পবিত্র যাকাত আদায়ের বিষয়ে চু-চেরা করা ঈমানদারের লক্ষণ নয়


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। ঘটনাটি পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পূর্বের ঘটনা। যখন মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নছীহত মুবারক শুনতে সরাসরি আসতেন। সেই সময় একবার একজন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার দুই শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সাক্ষাতে আসলেন। তখন ওই দুই শিশু সন্তানদের হাতে সোনার অলংকার দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের মাকে বললেন, এই শিশুদের হাতের সোনার অলংকারের যাকাত দেয়া হয়েছে কিনা। তখন সেই মহিলা বললেন, না দেয়া হয়নি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওই অলংকারের যাকাত দেয়ার জন্য ওই মহিলাকে বললেন।

পাঠক! লক্ষ্য করুন, পবিত্র যাকাতের কত বেশি গুরুত্ব। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি পবিত্র যাকাত আদায়ের কথা বলেছেন, দুই শিশু সন্তানের হাতের অলংকার দেখেও তিনি তাদের মাকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এখন আমরা অনেকেই আছি আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজন পরিজন প্রতিবেশীদের যাকাত আদায়ের বিষয়ে বলতে কার্পণ্য করি। স্বয়ং হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি- যাকাতের একটি রশি দিতে যে অস্বীকার করবে তার বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই কোনো ঈমানদার মুসলমানদের কখনোই যাকাত আদায়ের বিষয়ে চু-চেরা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এটা অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে, যেখানে দেয়া হচ্ছে তারা যাকাত পাবার উপযুক্ত কিনা। কোনো বাতিল ফিরকার প্রতিষ্ঠানে, অথবা বদ আক্বীদা পোষণকারীদের যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। বরং তাদেরকে সহযোগিতা করার কারণে গুনাহগার হতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে