পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার উত্তম আমল হচ্ছেন পবিত্র আশুরা শরীফ উপলক্ষে রোযা রাখা


পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت أبي هريرة رضى الله تعالى عنه قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه و سلم فقال أي الصيام أفضل بعد شهر رمضان ؟ قال شهر الله الذي تدعونه المحرم
অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, পবিত্র রমদ্বান শরীফ মাসের রোযার পর কোন (দিনের) রোযা উত্তম? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মাসের রোযা, যে মাসকে তোমরা মুহররমুল হারাম বলে ডেকে থাক। (ইবনে মাজাহ শরীফ-১৭৪২)
পবিত্র হাদীছ শরীফে মুহররমুল হারাম শরীফ মাসে বেশি বেশি নফল রোযা রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
أفضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم
অর্থ: পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পর সবচেয়ে উত্তম রোযা হল মহান আল্লাহ পাক উনার মাস মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার রোযা। (মুসলিম শরীফ- ২৮১২)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
إن كنت صائما بعد شهر رمضان فصم المحرم فإنه شهر الله
অর্থ: তুমি যদি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পর আরও কোনো মাসে রোযা রাখতে চাও তাহলে মুহররমুল হারাম শরীফে রোযা রাখ। কেননা সেটি মহান আল্লাহ পাক উনার মাস। (তিরমিযী শরীফ- ৭৪১)

মুহররমুল হারাম মাস উনার ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশুরার দিনে রোযা রাখা সুন্নত। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে এ রোযা ফরয ছিল। এই দিনে রোযা রাখলে মহান আল্লাহ পাক তিনি পিছনের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت أبي قتادة رضى الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه و سلم قال صيام يوم عاشوراء إني أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله
অর্থ: হযরত আবু কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আশুরার দিনের রোযা আমি আল্লাহ পাক উনার নিকট আশা রাখি আল্লাহ পাক তিনি (এর দ্বারা) পূর্বের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন। (মুসলিম শরীফ- ২৮০৩; তিরমিযী শরীফ- ৭৫২)
তবে এই দিনে রোযা রাখতে হলে এর সাথে ৯ বা ১১ তারিখ মিলিয়ে মোট ২টি রোযা রাখবে। শুধু ১০ তারিখে ১টি রোযা রাখা মাকরূহ। তাই জেনে রাখা উচিত যে, পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার উত্তম আমল হচ্ছেন পবিত্র আশুরা শরীফ উপলক্ষে ২টি রোযা রাখা।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে