পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রজবুল হারাম মাস উনার নামকরণ:


পবিত্র রজব মাসের নাম রজব হওয়ার ব্যাপার নানারূপ মতো রয়েছে। মূলত, রজব শব্দটি ‘তারজীব’ শব্দ হতে নির্গত। তারজীব শব্দের অর্থ কোনো জিনিস তৈরি করা বা অগ্রসর হওয়া। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “মাহে রজবে মাহে শাওওয়ালের জন্য বহু পূণ্য তৈরি করা হয়।” আবার কেউ কেউ বলেন যে, এই মাসে মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা অসংখ্যবার মহান আল্লাহ পাক উনার তাসবীহ পাঠ করেন, উনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করেন। এ কারণেই এই মাসকে রজব মাস বলা হয়ে থাকে। এই মাসের প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নিজ বান্দাদেরকে তিনটি বিষয় দান করে থাকেন। যথা- ১. অনুগ্রহ ২. দান এবং ৩. বিপদে নিরাপত্তা। সুবহানাল্লাহ!
রজবুল হারাম মাস উনার আরো কতগুলো নাম রয়েছে। যেমন রজবে মুদ্বার, শাহরে মুহতার, শাহরে সাবেক, শাহরে আছাম, শাহরে আছার, শাহরুল ফারদ ও শাহরুল্লাহ ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!
রজবুল হারাম মাস উনার রজবে মুদ্বার নাম রাখার কারণ হলো, ক্ববিলায়ে মুদ্বারের লোকেরা এই মাসটিকে অনেক তা’যীম ও সম্মান করতো। এ কারণেই এই মাসটিকে রজবে মুদ্বার বলা শুরু হয়েছিলো। এভাবে উল্লিখিত নামসমূহের প্রতিটির পিছনে একেকটি কারণ রয়েছে। (গুনিয়াতুত ত্বলেবীন)
রজব মাস আগমন করলে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি জুমুয়ার দিন মিম্বর শরীফ-এ দাঁড়িয়ে এভাবে খুতবা প্রদান করতেন যে, “হে মুসলমানগণ! আপনারা জেনে রাখুন, এই মাসটি মহান আল্লাহ পাক উনার মাস। যাকাত দানের যোগ্য লোকেরা যাকাত আদায় করুন। ঋণগ্রস্তরা ঋণ পরিশোধ করুন।” কেউ কেউ বলেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার আযাব বা শাস্তি রজব মাসে অবতীর্ণ হয় না। অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উম্মতগণের উপর একমাত্র রজব মাস ছাড়া বাকি সকল মাসে শাস্তি বা আযাব অবতীর্ণ হতো। মহান আল্লাহ পাক তিনি এই মাসেই জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনাকে কিশতীতে উঠার জন্য বলেছিলেন। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনুসারীদেরকে নিয়ে উক্ত কিশতীতে ছয় মাস পর্যন্ত পানির উপরে ভাসমান ছিলেন।
হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রজব মাস মহান আল্লাহ পাক উনার মাস। মহান আল্লাহ পাক তিনি এই মাসেই হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতী পানিতে ভাসিয়েছিলেন। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তিনি এ মাসে রোযা রাখতেন এবং উনার কিশতীতে যারা উঠেছিলেন, উনাদেরকে রোযা রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপ্লাবন হতে উনাদেরকে মুক্তি দিয়ে কাফির, মুশরিকদেরকে ধ্বংস করে দুনিয়াকে পবিত্র করেছিলেন। এই সমস্ত কারণেই এই রজব মাসকে ‘শাহরে মুহতার’ বলা হয়। হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উপরোক্ত বর্ণনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জবান মুবারক নিঃসৃত পবিত্র বাণী মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (গুনিয়াতুত ত্বলিবীন)
পবিত্র রজব মাসে রোযা রাখার ফযীলত:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মুসলমানগণ! আপনারা জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে সমস্ত মাসগুলোকে হারাম বা সম্মানিত করেছেন, পবিত্র রজব মাস তার মধ্যে অন্যতম এবং এটা মহান আল্লাহ পাক উনার মাস। আর পবিত্র শা’বান মাস আমার মাস এবং রমাদ্বান মাস আমার উম্মতের মাস। রজব মাসে মুসলমান অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিশ্বাস রেখে যদি কোনো ব্যক্তি একটি রোযা রাখে, তাহলে সেই ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! দুটি রোযা রাখলে সে দ্বিগুণ নেকী লাভ করবে। তার প্রতিটি নেকীর ওজন দুনিয়ার পর্বতের তুল্য তথা বেমেছাল হবে। সুবহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি এ মাসে তিনটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই ব্যক্তি ও দোযখের মধ্যে একটি পরিখা খনন করবেন। উক্ত পরিখার প্রশস্ততা হবে এক বছরের পথের সমান। যে ব্যক্তি এ মাসে চারটি রোযা রাখবে সে দুনিয়ার যাবতীয় বিপদাপদ থেকে মুক্ত থাকবে। যে ব্যক্তি ছয়টি রোযা রাখবে, সে রোজ ক্বিয়ামতের দিন চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল মুখবিশিষ্ট হবে। যে ব্যক্তি সাতটি রোযা রাখবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জন্য দোযখের সাতটি দরজা বন্ধ করে দিবেন। যিনি আটটি রোযা রাখবেন, উনার জন্য বেহেশতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি এই মাসে নয়টি রোযা রাখবে, সে কবর হতে উঠার সময় ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ কালিমা শরীফ পাঠ করতে করতে উঠবে। আর কেউ যদি রজব মাসে দশটি রোযা রাখে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার দোযখের পুল পার হবার সময় তার জন্য প্রত্যেক ক্রোশে একটি করে বিছানা পেতে দিবেন। এই ব্যক্তি উক্ত বিছানায় শয়ন করতে করতে পুলছিরাত পার হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! (বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত গুনিয়াতুত ত্বলেবীন থেকে)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে