পবিত্র মীলাদ শরীফ বা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষে রচিত


শাইখুল ইসলাম, মুফতীয়ে আ’যমে মক্কা মুকাররামাহ, ইমাম ইবনে হাজার হাইতামী মক্কী শাফিয়ী ক্বাদিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত বিশ্ববিখ্যাত, বিশ্ব সমাদৃত, সর্বজন স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য কিতাব-
النعمة الكبرى على العالـم فى مولد سيد ولد ادم صلى الله عليه وسلم
আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি ওয়ালাদি আদম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সম্পর্কে প্রদত্ত
পবিত্র মীলাদ শরীফ বিরোধী বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের মুখপাত্র আল কাউসারের মিথ্যা, জালিয়াতি ও জিহালতপুর্ণ বক্তব্যের খ-নমূলক জাওয়াব ও প্রকাশ্য বাহাছের চ্যালেঞ্জ। (৩)
এটাই যদি হয় তাদের মূলনীতি, তবে যে প্রকাশনীটি পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার পক্ষে কিতাব প্রকাশ করবে সে প্রকাশনীকেই তো তারা বিদয়াত, শিরক, কুফর প্রচারকারী বলবে। যদিও হাজার দলীল থাকুক না কেন। যেমন উদাহরণস্বরূপ ক্বদমবূছী করার বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। ক্বদমবূছী করা সুন্নত। এ বিষয়টি ছহীহ আবূ দাউদ শরীফসহ অনেক ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের কিতাবসমুহের দলীল দ্বারা প্রমাণিত। তাদের গুরু থানবী, গাঙ্গুহী (ভারত), শফী (পাকিস্তান) তারা ইমদাদুল আহকাম, ফতওয়ায় রশীদিয়া, জাওয়াহিরুল ফিক্বাহ নামক কিতাবেও ক্বদমবূছীকে সুন্নত বলেছে। যেমন-
عن وازع بن زارع عن جدها وكان فى وفد عبد القيس قال لما قدمنا المدينة فجعلنا نتبادر من رواحلنا فنقبل يد رسول الله صلى الله عليه وسلم ورجله.
অর্থ:- “হযরত ওয়াযে’ ইবনে যারে তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা আব্দুল কায়স গোত্রে থাকা অবস্থায় যখন পবিত্র মদীনা শরীফ আসতাম, তখন আমরা সাওয়ারী হতে তাড়াতাড়ি অবতরণ করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাত ও পা মুবারক বুছা (চুম্বন) দিতাম।” সুবহানাল্লাহ! (অনুরূপ বযলুল মাজহুদ জিঃ ৬ পৃঃ ৩২৮, ফতহুল বারী জিঃ ১১ পৃঃ ৫৭, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ জিঃ ৭ পৃঃ ৮০, আশয়াতুল লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব, ই’লাউস সুনান জিঃ ১৭, ৪২৬ পৃষ্ঠা ইত্যাদি কিতাবসমূহেও উল্লেখ আছে।)
গাঙ্গুহীর “ফতওয়ায়ে রশীদিয়া” ৪৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
تعظیم دندار کو کھرا ھونا درست ھے اور پاؤن چومنا اسےھی شخص کا بھی درست ھے حدیث سے ثابت ھے-
অর্থ:- “দ্বীনদার আলিম উনাদের সন্মানার্থে দাঁড়ানো জায়িয এবং উনাদের ক্বদমবুছী করাও জায়িয, পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।”
অনুরূপ ‘জাওয়াহিরুল ফিক্বাহ্’, ১ম জিঃ ২০২ পৃষ্ঠায় এবং ‘ইমদাদুল আহকাম’ কিতাবেও উল্লেখ আছে।
এরপরও ওহাবীরা এটা মানে না, বরং ক্বদমবূছী করাকে বিদয়াত, শিরক বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! এর প্রমাণ ওহাবীদের মুখপত্র হাটহাজারীর খারিজী মাদরাসা থেকে প্রকাশিত মাসিক মুঈনুল ইসলাম, আগস্ট-৯৭ ঈসায়ী সংখ্যাসহ ওহাবীদর প্রায় পত্রিকা ও রেসালাতে রয়েছে।
কাজেই প্রমাণিত হলো যে, তাদের ওহাবী মতবাদের খিলাফ কোনো বিষয়ের স্বপক্ষে যতই দলীল থাকুক, তা তারা কখনোই মানবে না। এমনকি তাদের গুরু ও মুরুব্বীদের কিতাবে থাকলেও মানবে না। বরং উল্টো মিথ্যা দলীল ও মনগড়া ব্যাখ্যা দ্বারা তা ভুল ও জাল বানানোর অপচেষ্টা করবে। তদ্রƒপ ‘আন নি’মাতুল কুবরা’ উনার বিষয়টির ক্ষেত্রেও তাই।
উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র “মাকতাবাতুল হাক্বীক্বাহ” প্রকাশনিই উক্ত ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবখানা প্রকাশ করেনি। বরং এর আরো অনেক আগে- ১৩৭১ হিজরী, ১৯৫২ ঈসায়ী সনে, কায়রো মিশর থেকে ‘মাতবায়াতুল ইস্তিক্বামাহ’ উক্ত কিতাবখানা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে আরো অনেক প্রকাশনী উক্ত কিতাবখানা প্রকাশ করে। আমাদের নিকট এরূপ ৬ প্রকারের ‘আন নি’মাতুল কুবরা’ কিতাবের কপি রয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো-
(১) ১৩৭১ হিজরী (১৯৫২ ঈসায়ী) সনে ‘মাতবায়াতুল ইস্তিক্বামাহ, কায়রো-মিশর’ থেকে প্রকাশিত মূল আরবী ছাপা।
(২) ১৩৯৭ হিজরী (১৯৭৭ ঈসায়ী) সনে ‘আল-মাকতাবাহ ঈশীক, ইস্তাম্বুল-তুরকী বা তুরস্ক’ থেকে প্রকাশিত মূল আরবী ছাপা।
(৩) ১৩৯৮ হিজরী সনে ‘ক্বাদিরী কুতুবখানা, সিয়ালকোট-পাকিস্তান’ থেকে প্রকাশিত উর্দূ অনুবাদ (প্রথম ছাপা) এবং ১৪০১ হিজরী সনে উক্ত প্রকাশনা থেকে দ্বিতীয় ধাপে উক্ত উর্দূ অনুবাদ ছাপা হয়।
(৪) ১৩৯৯ হিজরী (১৯৭৯ ঈসায়ী) সনে ‘আল-মাকতাবাহ ঈশীক, ইস্তাম্বুল-তুরকী বা তুরস্ক’ থেকে প্রকাশিত মূল আরবী ছাপা।
(৫) ১৪২৪ হিজরী (২০০৩ ঈসায়ী) সনে ‘মাকতাবাতুল হাক্বীক্বাহ, ইস্তাম্বুল-তুরকী বা তুরস্ক’ থেকে প্রকাশিত মূল আরবী ছাপা।
(৬) ১৪২৯ হিজরী সনে ‘যাবিয়াহ পাবলির্শাস, লাহোর-পাকিস্তান’ থেকে প্রকাশিত উর্দূ অনুবাদ (প্রথম ছাপা) এবং ১৪৩৬ হিজরী সনে উক্ত প্রকাশনা থেকে দ্বিতীয় ধাপে উক্ত উর্দূ অনুবাদ ছাপা হয়। যার প্রত্যেকটিতেই উল্লিখিত বর্ণনাসমূহ উল্লেখ রয়েছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে