পবিত্র রজব মাস উনার ২৭ তারিখ পবিত্র মি’রাজ শরীফ


ইহুদী-নাছারা, মুশরিক তথা বিধর্মীরা মুসলমান উনাদের চরম শত্রু। তাই তারা সর্বদাই সচেষ্ট আছে- ছলে বলে কৌশলে মুসলমান উনাদের পবিত্র ঈমান-আমল নষ্ট করার জন্য। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার ৮২নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদীদেরকে। অতঃপর যারা মুশরিক তাদেরকে।” অর্থাৎ পবিত্র ইসলাম ও মুসলমান উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্রথমতঃ ইহুদীরা, দ্বিতীয়তঃ মুশরিকরা, আর তৃতীয়তঃ হচ্ছে নাছারারা ও অন্যান্য বিধর্মীরা। এক কথায় সকল বিধর্মীই তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান উনাদের শত্রু। তাই বর্ণিত রয়েছে- “সমস্ত কাফির মিলে এক ধর্ম।” অর্থাৎ কোনো কোনো বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান উনাদের ক্ষতিসাধনে তারা সবাই একজোট। ইহুদী-মুশরিক, হিন্দু-বৌদ্ধ, মজুসী ও নাছারা তারা সবাই মিলে সর্বদাই চেষ্টা করে থাকে- কী করে মুসলমান উনাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যায় এবং পবিত্র ঈমান আমল নষ্ট করে কাফিরে পরিণত করা যায়। নাউযুবিল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ’ উনার ১০৯নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “ইহুদী-নাছারা তথা আহলে কিতাবদের মধ্যে অনেকেই প্রতিহিংসাবশত চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফির বানিয়ে দিতে।” নাউযুবিল্লাহ!

মুসলমান উনাদের পবিত্র ঈমান-আমল ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ইহুদী, মুশরিক, নাছারা তথা বিধর্মীরা রয়েছে পরোক্ষভাবে, আর প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে, উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ীরা। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ীরা ইহুদীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলমান উনাদের পবিত্র ঈমান-আমল ধ্বংস করার লক্ষ্যে হারাম চ্যানেলসহ নানা পত্র-পত্রিকায়, বই-পুস্তকের মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। নাউযুবিল্লাহ! পাশাপাশি তারা মুসলমান উনাদের ফযীলতপূর্ণ রাত ও দিনসমূহের তারিখ নিয়েও সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে- যেন মুসলমানগণ সেই ফযীলতপূর্ণ রাত্র ও দিনসমূহে ইবাদত-বন্দেগী, দুয়া-মুনাজাতে উৎসাহিত না হয়। অর্থাৎ সেই রাত ও দিনসমূহের ফযীলত থেকে যেন মুসলমানগণ মাহরুম হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন তারা পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস আসলেই প্রচার করে- পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। নাউযুবিল্লাহ! এখন তারা প্রচার করছে- “পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। নাঊযুবিল্লাহ! পবিত্র রজব মাস উনার ২৭ তারিখ পবিত্র মি’রাজ শরীফ হয়েছে একথা সঠিক নয়।” নাঊযুবিল্লাহ!

পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ সম্পর্কিত উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের বক্তব্য মোটেও সঠিক ও দলীলভিত্তিক নয়। যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তারা দলীল পেশ করুক কোন্ কিতাবে লিখা আছে? তারা কস্মিনকালেও তা প্রমাণ করতে পারবে না।

মহাসম্মানিত পবিত্র মি’রাজ শরীফ পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার ২৭ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) রাতে হয়েছে এটাই সবচেয়ে মশহুর, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত। যেমন এ প্রসঙ্গে ‘তাফসীরে রুহুল বয়ান’ শরীফ উনার ৫ম জিল্দ ১০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “পবিত্র রাতটি ছিলো পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার ২৭ তারিখ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)।” এর উপর বিশ্বের সকল ইমাম, মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের আমল। উনারা বলেন, “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)। আনুষ্ঠানিকভাবে উনার পবিত্র নুবুওওয়াত প্রকাশ পেয়েছে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)। ইসরা ও পবিত্র মি’রাজ শরীফ হয়েছে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)। পবিত্র হিজরত মুবারক উনার উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)। পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করেছেন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)।” সুবহানাল্লাহ!

পাক ভারত উপমহাদেশে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রচার-প্রসারকারী হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘মাছাবাতা বিস সুন্নাহ’ কিতাব উনার ৭৩ পৃষ্ঠায় লিখেন, “জেনে রাখুন! নিশ্চয়ই আরব জাহানের দেশগুলোর লোকদের মধ্যে মাশহূর বা প্রসিদ্ধ ছিলো যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছিলো পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার ২৭ তারিখ রাতেই।” সুবহানাল্লাহ! এছাড়াও আরো নির্ভরযোগ্য অনেক কিতাবেই উল্লেখ আছে যে, মহাসম্মানিত মি’রাজ শরীফ পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার ২৭ তারিখ রাতে হয়েছে।

কাজেই যারা হারাম টিভিসহ নানা চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকায় ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া হলো উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের ওয়াজ শোনা, তাদের ফতওয়া মানা, তাদেরকে অনুসরণ করা হারাম আর তাদের ছোহবত থেকে দূরে থাকা ফরয। তাই এদের কোনো কথাই সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে