পবিত্র রমযান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে না কেন?


হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! মুসলমানদের জন্য রমযানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমযান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ, তাবারানী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র রমযান মাসকে মুসলমানদের জন্য সারা বছরের জন্য তাক্বওয়া, পরহেজগারী, ইবাদতের শক্তি তথা ঈমানী শক্তি, রূহানী তরক্কী ও পরকালে নাজাতের জন্য পাথেয় অর্জনের মাস হিসেবে উল্লেখিত রয়েছে। সুতরাং বছরে একবার পাওয়া এ পবিত্র মাসটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মাস।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের রাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের দেশ হওয়া সত্ত্বেও, এদেশের মোট জনসংখ্যার ৯৮ ভাগ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও পবিত্র রমযান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকে। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি বৃদ্ধ বয়সের চেয়ে যুবক-তরুণ বয়সীদের ইবাদতে বেশি সন্তুষ্ট হন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা মূলত কিশোর, যুবক, তরুণ।
বলাবাহুল্য, আমাদের দেশের শাসক মহলের অনেকেই কথায় কথায় বলে থাকেন, দেশ গঠনে আদর্শ নাগরিক গঠন করতে হবে। অনেকে বলে থাকেন, দুর্নীতি, মাদক, নারী সংঘঠিত অপরাধ কমাতে হলে দ্বীনি মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, এসব শাসকগোষ্ঠীর বক্তব্য নাটকের সংলাপ ছাড়া কিছু নয়। তারা যা বলে তা লোকদেখানো, মানুষকে খুশি করার জন্য কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেরাই সেটা চায় না।
সরকার যদি সত্যিই দেশ গঠনে আদর্শ নাগরিক চায়, দ্বীনি মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সম্পন্ন জাতি গঠন করতে চায় তাহলে অবশ্য অবশ্যই পবিত্র রমযান মাসে দেশের সরকারি, বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে