পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করবে আগামী ২৯শে শাওওয়াল শরীফ ১৪৪০ হিজরী, ২রা ছানী ১৩৮৭ শামসী, ৩রা জুলাই ২০১৯ ঈসায়ী ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার দিবাগত সন্ধ্যায়।


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘পবিত্র হজ্জ উনার মাসগুলো হচ্ছেন পবিত্র শাওওয়াল শরীফ, পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ।’ সুবহানাল্লাহ!
বাংলাদেশ পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করবে আগামী ২৯শে শাওওয়াল শরীফ ১৪৪০ হিজরী, ২রা ছানী ১৩৮৭ শামসী, ৩রা জুলাই ২০১৯ ঈসায়ী ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার দিবাগত সন্ধ্যায়। পবিত্র হজ্জ পালন করার প্রস্তুতি গ্রহণের মাস হচ্ছেন পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস। তাছাড়া এমাসে রয়েছে অনেক পবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সউদী ওহাবী ইহুদী সরকার বিগত আরবী মাসগুলো যেভাবে শুরু করেছে তাতে এটা নিশ্চিত যে, এ বছরেও পবিত্র হজ্জ বাতিল করার গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
তাই আসন্ন পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে শুরু করতে হলে পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার চাঁদ সঠিক তারিখে গণনা শুরু হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
পবিত্র হজ্জ পালন করার প্রস্তুতি গ্রহণের মাস হচ্ছেন পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস। সউদী ওহাবী ইহুদী সরকার বিগত আরবী মাসগুলো যেভাবে শুরু করেছে তাতে এটা নিশ্চিত যে, এ বছরেও পবিত্র হজ্জ বাতিল করার গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! তাই আসন্ন পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে শুরু করতে হলে পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার চাঁদ সঠিক তারিখে গণনা শুরু হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
সঠিক তারিখে আরবী মাস উনার চাঁদ তালাশ করা প্রসঙ্গে সউদী ওহাবী ইহুদী সরকারকে আগাম সতর্ক করতে গিয়ে তিনি এসব নছীহত মুবারক পেশ করেন।

আরবী বারোটি মাস উনার মধ্যে পবিত্র যিলক্বদ শরীফ এগারতম মাস এবং চারটি হারাম বা সম্মানিত মাস উনাদের মধ্যে একটি। এছাড়া এ সম্মানিত মাসটি পবিত্র হজ্জ উনার মাসসমূহেরও একটি। এ সম্মানিত মাস উনার মধ্যেই পবিত্র হজ্জ পালনকারী উনারা পবিত্র হজ্জ উনার প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক পবিত্র হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ গমন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল, মুস্তাহাব যেকোনো ইবাদত করতে হলে তার পূর্বে সেই ইবাদতের ইলম অর্জন করত হবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ইলম হচ্ছে আমলের ইমাম।” অর্থাৎ ইলমকে অনুসরণ করেই প্রতিটি আমল বা ইবাদত করতে হবে।

পবিত্র হজ্জ দ্বীন ইসলাম উনার বুনিয়াদী ৫টি আমলের মধ্যে অন্যতম একটি আমল। এ আমলটি বাদানী (শারীরিক) ও মালী (আর্থিক) উভয়ের সমন্বয়ে আদায় করতে হয়। যারা পবিত্র হজ্জ আদায় করবে তাদেরকে অবশ্যই পবিত্র হজ্জ উনার ইলম বা মাসয়ালা-মাসায়িল জানতে হবে। পবিত্র হজ্জ আদায়ের প্রয়োজনীয় ইলম না জেনে কেউ যদি পবিত্র হজ্জ করে এক্ষেত্রে তার শারীরিক শ্রম ও অর্থ ব্যয় দুটোই বিফলে যাবে। তার হজ্জ আদায় হবে না। যেমন, পবিত্র রোযা ও পবিত্র নামায আদায়কারীর ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “কতক রোযাদার রয়েছে তাদের ক্ষুধার্ত থাকা ব্যতীত পবিত্র রোযা উনার কিছুই অর্জিত হয় না। তদ্রƒপ কতক নামায আদায়কারী আছে যাদের রাত্রি জাগরণ ব্যতীত আর কিছুই অর্জিত হয় না।” নাউযুবিল্লাহ! এ পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রতিভাত হয় যে, প্রতিটি আমলের ক্ষেত্রে পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার যে ইলম বা মাসয়ালা-মাসায়িল রয়েছে সে মুতাবিক আমল করতে হবে। কাজেই পবিত্র হজ্জ আদায়ের জন্য যে মাসয়ালা-মাসায়িল রয়েছে তা পবিত্র হজ্জ আদায়কারীকে অবশ্যই জানতে হবে।

অনেকের ধারণা যে, হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসার সামর্থ্য বা টাকা-পয়সা থাকলেই হজ্জ ফরয হয়। এ ধারণা আদৌ শুদ্ধ নয়। বরং হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য টাকা-পয়সা থাকার পাশাপাশি আরো একাধিক শর্ত রয়েছে; যা অনুপস্থিত থাকলে হজ্জ ফরয হয় না। যেমন- হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য শর্তসমূহ হচ্ছে- ১. ঈমানের নিরাপত্তা থাকা, ২. বালেগ হওয়া, ৩. সুস্থ হওয়া, ৪. দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হওয়া, ৫. সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল বা পাথেয় থাকা, ৬. যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা, ৭. জীবনের নিরাপত্তা থাকা, ৮. মাল বা সম্পদের নিরাপত্তা থাকা, ৯. স্বাধীন হওয়া, ১০. আমলের নিরাপত্তা থাকা। আর ১১. মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত একটি শর্ত হচ্ছে তার স্বামী অথবা কোনো সচ্চরিত্রবান মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা। এছাড়াও বর্তমানে চাঁদ বিষয়ে ইলম থাকাও ফরয। কেননা সউদী ওহাবী ইহুদী সরকার মনগড়া তারিখে অর্থাৎ চাঁদ না দেখে আরবী মাস শুরু করে মানুষের পবিত্র হজ্জসহ বহু আমল নষ্ট করে দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!! নাউযুবিল্লাহ!!!

তাছাড়া পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসে রয়েছে অনেকগুলো পবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ। যেমন ০৮ যিলক্বদ শরীফ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন আস সাবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ। ১১ যিলক্বদ শরীফ: ক) সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ। খ) ঈদে বিলাদতে হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম। ১২ যিলক্বদ শরীফ: সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ। এদিনে কোটি কোটি কণ্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি এদিন যাত্রাবাড়ি শরীফ উনার পীর ছাহেব ক্বিবলা হযরত সুলতানুল আরেফীন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। ১৩ যিলক্বদ শরীফ: উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। ১৪ যিলক্বদ শরীফ: ঈদে বিলাদতে হযরত শাফীউল উমাম আলাইহিস সালাম।
১৬ যিলক্বদ শরীফ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

আগামী ২৯শে শাওওয়াল শরীফ ১৪৪০ হিজরী, ২ ছানী ১৩৮৭ শামসী, ৩রা জুলাই ২০১৯ ঈসায়ী, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সন্ধ্যায় চাঁদ দিগন্তরেখার মাত্র ৬ ডিগ্রীর কিছু উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদের বয়স হবে মাত্র ১৮ ঘণ্টা। সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৬ টা ৫০ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত হবে ৭ টা ২৮ মিনিটে অর্থাৎ মাত্র ৩৮ মিনিট চাঁদ আকাশে অবস্থান করে অস্ত যাবে। সেদিন চাঁদ অবস্থান করবে ২৯০ ডিগ্রী আযিমাতে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ০৯ ডিগ্রী কোন করে সূর্য থেকে সরে থাকবে এবং চাঁদের মাত্র ০.৬২% আলোকিতে থাকবে বলে বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হবে না। সুতরাং সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী পবিত্র শাওওয়াল মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হবার পর ৪ ছানী ১৩৮৭ শামসী মুতাবিক ৫ জুলাই পবিত্র জুমুয়াবার থেকে বাংলাদেশে ১৪৪০ হিজরী সনের পবিত্র যিলক্বদ মাসের গণনা শুরু হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে