পবিত্র যাকাতের সাথে ইনকাম ট্যাক্স, খাজনা করের পার্থক্য!


খাজনা, অন্যান্য কর এবং ইনকাম ট্যাক্স দিলেও পবিত্র যাকাত প্রদান করতে হবে :
ফিকাহ ও ফতোয়ার শতসিদ্ধ মতানুসারে সরকারী রাজস্ব খাতে খাজনা, কর ও ইনকামট্যাক্স ইত্যাদি দিলেও যাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয তাদেরকে অবশ্যই পবিত্র যাকাত ও পবিত্র উশর আলাদাভাবে আদায় করতে হবে।
পবিত্র যাকাত, ইনকাম ট্যাক্স, কর, খাজনা ও জিযিয়া করের মধ্যে পার্থক্য :
পবিত্র যাকাত : ‘পবিত্র যাকাত’ হচ্ছেন পবিত্র ইসলাম উনার পঞ্চ স্তম্ভের একটি স্তম্ভ। ইতিপূর্বেই পবিত্র যাকাত উনার পরিচয়, কার উপর ফরয এবং উহার হুকুম-আহকাম সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপরেও এখানে সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো- পবিত্র শরীয়ত উনার পরিভাষায় الـحوائج الاصلية তথা মৌলিক চাহিদা মিটানোর পর অতিরিক্ত যদি কোন মাল বা অর্থ-সম্পদ নিছাব পরিমাণ তথা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য অথবা এ সমপরিমাণ অর্থ-সম্পদ কারো অধীনে পূর্ণ এক বছর থাকে তাহলে তা থেকে চল্লিশ ভাগের একভাগ অর্থাৎ শতকরা ২.৫% মাল বা অর্থ-সম্পদ পবিত্র শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত খাতে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বিনা স্বার্থে ও শর্তে প্রদান করাকে পবিত্র যাকাত বলে। (কুদুরী, আল হিদায়া)
পবিত্র যাকাত মুসলমান উনাদের মালের ট্যাক্স বা খাজনা ও কর কোনটাই নয়; ইহা মুসলমান উনাদের এটা একটি পবিত্র মালি ইবাদত। ইহা শুধু মুসলমান উনাদের জন্য প্রযোজ্য। এ কারণেই ইহা খিলাফত উনার অধীনে অমুসলমান নাগরিকদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয করা হয়নি।
ইনকামট্যাক্স বা আয় কর : গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক বা কুফরী মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠ সরকার তাদের সুবিধার জন্য তারা জোরপূর্বক জনগণের আয়ের উপর যে সুনির্দিষ্ট অর্থ ধার্য করে মূলতঃ সেটাই ইনকামটেক্স। এক কথায়- আয়ের উপর যে ট্যাক্স বা কর ধার্য করা হয় তাকে ইনকাম ট্যাক্স বা আয় কর বলে। আর সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক ইনকামট্যাক্স জায়েয নেই। যতটুকু সম্ভব এ থেকে বেঁচে থাকা উচিত। এর সাথে পবিত্র যাকাত উনার কোন প্রকার সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতা নেই অর্থাৎ ইনকামট্যাক্স দিলেও যাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয তাকে অবশ্যই পবিত্র যাকাত আদায় করতে হবে।
কর ও খাজনা : সরকার জনগণকে যে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে এবং জনগণও সরকার কর্তৃক যে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে তার পরিবর্তে সরকার কর্তৃক ‘ধার্যকৃত অর্থ’ রাজস্ব খাতে প্রদান করাকেই ‘কর’ বলে। যেমন- বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, গ্যাস বিল, পৌরকরসহ সর্বপ্রকার লাইসেন্স ইত্যাদি। আর ভূমি সংরক্ষণ, জরিপ ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে যে সুযোগ-সুবিধা জনগণ লাভ করে থাকে তার বিনিময় সরকার কর্তৃক ‘ধার্যকৃত অর্থ’ রাজস্ব খাতে প্রদান করাকেই ‘খাজনা’ বলে। এই সমস্ত খাজনাগুলি আদায় করা জনগণের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই সমস্ত খাজনার সাথে পবিত্র যাকাত উনার কোন প্রকার সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতা নেই। সেইজন্য বৈধ কর ও খাজনা দেয়ার পর যাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয হবে তাদেরকে অবশ্যই পবিত্র যাকাত আদায় করতে হবে।
জিযিয়া কর : ‘জিযিয়া কর’ মুসলমানদের জন্য নয়; বরং জিযিয়া কর বিধর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। মুসলমান উনাদের খিলাফতের অধীনে যে সমস্ত অমুসলিম বসবাস করে তাদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সম্মানিত খলীফা কর্তৃক ‘ধার্যকৃত অর্থ’ ‘বায়তুল মালে’ প্রদান করাকেই ‘জিযিয়া কর’ বলে। তবে জিযিয়া করের সাথে পবিত্র যাকাত উনার কোন সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতা নেই। কেননা- কাফেরদের উপর পবিত্র যাকাত দেয়া এবং নেয়া কোনটাই জায়িয নয়; বরং তারা জিযিয়া কর প্রদান করবে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে