্টিপ্রাপ্ত ও ঘৃণিত।” পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- الخلق كلهم عيال الله فاحب الخلق الى الله تعالى من احسن الى عياله অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সকল সৃষ্টিই মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবারভুক্ত। কাজেই সৃষ্টির মধ্যে ঐ ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বাধিক প্রিয় যিনি উনার পরিবারভুক্তগণের সাথে অতি উত্তম আচরণ করেন।” (তবারানী শরীফ, আবু ইয়ালা, বাজ্জার) সদাচরণ, উত্তম ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক হক্বদার পরিবার-পরিজনগণ। স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা, ভাই-বোনগণকে উপেক্ষা করে, তাদেরকে তাদের হক্ব থেকে বঞ্চিত করে অন্যান্যদেরকে খুশি করা, সময়, শ্রম, অর্থ ব্যয় করার কোন মূল্য নেই। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ابدا بمن تعول. অর্থ: নিকটবর্তীগণের মাধ্যমে সদাচরণ শুরু করো।” অর্থাৎ যিনি যতবেশি নিকটবর্তী তিনি সদাচরণ পাওয়ার ততবেশি হক্বদার। পৃথিবীতে এমন অনেক লোক রয়েছে, যারা সৃষ্টির অপরাপর ব্যক্তিদের সাথে সদাচরণ করে কিন্তু নিজ পরিবার-পরিজন, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে একেবারে উদাসীন থাকে। অথচ সদাচরণ পাওয়ার সর্বাধিক উপযুক্ত ও হক্বদার হচ্ছেন স্ত্রী। অতঃপর সন্তান-সন্ততিগণ। বাইরের লোকদের সাথে মধুর ব্যবহার, সদাচরণ, হাস্যোজ্জ্বল বদন তখন অর্থবহ হবে, ফলপ্রসূ হবে যখন সে তার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও নিকটতম আত্মীয়-স্বজনগণ সন্তুষ্ট থাকবে। কেননা পরিবার-পরিজন তথা স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিকে বাদ দিয়ে অন্যান্যদের সাথে সদাচরণ, তা কখনোই খালিছ তথা ইখলাছযুক্ত হতে পারে না। তা সব লৌকিকতা তথা গইরুল্লায় পর্যবসিত হয়। তাতে থাকে উদ্দেশ্য চরিতার্থ নাম-ধাম, যশ খ্যাতি হাছিল করা।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+