পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার ১০ তারিখের ছুবহে ছাদিক হতে ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যেসকল পুুরুষ ও মহিলা মালিকে নিছাব হবে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব।


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র ‘সূরা কাওছার শরীফ” উনার মধ্যে সামর্থ্যবান বান্দা-বান্দী উনাদেরকে পবিত্র কুরবানী করার জন্য সরাসরি নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন। যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনার যিনি মহান রব তায়ালা উনার (সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনের) জন্য নামায আদায় করুন এবং পবিত্র কুরবানী করুন।” অর্থাৎ আপনার উম্মতদেরকে বলুন, তারা যেন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং আপনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে নামায আদায় করে এবং পবিত্র কুরবানী করে। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কুরবানী উনার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, “সামর্থ্য থাকার পরও যে ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী করবে না, সে যেন ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।” অর্থাৎ সামর্থ্য থাকার পরও যারা পবিত্র কুরবানী করে না, তাদের উপর খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কঠিন অসন্তুষ্ট হন। নাউযুবিল্লাহ!

সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া হলো- পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার ১০, ১১, ১২ অর্থাৎ ১০ তারিখের ছুবহে ছাদিক হতে ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ মালিকে নিছাব হয় অর্থাৎ হাওয়ায়েজে আছলিয়াহ (নিত্যপ্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ, আসবাবপত্র) বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের মালিক হয়, তাহলে তার উপর পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব। তাছাড়াও যদি কারো নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ বা আসবাবপত্র থাকে এবং তা যদি নিছাব পরিমাণ হয়, যেমন- কারো পাঁচটি ঘর আছে, একটির মধ্যে সে থাকে আর তিনটির ভাড়া দিয়ে সে সংসার চালায় আর একটি অতিরিক্ত, যার মূল্য নিছাব পরিমাণ। এক্ষেত্রে তার উপরে পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব হবে।

যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব তাদের উচিত- পবিত্র কুরবানী উনার দিন পবিত্র কুরবানী করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নৈকট্য মুবারক হাছিল করা।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আদম সন্তান পবিত্র কুরবানী উনার দিন যেসব নেক কাজ করে থাকে তন্মধ্যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো- পবিত্র কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে পবিত্র কুরবানী উনার পশু তার শিং, পশম ও খুর ইত্যাদি সবসহ উপস্থিত হবে। পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরবানীদাতার আমলনামায় অসংখ্য নেকী দান করেন। সুবহানাল্লাহ!

যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব তারা তো কুরবানী করে অফুরন্ত ফযীলত অর্জন করবেন। কিন্তু যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব নয়; তারাও ইচ্ছা করলে একাধিকজন মিলে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নামে গরু, খাসি, দুম্বা বা ভেড়া কুরবানী দিয়ে পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত লাভ করতে পারেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই সকলের উচিত কেবলমাত্র খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি বা রেযামন্দি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরবানী করা। এর মধ্যে যেন কোনো রকম গাইরুল্লাহ বা রিয়া তথা লৌকিকতা স্থান না পায়। কেননা কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পবিত্র দরবারে পবিত্র কুরবানীকৃত পশুর গোশত কিংবা রক্ত কিছুই পৌঁছে না। বরং শুধুমাত্র তোমাদের তাক্বওয়া বা ইখলাছ উনার মুবারক দরবারে পৌঁছে থাকে।” সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে