পবিত্র যাকাত সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল সমূহের বিবরণ


পবিত্র যাকাত উনার নিছাব কাকে বলে:
যে পরিমাণ অর্থ-সম্পদ বা নগদ অর্থ কোন ব্যক্তির সাংসারিক সকল মৌলিক প্রয়োজন বা চাহিদা মিটানোর পর অতিরিক্ত সম্পদ যা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য অথবা ঐ সমপরিমাণ অর্থ-সম্পদ নির্দিষ্ট তারিখে পূর্ণ এক বছর ঐ ব্যক্তির মালিকানায় থাকলে তা থেকে পবিত্র যাকাত প্রদান করা ফরয হয়, নূন্যতমভাবে ঐ পরিমাণ অর্থ-সম্পদকে পবিত্র শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘নিছাব’ বলে। আর যিনি নিছাব পরিমাণ মাল-সম্পদের মালিক হন উনাকে ছাহিবে নিছাব বলে। মাল-সম্পদের প্রকৃতি বা ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মালের নিছাব বিভিন্ন রকম। (ফিকাহর কিতাবসমূহ)
الاصلية الحوائج (আল হাওয়ায়িজুল আছলিয়্যাহ) বা মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু বা সম্পদ:
কোন মু’মিন-মুসলমান উনার কার্পণ্য ও অপচয় ব্যতিরেকে মধ্যমপন্থায় নিজের ও পরিবারের চাহিদা মিটানোর বা পূরণের জন্য যা যা আবশ্যক মূলত সেটিই হচ্ছে মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু। যেমন- খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয় বস্ত্র, বসবাসের স্থান অর্থাৎ থাকার ঘর, ঘরের আসবাবপত্র, চিকিৎসার অর্থকড়ি তথা ঔষধপত্র, গৃহস্থলি সামগ্রী, পেশাসংক্রান্ত উপকরণ, কারখানাার যন্ত্রপাতি ও স্থান, যাতায়াত তথা যোগাযোগের বাহন খরচ এগুলোর উপর যাকাত নেই। (হিদায়া, কুদূরী)
নিছাবের মূল বিষয়বস্তু ও পরিমাণ প্রসঙ্গে:
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে- “আর তাদের তথা ধনীদের মালে রয়েছে নির্ধারিত হক অভাবী ও বঞ্চিতের।” (পবিত্র সূরা মাআরিজ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৪)
উক্ত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে বুঝা গেল যে, পবিত্র যাকাত উনার সুনির্দিষ্ট হক্ব মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক নির্ধারিত। তা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে, যেমন-
“হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যদি তোমার ২০০ দিরহাম তথা সাড়ে ৫২ তোলা (বা প্রায় ৬০০ গ্রাম) রৌপ্যমুদ্রা থাকে এবং তোমার মালিকানায় এক বছর পূর্ণ হয়, তাহলে তাতে ৫ দিরহাম তথা ২.৫% বা ১৫ গ্রাম রূপা পবিত্র যাকাত ফরয হবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে তোমাকে কোন পবিত্র যাকাত দিতে হবে না, যতক্ষণ না তুমি ২০ দীনার বা মিছকাল তথা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণের মালিক হও। যখন তোমার নিকট ২০ দীনার বা মিছকাল তথা সাড়ে ৭ তোলা বা প্রায় ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ হবে এবং তাতে এক বছর পূর্ণ হবে, তখন তা থেকে অর্ধ দীনার বা অর্ধ মিছকাল তথা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ পবিত্র যাকাত প্রদান করতে হবে। এর বেশি যা হবে, তা থেকে এ হিসেবেই দিতে হবে। (আবূ দাউদ শরীফ)
শতকরা ২.৫% হারে পবিত্র যাকাত উনার দলীল:
উপরোল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে চল্লিশে এক টাকা, একশততে আড়াই টাকা, দুইশততে পাঁচ টাকা, হাজারে পঁচিশ টাকা পবিত্র যাকাত ধার্য করা হয়েছে। এভাবে যত উর্ধ্বে যাক না কেন সে অনুযায়ী পবিত্র যাকাত দিতে হবে। (আবূ দাউদ শরীফ)
পবিত্র যাকাত উনার নিয়ত থাকা আবশ্যক:
পবিত্র যাকাত পরিশোধ বা আদায়ে অবশ্যই নিয়ত করতে হবে। এটা ফরয ইবাদত, এর নিয়ত করা ওয়াজিব। মুখে উচ্চারণ করা বা পবিত্র যাকাত গ্রহণকারীকে শুনিয়ে বলা প্রয়োজন নেই। তবে মনে মনে নিয়ত অবশ্যই করতে হবে যে ‘আমি পবিত্র যাকাত আদায় করছি’ অন্যথায় পবিত্র যাকাত আদায় হবে না। তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে। তবে নিয়ত ছাড়াই সমস্ত সম্পদ ব্যয় করলে তার উপর আর কোন পবিত্র যাকাত উনার হুকুম বর্তাবে না। (কুদূরী, আল হিদায়া)
বর্তমানে সোনা ও রূপায় কোনটি নিছাব হিসেবে উত্তম:
পবিত্র যাকাত যে সময়ে ফরয হয় সে সময়ে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমান ছিল বিধায় সোনা ও রূপা উভয়টিই নিছাবের মূল সূত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই এ সূত্রানুসারে উভয়ের যে কোন একটির মূল্য ধরলেই চলবে।
তবে বর্তমানে যেহেতু রূপার মূল্য সোনার মূল্য অপেক্ষা অনেক কম তাই সতর্কতা ও পরহেযগারী হলো অল্পটি নেয়া। অর্থাৎ সোনা ও রূপা উভয়টার মধ্যে যেটাকে নিছাব হিসেবে গ্রহণ করলে গরীবের উপকার হয় সেটাকেই নিছাব হিসেবে গ্রহণ করা উত্তম ও তাক্বওয়ার অন্তর্ভূক্ত। এতে একদিকে যেমন পবিত্র যাকাত দাতার (ইবাদাতকারীর) সংখ্যা বাড়বে অন্যদিকে গরীবের বেশি উপকার হবে; যা পবিত্র যাকাত, ছদাকাত ও ইনফাকের মৌলিক চাহিদা। এটাই ইমাম ও মুজতাহিদীনগণ উনাদের গ্রহণযোগ্য মত। (কুদূরী, হিদায়া)
উল্লেখ্য: ১ ভরি = ১ তোলা বা ১১.৩৩ গ্রাম। সুতরাং ৭.৫ ভরি = ৮৫ গ্রাম (প্রায়), ৫২.৫ ভরি = ৫৯৫ গ্রাম (প্রায়)।
পবিত্র যাকাত উনার প্রকারসহ নিছাবের দলীল:
স্বর্ণের পবিত্র যাকাত: এ প্রসঙ্গে ফিকাহর কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
“বিশ মিছকাল অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা কম পরিমাণ স্বর্ণের পবিত্র যাকাত ওয়াজিব হয় না। অতএব, কারো কাছে যদি বিশ মিছকাল অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ এক বছর অধিনে থাকে তাহলে অর্ধ মিছকাল অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের এক ভাগ স্বর্ণ পবিত্র যাকাত দিতে হবে।” (কুদূরী, আল হিদায়া)
রৌপ্যের পবিত্র যাকাত: এ প্রসঙ্গে ফিকাহ ও ফতওয়ার কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
“রৌপ্য (এর মূল্য) দুইশত দিরহামের কম অর্থাৎ সাড়ে বায়ান্ন তোলার কম হলে তার পবিত্র যাকাত দিতে হবে না। দুইশত দিরহাম অর্থাৎ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য এক বছর মালিকের অধিনে থাকলে তখন এতে পাঁচ দিরহাম তথা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ হিসেবে তথা শতকরা আড়াই ভাগ হিসেবে পবিত্র যাকাত দিতে হবে।” (কুদূরী, আল হিদায়া)
ব্যবসার পণ্য বা আসবাবপত্রের পবিত্র যাকাত (সোনা-রূপার নিছাবে রূপার মূল্য ধরে):
“ব্যবসায়ের মাল যে প্রকারেরই হোক না কেন, তার দাম সোন-রূপার নিছাব পরিমাণ হলেই পবিত্র যাকাত ওয়াজিব হয় সোনা অথবা রূপার মধ্য থেকে যার দাম ধরলে গরীব-মিসকীনের বেশি উপকার হয় তার দাম বা মূল্যই ধরে পবিত্র যাকাত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সোনার চেয়ে রূপার মূল্যকেই প্রাধান্য দিয়ে পবিত্র যাকাত আদায় করা উত্তম। কেননা সোনার দাম ধরে দিলে অনেকের পবিত্র যাকাত আসবে না।” (কুদূরী, আল হিদায়া)
গৃহপালিত বিচরণ ও বর্ধনশীল পশুর পবিত্র যাকাত: (এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পরে আসতেছে)
ফসলের পবিত্র যাকাত: (যাকে পরিভাষায় উশর বলা হয়) (এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পরে আসতেছে)
পবিত্র রোযা উনার পবিত্র যাকাত: (যাকে যাকাতুল ফিতর বা ছদকাতুল ফিতর বলে উল্লেখ করা হয়)। ততসঙ্গে পবিত্র কুরবানী, তবে ছদকাতুল ফিতর এবং পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব হলেও হুকুমের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। সেটা হচ্ছে এই যে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন ছুবহে ছাদিকের পূর্বে ছাহিবে নিছাব তথা নিছাব পরিমাণ মালের মালিক হলে তার উপর ছদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। এ ক্ষেত্রে নিছাব বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ১০, ১১, ১২ই যিলহজ্জ শরীফ কোন ব্যক্তি ছাহিবে নিছাব হলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রেও নিছাব বছর পূর্ণ হওয়ার শর্ত নয়। (হিদায়া, কুদূরী)
যে যে সম্পদ বা মালের যাকাত ফরয:
পবিত্র যাকাত মুসলমান উনাদের প্রায় যাবতীয় মালেই ফরয, যদি তার নিছাব ও শর্ত পূরণ হয়। যেমন- সোনা-রূপা, নগদ অর্থ, যমীনে উৎপন্ন ফসল ও ফলফলাদি, যমীনে প্রাপ্ত গুপ্ত ধন, খণিতে প্রাপ্ত খণিজ দ্রব্য, ব্যবসায়ের পণ্যদ্রব্য, গৃহপালিত পশু, যেমন- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এসকল প্রকার মালেই পবিত্র যাকাত ফরয। (আল হিদায়া)
পবিত্র যাকাত যাদের উপর ফরয হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে:
(১) পবিত্র যাকাতদাতাকে মুসলমান হতে হবে। (২) বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক। (৩) আক্বেল বা বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন। (৪) আযাদ বা স্বাধীন। (৫) নিছাব অর্থাৎ সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য বা টাকা অর্থাৎ নিছাব পূর্ণ হওয়া। (৬) যদি এককভাবে কোন পণ্য বা দ্রব্যের মূল্য নিছাব পরিমাণ না হয় কিন্তু ব্যক্তির সবগুলো সম্পদের মূল্য মিলিয়ে একত্রে সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য মূল্যের সমান হয় তবে ওই ব্যক্তির নিছাব পূর্ণ হবে। অর্থাৎ নিছাবের একক মালিক হওয়া। (৭) সাংসারিক প্রয়োজনে গৃহীত ঋণ কর্তনের পর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে পবিত্র যাকাত দিতে হবে। (৮) হাওয়ায়েযে আছলিয়ার অতিরিক্ত। (৯) বর্ধনশীল মাল যেমন- স্বর্ণ, চান্দি, নগদ টাকা, মালে তিজারত বা ব্যবসায়িক মাল এবং সায়েমা বা চারণ ভূমিতে বিচরণকারী পশু। (১০) বর্ষ পূর্ণ হতে হবে অর্থাৎ নিছাব পরিমাণ সম্পদ তার অধীনে পূর্ণ ১ বছর থাকতে হবে।
* স্বামী-স্ত্রীর সস্পদ একই পরিবারের গণ্য হলেও মালিকানা ভিন্নহেতু পৃথকভাবে নিজ নিজ সম্পদের পবিত্র যাকাত আদায় করতে হবে।
* নির্ধারিত পবিত্র যাকাত পরিশোধের পূর্বেই সম্পদের মালিক মারা গেলে পবিত্র যাকাত পরিশোধের পর ওয়ারিশগণ মালিক বলে গণ্য হবে।
যাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয নয়:
ইয়াতীম ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক-বয়স্কা ছেলে হউক অথবা মেয়ে হউক তারা নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও তাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয হবেনা। নি¤েœ এ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
নিছাব পরিমাণ মাল থাকার পর যদি ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে ঋণের পরিমাণ অধিক হওয়ার কারণে নিছাব না থাকে, তখন তার উপর পবিত্র যাকাত ফরয থাকে না বা হয় না।
হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ নিছাব পরিমাণ হলেও উক্ত সম্পদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয হবে না। কারণ সম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ফতওয়া মুতাবিক সে নিছাবের মালিক নয়। উক্ত সম্পদ থেকে পবিত্র যাকাত ছাড়া ছদকায়ে ফিতর, আদায় করলে এবং উক্ত সম্পদ থেকে পবিত্র কুরবানী করলে তা কবুল হবে না। উপরন্তু কবীরাহ গুনাহ হবে। যেমন: চুরি-ডাকাতী, ছিনতাইয়ের টাকা বা সম্পদ, সুদ-ঘুষ ইত্যাদি পন্থায় অর্জিত সম্পদের ও তার মালিকের উপর কোন যাকাত নেই।
নিত্য প্রয়োজনীয় অর্থ বা স্থাবর সম্পদের উপর কোন পবিত্র যাকাত নেই। সেটা নিছাব পরিমাণ হলেও তার মালিকের উপর যাকাত নেই।
ইয়াতীম ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের পবিত্র যাকাত প্রদানের বিধান:
হানাফী মাযহাব উনার ইমাম, ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে, ইয়াতীম ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মাল নিছাব পরিমাণ হলেও তাদের উপর পবিত্র যাকাত উনার হুকুম বর্তাবে না। তবে উক্ত ইয়াতীম ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক-বয়স্কা ছেলে-মেয়ে যদি বালিগ-বালিগা হয় অতঃপর নেছাব পরিমাণ মালের মালিক হয় এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হয়, এ অবস্থায় যদি ইন্তিকাল করে তখন ওয়ারিছগণ সর্ব প্রথম তাদের উক্ত পরিত্যাক্ত সম্পদ থেকে পবিত্র যাকাত আদায় করবে। অতঃপর ওয়ারিছগণ তাদের পরিত্যাক্ত সম্পদ বণ্টন করে নিবে। (হিদায়া)
মালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলী:
মাল নিছাব (শরীয়ত নির্ধারিত) পরিমাণ হওয়া।
উক্ত মাল নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য ও স্থাবর মালের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া।
উক্ত মালের উপর পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া।
মালের উপর ব্যক্তির পূর্ণ মালিকানা থাকা।
মুদ্রা, টাকা বা ব্যবসায়ের পণ্য হওয়া।
পশুর যাকাতের ক্ষেত্রে পশু সায়িমা তথা বিচরণশীল ও বর্ধনশীল হওয়া।
ফসলের পবিত্র যাকাত তথা ওশরের ক্ষেত্রে, যমীনে উৎপাদিত ফসল কম-বেশি যাই হোক; (বিনা শ্রম ও সেচে) তার দশ ভাগের এক ভাগ অথবা (শ্রম ও সেচে) বিশ ভাগের এক ভাগ পবিত্র যাকাত দেয়া, আমাদের সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ফসলের কোন নিছাব নেই।
যে সব মাল অর্থ-সম্পদের উপর পবিত্র যাকাত ওয়াজিব নয়:
বসবাসের ঘর।
পরিধেয় বস্ত্র।
ঘরের আসবাব পত্র।
আরোহণের পশু বা যানবাহন।
কাজের জন্য ভাতা প্রদত্ত দাস-দাসি তথা খাদিম-খাদিমা।
ব্যবহারের হাতিয়ার বা যুদ্ধাস্ত্র।
হারানো বা লোকসান যাওয়া মাল।
সমুদ্রে ডুবে যাওয়া মাল।
ছিনতাই করে নিয়ে গেছে এমন মাল।
মাটিতে পুতে রাখা মাল-সম্পদ যার স্থান স্মরণে নেই।
ঋণ প্রদত্ত মাল যা গ্রহীতা বারবার অস্বীকার করেছে।
লুণ্ঠিত মাল।
ব্যবসার অযোগ্য মাল।
স্থানান্তরের অযোগ্য ও স্থাবর ধন-সম্পদ।
এক বছর পূর্ণ হয়নি এমন মাল।
ইয়াতীম, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও দাস-দাসীর মাল।
পবিত্র যাকাত ফরয হওয়ার জন্য নিছাব বছর পূর্ণ হওয়া আবশ্যক:
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
“হযরত ইবনে উমর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কোন মাল লাভ করেছে, তা এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ওই মালের পবিত্র যাকাত নেই।” (তিরমিযী শরীফ)
আরো বর্ণিত আছে- “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, কোন সম্পদের বছর পরিপূর্ণ হওয়ার পূর্বে পবিত্র যাকাত ফরয হবে না।” (আবূ দাউদ শরীফ ও বায়হাকী শরীফ)
বর্ষপূর্ণ হওয়ার পূর্বে পবিত্র যাকাত প্রদানের হুকুম:
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
“হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, একবার হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আপন যাকাত বর্ষ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই দেয়া সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে পবিত্র যাকাত প্রদানে অনুমতি দিলেন।” (আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
বছরের শুরুতে ও শেষে নিছাব ঠিক থাকলে এবং মাঝখানে কমলেও যাকাত দিতে হবে:
এ প্রসঙ্গে ফিকাহ ও ফতওয়ার কিতাবে ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখ করেন, বছরের শুরু এবং শেষে তথা নির্ধারিত তারিখে নিছাব ঠিক থাকলে তাকে অবশ্যই পবিত্র যাকাত দিতে হবে, যদিও মাঝখানে কখনো নিছাব থেকে কিছু অংশ কমে যায়। এরপরও তাকে পবিত্র যাকাত আদায় করতে হবে। (কুদূরী, আল হিদায়া)
مصرف الزكوةঅর্থাৎ পবিত্র যাকাত পাওয়ার যারা হক্বদার:
নিম্নলিখিত আট খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা ফরয হিসেবে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
“পবিত্র যাকাত কেবল ফক্বীর, মিসকীন ও পবিত্র যাকাত আদায়কারী কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা প্রয়োজন তাদের জন্য অর্থাৎ নও মুসলিমের জন্য, গোলাম বা বাঁদীদের মুক্তির জন্য, ঋণে জর্জরিত ব্যক্তিদের ঋণমুক্তির জন্য, মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদকারী এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত বিধান এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬০)
যাকাত পাওয়ার যারা হক্বদার তাদের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
১. ফক্বীর: ফক্বীর ওই ব্যক্তি যার নিকট খুবই সামান্য সহায় সম্বল আছে।
২. মিসকীন: মিসকীন ওই ব্যক্তি যার আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি এবং আত্মসম্মানের খাতিরে কারো কাছে হাত পাততে পারে না। আবার কেউ কেউ ফক্বীরকে মিসকীন এবং মিসকীনকে ফক্বীর অর্থে উল্লেখ করেছেন।
৩. আমিল বা পবিত্র যাকাত আদায় ও বিতরণের কর্মচারী।
৪. মন জয় করার জন্য নও মুসলিম: অন্য ধর্ম ছাড়ার কারণে পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। অভাবে তাদের সাহায্য করে পবিত্র ইসলামে সুদৃঢ় করা।
৫. ঋণমুক্তির জন্য: জীবনের মৌলিক বা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য সঙ্গতকারণে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঋণ মুক্তির জন্য পবিত্র যাকাত প্রদান করা যাবে।
৬. গোলাম বা বাঁদী মুক্তি: কৃত গোলাম বা বাঁদী মুক্তির জন্য।
৭. ফী সাবীলিল্লাহ বা জিহাদ: অর্থাৎ পবিত্র ইসলাম উনাকে যমীনে কায়িম বা বিজয়ী করার লক্ষ্যে যারা কাফির বা বিধর্মীদের সাথে জিহাদে রত সে সকল মুজাহিদদের প্রয়োজনে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে এবং তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করার কাজেও ব্যয় করা যাবে।
৮. মুসাফির: মুসাফির অবস্থায় কোন ব্যক্তি বিশেষ কারণে অভাবগ্রস্থ হলে ওই ব্যক্তির বাড়িতে যতই ধন-সম্পদ থাকুক না কেন তাকে পবিত্র যাকাত প্রদান করা যাবে। তবে মহা সম্মানিত ও পবিত্রতম সাইয়্যিদ বংশ মুবারক উনারা পবিত্র যাকাতের মাল উপভোগ করেন না। তা পবিত্র হাদীছ শরীফ কর্তৃক নিষিদ্ধ। বরং উনারা ধনীদের নিকট থেকে পবিত্র যাকাতের মাল নিয়ে গরীবদের মাঝে সুসমভাবে বণ্টন করে থাকেন। যা খাছ সুন্নত এবং উনাদের কাছেও পবিত্র যাকাতের সম্পদ পৌঁছে দেয়াও ফরয-ওয়াজিব যদি উনারা মহান হাদী হন। তবে পবিত্রতম নবী পরিবার তথা পবিত্রতম আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুবারক হাদিয়া প্রদান করা উনাদের পবিত্রতম খিদমতে জান-মাল কুরবান করাই হচ্ছে মু’মিনদের পবিত্র ঈমান উনার অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যেই রয়েছে সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টি। সুবহানাল্লাহ!
খাতসমূহ থেকে যাদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া অধিক উত্তম:
পবিত্র যাকাত প্রদানের আট প্রকার খাতের মধ্য থেকে তিন প্রকার খাতে পবিত্র যাকাত দেয়া যেতে পারে। যেমন,
১। নিকটতম গরীব আত্মীয়-স্বজন: নিকটতম গরীব আত্মীয়-স্বজন যদি তাদের আক্বীদা, আমল বিশুদ্ধ থাকে। তা খেয়ে যদি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করে। এর ব্যতিক্রমধর্মী ব্যক্তিকে পবিত্র যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। যদিও নিকটতম গরীব আত্মীয়-স্বজন ও গরীব প্রতিবেশী হোক না কেন।
২। গরীব প্রতিবেশী: এ ক্ষেত্রেও উক্ত ১নং শর্তের অনুরূপ।
৩। গরীব ত্বলিবুল ইলম: যারা দ্বীনি ইলম অন্বেষণ করে। তাদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া অতি উত্তম এবং লক্ষ-কোটি গুণ বেশী ফযীলতের কারণ। তবে এ ক্ষেত্রেও উক্ত ১নং শর্তের অনুরূপ শর্তের ভিত্তিতে তাদেরকেও যাকাত দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহ তিনি উনার মাকতুবাত শরীফ-এ উল্লেখ করেন। পবিত্র যাকাত আদায়ের খাতসমূহের মধ্যে গরীব ত্বলিবুল ইলমদের পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, মান্নত, কুরবানীর চামড়া বা চামড়ার টাকা দেয়া সর্বত্তোম এবং লক্ষ-কোটি গুণ ছওয়াব অর্জিত হবে। (মাকতুবাত শরীফ)
যাদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না:
১। উলামায়ে সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী মালানা দ্বারা পরিচালিত মাদরাসা অর্থাৎ যারা লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও অন্যান্য কুফরী মতবাদের সাথে সম্পৃক্ত, সেই সব মাদরাসাগুলোতে পবিত্র যাকাত প্রদান করলে পবিত্র যাকাত আদায় হবে না। যেমন পত্রিকার রিপোর্টে পাওয়া যায়, জামাতী-খারিজীরা তাদের নিয়ন্ত্রিত মাদরাসায় সংগৃহীত যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়ার মাধ্যমে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করে। যা মূলতঃ তাদের বদ আক্বীদা ও বদ আমল, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে তথা ধর্মব্যবসায় ও পবিত্র দ্বীন-ইসলাম বিরোধী কাজেই ব্যয়িত হয়। কাজেই এদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না, যে বা যারা তাদেরকে যাকাত দিবে কস্মিনকালেও তাদের যাকাত আদায় হবে না।
২। ঠিক একইভাবে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, ছদকা, মান্নত ও কুরবানীর চামড়া বা চামড়া বিক্রিকৃত টাকা- যেখানে আমভাবে ধনী-গরীব সকলের উপভোগের সুযোগ করে দেয়- এমন কোন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে বা সংগঠনে প্রদান করা হারাম ও নাজায়িয। যেমন ‘আনজুমানে মফিদুল ইসলাম’ এই সংগঠনটি বিশেষ ৩ পদ্ধতিতে মুসলমান উনাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে-
ক) পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, ছদকা, মান্নত ও কুরবানীর চামড়া বা চামড়া বিক্রিকৃত টাকা হাতিয়ে নেয়ার মাধ্যমে গরীব-মিসকীনদের হক্ব বিনষ্ট করে তাদেরকে বঞ্চিত করে দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
খ) অপরদিক থেকে জনকল্যাণমূলক সুবিধা প্রদান ও গ্রহণের মাধ্যমে ধনীদেরকেও পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, ছদকা, মান্নত ও কুরবানীর চামড়া বা চামড়া বিক্রিকৃত টাকা খাওয়ায়ে তথা হারাম উপভোগের মাধ্যমেও তাদের ইবাদত-বন্দেগী বিনষ্ট করে দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
গ) আরেক দিক থেকে যাকাতদাতাদের পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, ছদকা, মান্নত ও কুরবানীর চামড়া বা চামড়া বিক্রিকৃত টাকা যথাস্থানে না যাওয়ায় এবং যথাযথ কাজে ব্যবহার না হওয়ায় যাকাতদাতাদেরকে ফরয ইবাদতের কবুলিয়াত থেকে বঞ্চিত করছে। নাউযুবিল্লাহ! অর্থাৎ যাকাতদাতাদের কোন যাকাতই আদায় হচ্ছে না। কাজেই এ সমস্ত সংগঠনে পবিত্র যাকাত উনার টাকা প্রদান করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
৩। অনুরূপভাবে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, ছদকা, মান্নত ও কুরবানীর চামড়া বা চামড়া বিক্রিকৃত টাকা আত্মসাতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত হিন্দু ও বৌদ্ধদের ‘যোগ সাধনা শিক্ষা’ প্রদানের একটি প্রতিষ্ঠান, যা মুসলমান উনাদের জন্য শিক্ষা করা সম্পূর্ণরূপে কুফরী। এই প্রতিষ্ঠানটি একদিকে এই কুফরী শিক্ষা বাস্তবায়ন করে মুসলমান উনাদের ক্ষতিগ্রস্থ করছে, অন্যদিকে মুসলমান উনাদের পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, দান-ছদকা, মান্নত বা কুরবানীর চামড়া বিক্রিকৃত টাকা হাতিয়ে নিয়ে তা তাদের কুফরী কর্মকা-ে ব্যবহারের মাধ্যমে গরীব-মিসকীনের হক্ব বিনষ্ট করছে। অপরদিকে যাকাত প্রদানকারীদেরকেও তাদের ফরয ইবাদত থেকে বঞ্চিত করে কবীরা গুনাহে গুনাহগার করছে। নাউযুবিল্লাহ! কাজেই মুসলমানদের জন্য কাফিরদের এই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, উশর, ছদকা, মান্নত ও কুরবানীর চামড়া বা চামড়া বিক্রিকৃত টাকা প্রদান করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয তো অবশ্যই, এমনকি সাধারণ দান করাও হারাম ও নাজায়িয।
৪। নিছাব পরিমাণ মালের অধিকারী বা ধনী ব্যক্তিকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না। এদেরকে পবিত্র যাকাত দিলে আবার তা নতুন করে আদায় করতে হবে।
৫। মুতাক্বাদ্দিমীন অর্থাৎ পূর্ববর্তী আলিমগণ উনাদের মতে কুরাঈশ গোত্রের বনু হাশিম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আকীল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের বংশধরের জন্য পবিত্র যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়। তবে মুতাআখখিরীন অর্থাৎ পরবর্তী আলিমগণ উনাদের মতে বৈধ।
৬। অমুসলিম ব্যক্তিকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
৭। যে সমস্ত মাদরাসায় ইয়াতীমখানা ও লিল্লাহ বোডিং আছে সেখানে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে এবং যে সমস্ত মাদরাসায় লিল্লাহ বোডিং নেই সেখানে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
৮। দরিদ্র পিতামাতাকে এবং উর্ধ্বতন পুরুষ অর্থাৎ দাদা-দাদী, নানা-নানীকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
৯। আপন সন্তানকে এবং অধঃস্তন পুরুষ অর্থাৎ নাতি-নাতনীদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
১০। স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরস্পরকে পবিত্র যাকাত দিতে পারবে না।
১১। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইয়াতীমখানা লিল্লাহ বোডিংয়ের জন্য পবিত্র যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত হলে তাকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
১২। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যদি উপার্জন ছেড়ে দিয়ে পবিত্র নামায-রোযা ইত্যাদি নফল ইবাদতে মশগুল হয়ে যায় তাকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না। তবে সে যদি উপার্জন না থাকার কারণে পবিত্র যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত হয় তবে যাকাত দেয়া যাবে।
১৩। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অনুযায়ী যারা আমল করেনা অর্থাৎ যারা পবিত্র শরীয়ত উনার খিলাফ আমল ও আক্বীদায় অভ্যস্ত তাদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
১৪। যারা পবিত্র যাকাত গ্রহণ করে উক্ত যাকাতের টাকা দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাফরমানীমূলক কাজে মশগুল হয় তাদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না। যেমন এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা নেকী ও পরহিযগারী কাজে পরস্পর পরস্পরকে সহযোগীতা কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘন কাজে পরস্পর পরস্পরকে সহযোগীতা করনা।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২)
১৫। বেতন বা ভাতা হিসেবে নিজ অধিনস্ত ব্যক্তি বা কর্মচারীকে পবিত্র যাকাত উনার টাকা দেয়া যাবে না।
১৬। যাদের আক্বীদা ও আমল আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত বহির্ভুত তাদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না। যারা হারাম কাজে অভ্যস্ত তাদেরকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
১৭। জনকল্যাণমূলক কাজে ও প্রতিষ্ঠানে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না। যেমন: আমভাবে লাশ বহন ও দাফন, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, হাসপাতাল নির্মান, বৃক্ষরোপন, পানির ব্যবস্থাকরণ ইত্যাদি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে না।
স্ত্রীর সম্পদ বা অলঙ্কারের যাকাত কে দিবে ?
স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হলেও মালিকানা যদি ভিন্ন হয় তাহলে অবশ্যই প্রত্যেককে তা পৃথকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় করতে হবে। স্ত্রীর যদি অলঙ্কারও হয়। তা থেকেই তাকে পবিত্র যাকাত আদায় করতে হবে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاَقِمْنَ الصَّلٰوةَ وَاٰتِينَ الزَّكٰوةَ وَاَطِعْنَ اللهَ وَرَ‌سُوْلَه ۚ
অর্থ: “আর তোমরা (মহিলারা) পবিত্র নামায কায়িম কর ও পবিত্র যাকাত প্রদান কর এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য কর।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
তবে স্ত্রীর অলঙ্কার ব্যতীত অন্য কোন সম্পদ না থাকলে সেক্ষেত্রে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে প্রদানকৃত হাত খরচের টাকা থেকে বাঁচিয়ে বা কিছু অলঙ্কার বিক্রি করে হলেও পবিত্র যাকাত আদায় করতে হবে। স্ত্রীর অলঙ্কারের যাকাত স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামী আদায় করলেও পবিত্র যাকাত আদায় হয়ে যাবে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা ছদকাহ তথা পবিত্র যাকাত প্রদান করো যদিও তোমাদের অলঙ্কারও হয়।” (বুখারী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে, “হযরত আমর ইবনে শু’আইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে তিনি উনার সম্মানিত দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এক মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি আগমন করেন, উনার সাথে উনার একজন কন্যা ছিলেন। উনার কন্যার হাত মুবারক-এ সোনার দুটি মোটা চুরি ছিল। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি এর পবিত্র যাকাত প্রদান করেন? তিনি বলেন, না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি পছন্দ করেন যে, আপনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিয়ামতের দিন এই দুটির পরিবর্তে আগুনের দুটি চুড়ি পরাবেন? তখন তিনি চুড়ি দুটি খুলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রদান করেন এবং বলেন, এগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য।” (আবূ দাঊদ শরীফ)
পবিত্র যাকাত উনার হিসাব কখন থেকে করতে হবে ?
পবিত্র যাকাত বছরান্তে ফরয হয় এবং বছরান্তে পবিত্র যাকাত উনার হিসাব করা ওয়াজিব। চন্দ্র বছরের তথা আরবী বছরের যে কোন একটি মাস ও তারিখকে পবিত্র যাকাত হিসাবের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। বাংলা বা ইংরেজী বছর হিসাব করলে তা শুদ্ধ হবে না। পবিত্র যাকাতযোগ্য সকল সম্পদ ও পণ্যের বেলায় এই শর্ত আরোপিত কিন্তু কৃষিজাত ফসল, মধু, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বছরান্তের শর্ত নেই। প্রতিটি ফসল তোলার সাথে সাথেই পবিত্র যাকাত (উশর) আদায় করতে হবে কম বেশী যা-ই হোক। তবে ছদাকাতুল ফিতর-এর জন্য বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। পবিত্র ঈদের দিন ছুবহে ছাদিকের পূর্বেই ছাহিবে নিছাব হলে ছদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। আর পবিত্র কুরবানী উনার হুকুমও অনুরূপ অর্থাৎ ১০, ১১, ১২ই যিলহজ্জ শরীফ উনার মধ্যে যে কোন দিন মালিকে নিছাব হলে পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব। তবে হিসাবের সুবিধার্থে পহেলা রমাদ্বান শরীফ; এ পবিত্র যাকাত হিসাব করা যেতে পারে। তবে এটাই উত্তম ও পবিত্র সুন্নত মুবারক।
পাওনা ও আটকে পড়া সম্পদের পবিত্র যাকাত উনার বিধান:
এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
“বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যখন পবিত্র যাকাত প্রদানের সময় উপস্থিত হবে, তখন পবিত্র যাকাত প্রদানকারী ব্যক্তি তার সকল সম্পদের উপর এবং সকল পাওনার উপর পবিত্র যাকাত দিবেন। তবে যে পাওনা সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে এবং যা ফেরত পাওয়ার সে আশা করে না, সেই সম্পদের পবিত্র যাকাত দিতে হবে না। তবে যখন পাবে তখন (শুরু থেকে পাওয়া পর্যন্ত) তার পবিত্র যাকাত আদায় করবে।” (ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এ মতটি হযরত আবূ উবায়দ কাসিম ইবনে সাল্লাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সংকলন করেছেন)
বিগত বছরের কাযা বা অনাদায়ী পবিত্র যাকাত প্রসঙ্গে:
যদি কারো অতীত যাকাত অনাদায়ী বা অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তা ঋণের মধ্যে গণ্য হবে। চলতি বছরে যাকাত আদায়ের পূর্বেই অনাদায়ী কাযা যাকাত অবশ্যই আদায় করতে হবে। (ফিকাহ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহ)
পবিত্র যাকাত উনার টাকা দিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে নি¤œমানের শাড়ী-লুঙ্গি ক্রয় প্রসঙ্গে: বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, পবিত্র যাকাত উনার টাকা-পয়সা দিয়ে এমন নি¤œমানের শাড়ী-লুঙ্গি ক্রয় করে যা ব্যবহারের অযোগ্য। যা পবিত্র যাকাতদাতা ও তার পরিবার-পরিজন নিজেও সেটা পরিধান করবে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِـمَّا تُـحِبُّونَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র রাস্তায় তোমরা তোমাদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কস্মিনকালেও কোন নেকী হাছিল করতে পারবে না।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯২)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, “নিজের জন্যে তোমরা যা পছন্দ করবেনা অন্যের জন্যেও তা পছন্দ করবে না।” (মিশকাত শরীফ)
অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে “সবচেয়ে উত্তম ও প্রিয় বস্তু মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান না করলে তা কবুল হয় না।” (মিশকাত শরীফ)
পবিত্র যাকাত একটি শ্রেষ্ঠ মালি ইবাদত এবং পবিত্র ইসলাম উনার অন্যতম তৃতীয় রোকন। পবিত্র যাকাত উনার মাল তার হকদারকে দিয়ে দেয়াই হচ্ছে ধনীদের জন্য ফরয কাজ, তা যত্রতত্র তাদের খেয়াল-খুশি মুতাবিক খরচ করতে পারবে না। সে অধিকারও তাদের নেই। পবিত্র যাকাত ধনী-গরীবদের মাঝে পার্থক্য করার জন্য আসেনি। তাহলে যাকাত উনার কাপড় বলতে আলাদা নাম থাকবে কেন? অতএব, বুঝা যাচ্ছে পবিত্র যাকাত উনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার জন্য ‘যাকাতের কাপড়’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই লোক প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নি¤œমানের অব্যবহার্য শাড়ী-লুঙ্গি পবিত্র যাকাত উনার টাকা দিয়ে ক্রয় করে পবিত্র যাকাত দিলে পবিত্র যাকাত উনাকে ইহানত বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার শামিল। নাউযুবিল্লাহ! এতে পবিত্র যাকাততো কবুল হবেই না বরং পবিত্র ঈমান, আমল, আক্বীদা সব বরবাদ হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! মুসলমান উনাদেরকে বেঈমান করার জন্য ইহুদী-নাছারাদের এক সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। যা গাফিল মুসলমান উনাদের উপলব্ধিতেও নেই। এরূপ ইহানতপূর্ণ কাজ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ফরয।
অবৈধ মালের পবিত্র যাকাত নেই:
হারাম কামাই দ্বারা অর্জিত মালের কোন পবিত্র যাকাত নেই। যদি কেউ পবিত্র যাকাত উনার নিয়ত করে পবিত্র যাকাত দেয় তাহলে তার কবীরা গুনাহ হবে। বৈধ মনে করলে কুফরী হবে। কাজেই অবৈধ মালের যেমন পবিত্র যাকাত নেই, তেমন তার মালিকের উপরও পবিত্র যাকাত নেই অর্থাৎ পবিত্র ইসলাম উনার পরিভাষায় সে ছাহিবে নিছাব হবে না। (ফিকাহর কিতাবসমূহ)
ঋণগ্রস্থদের ঋণের বদলা হিসেবে পবিত্র যাকাত উনার অর্থ কেটে নেয়ার বিধান:
কোন ঋণদাতা-মালদার ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্তদের ঋণের বদলা হিসেবে পবিত্র যাকাত উনার অর্থ কেটে নেয় তাহলে তার পবিত্র যাকাত আদায় হবে না। কেননা ফিকাহ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পবিত্র যাকাতদাতা পবিত্র যাকাত প্রদানের মাধ্যমে বাড়তি কোন ফায়দা লুটাতে পারবে না। এভাবে পবিত্র যাকাত উনার অর্থ কেটে নেয়া প্রকাশ্য ফায়দা হাছিলের শামিল। আর পবিত্র যাকাত উনার মাল বা অর্থ অবশ্যই পবিত্র যাকাত পাওয়ার হকদার ব্যক্তিদেরকে হস্তান্তর করতে হবে তথা তাদেরকে মালিক করে দিতে হবে। এরপর যদি তারা ঋণ প্রদানকারীকে হস্তান্তর করে তবে তাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে যে, যাকাত গ্রহণকারী তথা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় আক্বীদাভুক্ত হতে হবে। অন্যথায় পবিত্র যাকাত এভাবে আদায়ে-আদায় হবে না। (ফিকাহ ও ফতোয়ার কিতাবসমূহ)

এক নজরে পবিত্র যাকাত হিসাবের বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত ছক
পবিত্র যাকাত হিসাবের ছক: (চন্দ্র বৎসর হিসাবে)
মালদার ব্যক্তি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল সম্পদ হিসাবের জন্য নিম্নের ছকটি ব্যবহার করতে পারেন। নমুনা ছকে উল্লেখ নাই এমন সম্পদ মালদারের থাকলে তা অবশ্যই হিসাবে আনতে হবে।
(ক) পবিত্র যাকাত যোগ্য সম্পদের বর্ণনা ঃ
নং সম্পদের নাম সম্পদের মূল্য নির্ধারণ টাকা
১.ক সোনা, রূপার গহনা, বার বা গিনি কয়েন বর্তমান বাজার মূল্য
১.খ সোনা/রূপা/মূল্যবান পাথর/হিরক বা মণিমুক্তা মিশ্রিত অলঙ্কার শুধুমাত্র সোনা বা রূপার মূল্য
২.ক ব্যবসার জন্য ক্রয়কৃত খালি প্লট ক্রয় মূল্য
২.খ নিজ ব্যবহার্যের অতিরিক্ত বাড়ি/ফ্ল্যাট রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদে বাৎসরিক আয় (যদি সঞ্চিত থাকে)
৩ যানবাহন: ব্যবসায় ব্যবহৃত রিক্সা, ট্যাক্সি, লরি, সিএনজি, গাড়ি, বাস-ট্রাক, ট্রলার, লঞ্চ, নৌকা ইত্যাদি। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদে বাৎসরিক আয় (যদি সঞ্চিত থাকে)
৪ সাবালকের বিভিন্ন সঞ্চয় বা যাকাতযোগ্য সম্পদ সব সম্পদের সর্বমোট মূল্য
৫.ক প্রাইজবন্ড সবগুলোর ক্রয় মূল্য
৫.খ ব্যক্তিগত বা পোষ্যের নামের বীমা বীমায় জমাকৃত মোট প্রিমিয়াম
৫.গ নিজ বা পোষ্যের ডিপিএস বা এ ধরনের যে কোন সঞ্চয় জমাকৃত মোট অর্থ
৫.ঘ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র সবগুলো সঞ্চয় পত্রের ক্রয় মূল্য
৫.ঙ বন্ড (ব্যাংক বা অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নামের যে কোন বন্ড) সবগুলো বন্ডের ক্রয়কৃত মূল্য
৫.চ বিভিন্ন মেয়াদী আমানত জমাকৃত মোট অর্থ
৫.ছ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত মূল টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত মূল টাকা যখন থেকে নিছাব পরিমান হবে তখন থেকে যাকাত গণনা করতে হবে। এরপর পূর্ণ ১ বৎসর হলে নিছাব যদি থাকে তাহলে তার যাকাত দিতে হবে।
৬.ক সিডিবিএল বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার হোক অথবা সিডিবিএল বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত না হোক যাকাত দেয়ার নিয়ম হচ্ছে- শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে কম মূল্যে, যাকাত প্রদানের সময় শেয়ারের মূল্য বেশি, এক্ষেত্রে ক্রয় মূল্যে যাকাত দিতে হবে। আবার শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে বেশি মূল্যে যাকাত প্রদানের সময় শেয়ারের মূল্য কম, এক্ষেত্রে যাকাত প্রদানের সময়কার মূল্য ধরতে হবে।
৬.খ অংশিদারী বা যৌথ মালিকানার যাকাতযোগ্য সম্পদ যৌথভাবে যাকাত আদায় না হলে নিজ অংশের ক্রয় মূল্য
৭ বিদেশের সকল যাকাতযোগ্য সম্পদ (যদি থাকে) সম্পদের ক্রয় মূল্য
৮.ক ক্যাশের/হাতের বা সঞ্চিত নগদ অর্থ মোট অর্থের পরিমাণ
৮.খ সেভিংস (সঞ্চয়ী) একাউন্ট নির্দিষ্ট তারিখের ব্যালেন্স
৮.গ কারেন্ট (চলতি) একাউন্ট নির্দিষ্ট তারিখের ব্যালেন্স
৯.ক কারখানায় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য ক্রয়কৃত কাঁচামালের মজুদ ক্রয়কৃত মালের মূল্য
৯.খ কারখানায় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত তৈরি মালের মজুদ প্রস্তুতসহ মওজুদ করণে মোট খরচ বা ব্যায়ের পরিমাণ
৯.গ ব্যবসার জন্য ক্রয়কৃত মালের মজুদ মজুদ মালের ক্রয় মূল্য
৯.ঘ পোল্ট্রি ফার্মের ব্রয়লার বড় করে বিক্রির জন্য পালিত হলে ফার্মের হাঁস-মুরগির ক্রয় মূল্য
৯.ঙ ব্যবসার জন্য পালিত গরু/ মহিষ/ ছাগল/ ভেড়া/ ঘোড়া/ উট দুম্বা থাকলে সব পশুর ক্রয় মূল্য
৯.চ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চাষকৃত মাছ ক্রয় মূল্য
১০ চন্দ্র বৎসরের অগ্রিম যাকাত প্রদান করলে অগ্রিম যাকাতের পরিমাণ
১১ প্রদানকৃত ঋণের অর্থ বা ধার দেয়া টাকা প্রদানকৃত ঋণ বা ধার দেয়া টাকা ফেরত পাওয়া সুনিশ্চিত হলে তার মোট পরিমাণ
মোট পবিত্র যাকাত প্রদান যোগ্য সম্পদের মূল্য = ককক
 মিল-কারখানা বা ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য লোন থাকলেও তার অন্যান্য সম্পদের পবিত্র যাকাত দিতে হবে। কেননা তার উক্ত লোনের বিপরীতে তার মিল-কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কাজেই উক্ত লোন পবিত্র যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে না।
পবিত্র যাকাত বিষয়ক যে কোন প্রশ্নোত্তর পেতে ভিজিট করুন: িি.িধযশধসুুঁধশধঃ.পড়স

(খ) পবিত্র যাকাত থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত সম্পদের বর্ণনা:
নং পবিত্র যাকাত থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পদের নাম সম্পদের দেনার পরিমাণ টাকা
১২.ক সাংসারিক প্রয়োজনে ব্যাংক বা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণ ঋণের বর্তমান দায়দেনার পরিমাণ
১২.খ বাকিতে বা কিস্তিতে পরিশোধের জন্য দেনা পরিশোধিত কিস্তি কর্তনের পর বর্তমান দেনার পরিমাণ
১২.গ সাংসারিক প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ধার/দেনা/করজে হাসানা ধার-দেনার পরিমাণ
১৩ স্ত্রীর অপরিশোধিত মোহরানার দেনা, (যদি স্ত্রীর পাবার তাগাদা থাকে) দেনা/বকেয়ার পরিমাণ
১৪ সরকার ও প্রতিষ্ঠানের পাওনা: জমির খাজনা, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স, অধীনস্থের বেতন, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজের বকেয়া বেতন (যদি থাকে) ইত্যাদি নির্ধারিতে তারিখের মোট দেনা/বকেয়ার পরিমাণ
যাকাত থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোট দায় দেনা = খখখ

(গ) পবিত্র উশর ও পশু সম্পদের নির্ধারিত যাকাত ঃ
ফসল ও পশুর বর্ণনা পবিত্র যাকাত নির্ধারণ টাকা
১৫.ক প্রাকৃতিক উপায়ে চাষাবাদকৃত ফল বা ফসল প্রাপ্ত ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ ফসল বা তার মূল্য
১৫.খ আধুনিক উপায়ে চাষাবাদকৃত ফল বা ফসল প্রাপ্ত ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ ফসল বা তার মূল্য
১৬.ক সায়েমা (স্বেচ্ছায় মাঠে বিচরণকারী পশু) ৩০টি গরু/মহিষ হলে ১ বছর বয়সের ১টি, ৪০টি হলে ২ বছর বয়সের ১টি গরু/মহিষ বা তার সমমূল্য
১৬.খ সায়েমা (স্বেচ্ছায় মাঠে বিচরণকারী পশু) ৪০টি ভেড়া/ছাগল হলে ১ বছর বয়সের ১টি, ১২১টি হলে ২টি, ২০১টি হলে ৩টি, ৪০০টি হলে ৪টি এরপর প্রতি শতকে একটি ছাগল/ভেড়া বা তার সমমূল্য
উশর ও পশু সম্পদের নির্ধারিত যাকাত = গগগ

পবিত্র যাকাত নিরূপণ ঃ
ক) নিরীক্ষিত যাকাত যোগ্য সম্পদের মোট পরিমাণ/মূল্য : ককক
খ) যাকাত থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোট দায় দেনার পরিমাণ/মূল্য (বিয়োগ করুন) ঃ খখখ
মোট যাকাত প্রদান যোগ্য সম্পদের পরিমাণ/মূল্য (ককক – খখখ) টাকা ঃ ঘঘঘ
যদি ঘঘঘ এর সম্পদ/মূল্য সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্যের মূল্যের সমান বা তার বেশি হয় তবে শতকরা আড়াই (২.৫০%) ভাগ হারে যাকাত দিতে হবে।
সম্পদের শতকরা আড়াই (২.৫০%) হারে মোট যাকাত : হহহ
উশর ও পশু সম্পদের নির্ধারিত যাকাত = (যদি থাকে যোগ করুন) : গগগ
হিসাবকৃত চন্দ্র বৎসরের মোট যাকাতের পরিমাণ টাকা:……………….

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে