পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার তারতীবের একাল-সেকাল


অনেকেই বলে থাকে- আগে কি মীলাদ শরীফ ছিল? এখন যেভাবে পড়া হয় সেভাবে কি পড়া হতো? হযরত ছাহাবা আজমাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কি পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়েছেন? উনারা কি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ (শ্রেষ্ঠ দিনসমূহের মধ্যে যেদিন শ্রেষ্ঠতম) শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন? ইত্যাদি ইত্যাদি।
মানুষের অন্তরের বক্রতার কারণে এসব বলে থাকে। পবিত্র মীলাদ শরীফে আসলে কি থাকে, মানুষ কোনোদিন খোঁজ নিয়েও দেখে না, জানেও না, বোঝেও না। বিভিন্ন দেশের ভাষা, আঞ্চলিকতার কারণে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের বিষয়বস্তু ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবে এক। সহজভাবে বলতে গেলে বলতে হয়- “হযরত ছাহাবা অজমাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পালন করেছেন বলেই আজ আমরা পবিত্র মীলাদ শরীফ পালন করা শিখেছি।”
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম (পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দ্বিতীয় খলীফা) আলাইহিস সালাম তিনি যখন কোথাও সৈন্য বাহিনী পাঠাতেন, তখন উপদেশ দিতেন- “যদি কোনো এলাকার বা সম্প্রদায়ের আচার- অনুষ্ঠান ইসলামের সাথে, শরীয়তের সাথে বিরোধপূর্ণ না হয়, তবে সে ব্যাপারে যেন শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়।”
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এই উক্তির মধ্যে এটা স্পষ্ট যে- এরকম পরিস্থিতি হতে পারে।
কোনো একটি পবিত্র না’ত শরীফ বা পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ একেক জনের কণ্ঠে একেক রকম শোনা যায়। কথা, পাঠের রীতি একই রকম হলেও একেক জনের কণ্ঠে একেক রকম স্বাদ পাওয়া যায়।
একজন মানুষের প্রশংসা করতে গিয়ে দেখা যায় একেক জন একেকভাবে উপস্থাপন করে। শব্দ, বাক্য, উচ্চারণ, উপস্থাপন, ভঙ্গি, আদব, বিনয় একেক রকম। আর এটাই স্বাভাবিক।
আজ থেকে সাড়ে ১৪শ’ বছর আগে আরবে যে কথ্য আরবী ভাষা প্রচলিত ছিল বর্তমানে তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তখন যে ভাষায়, যে তরজ-তরীকায়, যে উপস্থাপন কায়দায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে প্রশংসাসূচক বাক্য ব্যবহার করা হতো এখন তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু যা কখনোই পরিবর্তন হবে না, তা হচ্ছে- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে যেভাবে কোনো বিষয় আলোচিত হয়েছে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যা যেভাবে উল্লেখিত হয়েছে, উনার বংশ মুবারকের বর্ণনা, উনার পৃথিবীতে আগমনের ইতিহাস ইত্যাদি থাকবে অবিকল একই রকম। কিন্তু তখনকার কোনো অনুষ্ঠান বা মাহফিল হয়তো হতো মসজিদে, কোনো মরুদ্যানের পাশে, যেখানে ছিল না কোনো মাইক, ছিল না আলোকসজ্জা, ছিল না উঁচু এখনকার মতো কোনো প্যান্ডেল, কোনো ইকো সিস্টেম ইত্যাদি। কিন্তু প্রশংসার লক্ষ্যস্থল ব্যক্তিত্ব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আজো এক অবিকল এবং অনন্তকাল পর্যন্ত কেবল তিনিই একক অধিকারী হয়ে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে